ঢাকা, [bangla_day], [english_date], [bangla_date]

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান আজ আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন।

আদালতের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তা প্রতিপালন না হলে অনিচ্ছাকৃত উল্লেখ করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান।

আজ মঙ্গলবার সকালে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত হন তাঁরা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

গ্রামীণ টেলিকমের ৩৮ কর্মীকে চাকরিতে পুনর্বহাল বিষয়ে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে আদালত অবমাননার আবেদন করেন গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান। এর শুনানি নিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট দুজনের প্রতি আদালত অবমাননার রুল দেন। একই সঙ্গে ১৬ মার্চ বেলা ১১টায় তাঁদের ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত হতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ অনুসারে আজ প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমান) আশরাফুল হাসান আদালতে ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত হন এবং ক্ষমা চান।

এখানে কিছু বিষয় শ্রদ্ধেয় প্রফেসর ইউনূস এর প্রতি যথাযত সম্মান প্রদর্শন কেরই উল্লখ করতে চাই।

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠার পর থেকে গ্রামীণ টেলিকম সহ মোট 52 টি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের টাকায় গঠিত হয়েছে। যার ফলে গ্রামীণ ব্যাংকে যে সব অনিয়মের জন্ম প্রফেসর ইউনূস দিয়েছে তারই ধারাবাহিকতায় গ্রামীণ টেলিকমে বর্নিত অনিয়ম করা হয়েছে। ক্ষমা চাওয়ার আর এক বিশারদ আশরাফুল হাসান গ্রামীণ ব্যাংকের এক সময় প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিল। প্রফেসর সাহেবের সাথে সেই থেকে প্রতিষ্ঠানের কর্মীকে অত্যাচার করার বিষয়ে একমত হয়ে গ্রামীণ ব্যাংকেই আশরাফুল হাসান সেই ধারা শুরু করে। যার ফলে গ্রামীণ ব্যাংকে থেকে 12 হাজার  প্রতিষ্ঠাতা কর্মীকে অসময়ে জোর করে অবসরে পাঠান হয়।  ‍গ্রামীণ ব্যাংকে যখন ওস্তাদ সাগরেতের ভাত শেষ হয়ে গেল তখন আবার গ্রামীণ টেলিকমকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা শুরু করল। যার বিস্তারিত আজ লেখার ইচ্ছা নাই। তবে ওস্তাদ সাগরেদের পুরাতন কর্মের ধারায় গ্রামীণ টেলিকমেও কর্মীদের অত্যাচার শুরু করা হয়। যার ফল আজ চুড়ান্তভাবে প্রকাশ হলো।

আজকে মূলত:গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদেরকে যেভাবে চাকরি শেষ না হতেই জোর করে বিদায় করা হযছে তার কিছু বিষয় তুলে ধরতে চাই। সেই সাথে প্রফেসর সাহেবের পেতাত্নারা আজ গ্রামীণ ব্যাংকে বসে বসে দুধের সর খাচ্ছে আর 14 হাজার অবসরকারীদের ন্যায্য পাওনা পুন:পেনশ থেকে বঞ্চিত করতে নানাহ অপকৌশল বাস্তবায়ন করছে।

গ্রামীণ ব্যাংক একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান্। সেখানে প্রফেসর সাহেব সংবিধান ও মানবতা বিরোধি 1993 বিধমালা নামে গ্রামীণ ব্যাংক চাকরি বিধিমালা তৈরী করেন। এই বিধিমালা তৈরীর উদ্দেশ্য ছিল মূলত: প্রফেসর সাহেব আজীবন গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি হিসেবে থাকবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দেশে যে এধরনের অনিয়ম করে পার পাওয়া যাবে না – তা প্রফেসর সাহেব বেমালুম ভুলে গেলেন। অবশেষে তার শিষ্য বনির্ত আশরাফুল হাসান, মো: শাজাহান, নুরজাহান বেগম, বাবুল সাহা সহ আরও অনেকের কু-পরামের্শে আদালতে যান্। কিন্তু আদালনত বড়ই কঠিন স্থান। প্রফেসর সাহেবের তৈরী 1993 বিধিমালার আলোকে তার গ্রামীণ ব্যাংকে আজীবন এমডি থাকার বৈধতার বিরুদ্ধে আদালত রায় প্রদান করলেন। প্রফেসর সাহেবকে এমডি পদ থেকে সরে দাড়াতে হলো। আদালত এও অভাজরভেশন প্রদান করলেন যে, তার তৈরী গ্রামীণ ব্যাংকের চাকরি বিধিমালা 93 সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও মানবতা বিরেধি। ন্যাটা এখানেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু প্রফেসর সাহেব গ্রামীণ ব্যাংক ও এর 52টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিয়ে অপকৌশল বাস্তবায়নে নিয়োজিত রইলেন। আর সাথে থাকলেন তার আদর্শের সাথে একমত পোষনকারী বনির্ত আশরাফুল হাসান, মো: শাজাহান, নুরজাহান বেগম,বাবুল সাহা সহ আরও অনেকে।

এবার গ্রামীণ ব্যাংকের কিছু কথা বলা প্রয়োজন। প্রফেসর সাহেব যাবার সময় তার আপকৌশলের আদর্শধারনকারি বনির্ত আশরাফুল হাসান, মো: শাজাহান, নুরজাহান বেগম, বাবুল সাহা সহ আরও অনেককে গ্রামীণ ব্যাংকে রেখে যায়। এসব শিষ্যরা সবাই জামাতি ধারার আদর্শ লালন  করে। যারফলে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে বেছে বেছে আওয়ামী পন্থীদের বের করে দেওয়া হয়। তারপরও তাদের লালসা না মিটে এসব শিষ্যদের গ্রামীণ টেলিকম সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে এমডি পদে নিয়োগ দেয়। যারা আজও সেখানে বসে বসে গ্রামীণ ব্যাংকের নতুন শিষ্যদের দিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকে নানাহ কুকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

এখানে প্রসঙ্গিক দুইটি অনিয়মের কথা তুলে ধরা হলো। গ্রামীণ ব্যাংকে রেখে যাওয়া প্রফেসর সাহেবের পুত্তলিকরা সরকারের নির্দেশকে অমান্য করে 50% এর স্থলে 100% পেনশন স্যারেন্ডার করে যাচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষার জন্য মানবতার মা, বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  ঘোষিত পুন:পেনশনের আলোকে গ্রামীণ ব্যাংকর 14 হাজার অবসরকারীদের ন্যায্য পাওনা পুন:পেনশন বন্ধ করে রেখেছে।

বর্নিত দুইটি অনিয়মের মাধ্যমে মূলত: সরকারের বিরুদ্ধে জামাতিদের দাপট দেখাচ্ছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের 14 হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী তাদের ন্যায্য পাওনা পুন:পেনশনের বিষয়ে বার বার গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান ম্যানেজমেন্ট, পফেসর সাহেবের রেখে যাওয়া  শিষ্য ও জামাতি আদর্শের ধারক বাহকদের কাছে অনুনয় বিনয় করে আসছে। কিন্তু দু:খের বিষয় – জামাতিরা সরকারে বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিরোধিতা করে পুন:পেনশন বাস্তবায়ন করছে না পাশাপাশি সরকারি নির্দেশকে অমান্য করে 50% এর স্থলে 100% পেনশন স্যারেন্ডার করে যাচ্ছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের এই 14 হাজার অবসরকারিকে প্রফেসর সাহেবের অবৈধ গ্রামীণ ব্যাংকের চাকরি বিধিমালা 93 এর সুতা দিয়ে গ্রামীণ থেকে 10 বছর বা তার সামান্য অধিক সময় চাকরি করার পর পেনশনের নামে বিদায় করেছে। আবার সেই পেনশনকেও আজ গ্রামীণ ব্যাংকের জামাতিরা অস্বীকার করে 14 হাজার অবসরকারিদের পুন:পেনশন বাস্তবায়ন করছে না।

14 হাজার অবসরকারি তাদের পুন:পেনশন পাওনার জন্য যখন একজোট হয়ে আন্দোলনে নেমেছে- তখন গ্রামীণ ব্যাংকের জামাতি ম্যানেজমেন্ট আজ নানাহ অপকৌশলে অবসরকারিদের একদিকে হয়রানি করছে অন্যদিকে অবসরকারিদের নানাহভাভে ভয়ভিতী দেখিয়ে আসছে।

অবসরকারিরা যখন তাদের ন্যায্য পাওনার জন্য রাজপথে আন্দোলনে নামে তখনই গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান জামাতি ম্যানেজমেন্ট তাদের পেটোয়া বাহিনীকে অবসরকারিদের মুখোমুখি করে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির সৃস্টি করে। এ্টা হলো গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মীদের অত্যাচারের ধারাবাহিক কর্ম। এই সাংঘর্ষিক ঘটনার পুনরাবৃ্ত্তি হলে- গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ কর্মসূচীর ধস নামবে। গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠাকারি 14 হাজার অবসরকারি আজ বৃদ্ধ বয়সে গ্রামীণ ব্যাংকের এই ধস না চাইলেও বর্তমান ম্যানেজমেন্ট তা চাইছে। যার প্রকৃষ্ট উদাহরন- 14 হাজার অবসরকারির ন্যায্য পাওনা পুন:পেনশন বন্ধ করে রাখা। গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান ম্যানেজমেন্ট গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান কর্মীদের সাথে অবসরকারিদের সংঘর্ষ বাধিয়ে দিয়ে তাদের 100% পেনশন স্যারেন্ডার করে কোটি টাকা নিয়ে বাড়ি যেয়ে বাধানো সংঘর্ষের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের ধ্বংস দেখবে।

গ্রামীণ ব্যাংকের 14 হাজার অবসরকারি আজ বৃদ্ধ বয়সে নানাহ আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত জাটিলতায় ভুগছে। তাই 14 হাজার অবসরকারি তাদের ন্যায্য পওনা পুন:পেনশনের জন্য মাঠে আন্দোলনে আছে। এই ন্যায় ও গনতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় দেশের পুলিশ প্রশাসন ও মিডিয়া নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। অবসরকারিদের আশা পুলিশ প্রশাসন ও মিডিয়া বরাবরই এরকম 14 হাজার গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারিদের আন্দোলনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে তাদের ন্যায্য পাওনা পুন:পেনশন পাওয়ার বিষয়ে সহায়তা করবে।

গ্রামীণ ব্যাংকের 14 হাজার অবসরকারি আশা করছে যে, প্রফেসর ইউনূস ও আশরাফুল হাসানের আজকের এই ঐতিহাসিক অপমান দেখে গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান ম্যানেজমেন্ট গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠাকারি, বয়োবৃদ্ধ 14 হাজার অবসরকারিদের ন্যায্য পাওনা পুন:পেনশন বাস্তবায়ন করে নিজেদেরকে বর্নিত অপমানের মত অপ্রত্যাশিত ঘটনা থেকে রেহাই দিবেন।