এনসিপিকে বিএনপি চারটির বেশি আসন ছাড়েনি বলেই দলটি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। জামায়াত সহযোগিতা চাওয়ায় পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত তাদের গাড়িবহর নিয়ে গেছে। এমনকি জামায়াত সহযোগিতা না চাইলেও পুলিশ একই ধরনের নিরাপত্তা দিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে লংমার্চকে কেন্দ্র করে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে একটি ঝামেলা তৈরির চেষ্টা করেছিল বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, রাতে মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হয়েছিল। এসব লাঠি পরবর্তীতে বহরের গাড়িতে তোলা হয়েছিল কি না, তা তিনি জানেন না।
রাশেদ খান আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের বহরে থাকা শীর্ষ নেতারা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন। এ সময় ‘হৈ হৈ রৈ রৈ, ছাত্রদল, যুবদল গেলি কই’—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি দেখে অনেকের মনে হয়েছে, এটি জামায়াতের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলের মাধ্যমে পরিচালিত এনসিপির লংমার্চ। জামায়াত সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে মাঝখান থেকে রাজনৈতিকভাবে খেলতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট এনসিপিকে জামায়াতের মুখপাত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না বলেও দাবি করেন রাশেদ খান। তাদের অনেকেই মনে করেন, এনসিপি ভবিষ্যতে জামায়াতের জোট ছেড়ে চলে যাবে। ফলে এনসিপিকে এতটা গুরুত্ব দেওয়া নিয়ে জামায়াতের সচেতন নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাশেদ খান তার পোস্টে আরও বলেন, ‘শোনেন, জামায়াত জোটে কারা আছে? এনসিপিকে বিএনপি চারটির বেশি আসন ছাড়েনি, এজন্য জামায়াতে গেছে। আর মাওলানা মামুনুল হক সাহেবের দলও পর্যাপ্ত আসন পেলে বিএনপিতেই থাকতো। এছাড়া বাকিরা একটি করে আসন না পেয়ে জামায়াতে গেছে।’
ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে এসব দল ও নেতারা আবার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপিতে ফিরে আসতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত যাদের ওপর ভরসা করে অর্থ ও সাংগঠনিক শক্তি ব্যয় করছে, ভবিষ্যতে তারাই দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
এনসিপির অতীতের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জামায়াতকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রবিরোধী শক্তি, ভারতের এক্সটেনশন এবং সংস্কারের নামে ভণ্ডামি করা দল হিসেবে আখ্যা দেওয়ার মতো বক্তব্যও এনসিপির পক্ষ থেকে এসেছে।
রাশেদ খান জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ভবিষ্যতে এনসিপির বিভিন্ন বক্তব্য ও অবস্থান নোট করে রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে এবং বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে—এমন জনশ্রুতি রয়েছে।
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খান বলেন, ভবিষ্যতে জামায়াতের নেতাকর্মীরাই হয়তো আফসোস করে বলবেন—‘দুধকলা দিয়ে কালসাপ পোষলাম’।