গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহের নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে একটি প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ আদেশ দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ হওয়ার পর একই মামলায় জামিনের আবেদন করা হলে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
হরিদাস চন্দ্র তরণীর পক্ষে আইনজীবী বাসুদেব গুহ জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গত ২৪ অগাস্ট বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী ও ওবাইদুল ইসলামের নামে মামলা করেন। মামলার পর গত ২৫ অগাস্ট তদন্ত কর্মকর্তা, উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা হরিদাস চন্দ্র তরণীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আসামির উপস্থিতিতে শুনানি হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মাহবুবুর রহমান ও ওবাইদুল ইসলাম কলেজের বন্ধু। তারা উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে বসবাস করেন। ওবাইদুল তাকে জানান, সে অনয় ডেভেলপার কোম্পানির মালিক। খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় তার অফিস। মাহবুব ওবাইদুলের কাছে নিকুঞ্জ এলাকায় একটা ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে। ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ওবাইদুলকে দেন। বাসার কাজ শেষ পর্যায়ে চলে আসায় আরও ১৫ লাখ টাকা চাইলে তা দেন।
পরবর্তীতে ওবাইদুল ফ্ল্যাট না দিয়ে ঘোরাতে থাকেন। মাহবুব টাকা ফেরত চাইলে তা দেননি ওবাইদুল। পরে নিকুঞ্জ অফিসে যান মাহবুব। আলাপকালে ওবাইদুল জানান তার ব্যবসায়ীক পার্টনার হরিদাস চন্দ্র তরণী আসতেছেন। পরে হরিদাস চন্দ্র তরণী অফিসে গিয়ে তাকে জানান, তার কাছে টাকা নাই, ফ্ল্যাট আছে। ফ্ল্যাট দিতে পারবেন। হরিদাস চন্দ্র তরণীর কথায় বিশ্বাস করে মাহবুব তাকে ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও ৪৫ লাখ টাকা দেন। তারা দুই জনে সর্বমোট ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা দেয়। তবে তারা তাকে ফ্ল্যাট বুঝে দেননি।
এর আগে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম গত ১২ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর রাতেই রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়। রিমান্ড শেষে গত ১৬ জুলাই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রসঙ্গত, হরিদাস চন্দ্র তরণী গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উঁচু রাম মূর্তি বা রাম বিগ্রহ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন। পরে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসে।