ঢাকা, [bangla_day], [english_date], [bangla_date]

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে হফেনহাইমকে ৩-২ গোলে হারাল ডর্টমুন্ড

দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ৩০ মিনিটে তিন গোল করে দুই গোলের ঘাটতি মুছে দিয়েছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড; ৮৭ মিনিটে আলবিয়ান হাজদারির আত্মঘাতী গোলে জয় নিশ্চিত হয়।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে হফেনহাইমকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। শনিবারের ম্যাচে একসময় ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল হফেনহাইম। কিন্তু শেষ আধঘণ্টায় তিন গোল করে ম্যাচের পুরো চিত্র বদলে দেয় ডর্টমুন্ড। ৮৭ মিনিটে আলবিয়ান হাজদারির আত্মঘাতী গোল শেষ পর্যন্ত অতিথিদের তিন পয়েন্ট এনে দেয়।

শুরুর দিকে বলের দখলে এগিয়ে ছিল ডর্টমুন্ড। তবে আক্রমণের শেষভাগে তেমন কার্যকর হতে পারছিল না তারা। ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের ছন্দ খুঁজে নেয় হফেনহাইম। আদাম হ্লোজেকের জোরালো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ডর্টমুন্ডের সেরহু গিরাসিও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু কাছের পোস্টে ভালোভাবে ঝাঁপিয়ে বল ঠেকান অলিভার বাউমান। অন্যদিকে টিম লেম্পারলের দারুণ কারিকুরির পর আদাম দাগিমের শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকান গ্রেগর কোবেল।

ফিলিপ্পো মানে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে তাঁর বদলি হিসেবে ডর্টমুন্ডের হয়ে অভিষেক হয় এথান নুয়ানেরির। তবে তখন আক্রমণে হফেনহাইমই ছিল বেশি বিপজ্জনক। ৩৩ মিনিটে ডর্টমুন্ডের রক্ষণভাগ লিওন আভদুল্লাহুকে অনেকটা জায়গা দিয়ে ফেললে দূরপাল্লার শটে বল জালে পাঠান তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে হফেনহাইম। দাগিমের চাপে জোয়ানে গাদু বল হারালে সেই সুযোগ কাজে লাগান লেম্পারলে। তাঁর শট ডর্টমুন্ডের ভালদেমার আন্তনের গায়ে লেগে দিক বদলে কোবেলকে পরাস্ত করে।

এরপর মাত্র পাঁচ মিনিটেই পাল্টে যায় ম্যাচের গতিপথ। এক ঘণ্টা পেরোনোর পর আভদুল্লাহুর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে গিরাসিকে পাস দেন আন্তন। গোলরক্ষক বাউমানকে সামনে পেয়ে ঠান্ডা মাথায় তাঁকে চিপ করে ব্যবধান কমান গিরাসি। কিছুক্ষণ পর বদলি ফাবিও সিলভা মাঠে নেমেই ম্যাচে প্রভাব ফেলেন। শেষ ডিফেন্ডারের কাঁধ ঘেঁষে ছুটে গিয়ে গিরাসির পাস ধরে ডান পোস্ট ঘেঁষে বল জালে পাঠান তিনি। মুহূর্তেই ২-২ সমতা ফেরায় ডর্টমুন্ড।

এরপর ম্যাচ পরিণত হয় দুই দলের পাল্টাপাল্টি আক্রমণের লড়াইয়ে। শেষদিকে আবারও দুর্ভাগ্য সঙ্গী হয় হফেনহাইমের। ফাবিও সিলভা ও নুয়ানেরির সমন্বয়ে নুয়ানেরি বাইলাইন থেকে ক্রস করেন। সেই বলে হাজদারির গায়ে লেগে দিক বদলে যায় এবং বল ঢুকে যায় নিজেদের জালে। ৮৭ মিনিটের সেই আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ডর্টমুন্ড।

এ নিয়ে মৌসুমের শুরুতে দ্বিতীয়বার শেষদিকে বড় ধাক্কা খেল হফেনহাইম। প্রথম ম্যাচেও কোলনের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও ম্যাচের শেষদিকে ভেঙে পড়েছিল তারা। এবারও দুই গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ৩০ মিনিটে তিন গোল হজম করে হারতে হলো ইলৎসারের দলকে। অন্যদিকে ডর্টমুন্ডের জন্য এই জয় হয়ে থাকল দুর্দান্ত মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ—দুই গোলের ঘাটতি মুছে শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল তারা।