নিজস্ব প্রতিবেদক: মেহেরপুরে বিবাহবিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সাবেক স্ত্রী সানজিদা রহমান স্মৃতি এবং তাঁর বাবা-মাকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় অভিযুক্ত সায়ান মিয়ার উপযুক্ত ও কঠোর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
হামলায় সানজিদা রহমান স্মৃতির একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন তাঁর বাবা সেলিম হোসেন ও মা রেবেকা সুলতানা। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সানজিদার সহপাঠীরা।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে শিক্ষক, ছাত্রনেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সায়ান মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।
শহরের ব্যস্ততম এলাকা লর্ড মার্কেট। প্রধান সড়কের পাশেই রয়েছে সেলিম ইলেকট্রনিক্স। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সেলিম হোসেন পরিবার নিয়ে ওই ভবনের ওপরের তলায় বসবাস করেন। গত মঙ্গলবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করেন সানজিদা রহমান স্মৃতির সাবেক স্বামী সায়ান মিয়া। এ সময় হামলার ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত তিনজনকে প্রথমে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
সানজিদা রহমান স্মৃতি স্থানীয় একটি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাবা সেলিম হোসেন ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসায়ী। অন্যদিকে অভিযুক্ত সায়ান মিয়া (২৮) মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়ার বাসিন্দা এবং পেশায় ট্রাকচালক।
মানববন্ধনে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. সাইফুজ্জামান, প্রফেসর ড. আব্দুল কুদ্দুস খান, সহকারী অধ্যাপক টিপু সুলতান, সহকারী অধ্যাপক মাহাবুবা খাতুনসহ অন্যান্য শিক্ষক, ছাত্রনেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা সানজিদা রহমান স্মৃতির ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত সায়ান মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।