কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শাসনামলে গত ১৭ বছর সংবাদমাধ্যমের হাত বাঁধা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। গত ১৭ বছরে নানা ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও চাপের মধ্যেও সংবাদমাধ্যম সরকারের অনিয়ম, নির্যাতন ও গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের বিভিন্ন তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরেছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না।
তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়; বরং সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ দেওয়া। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। কোনোভাবেই যেন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের পথে যাওয়া না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভালো কাজগুলো বিশ্বাসযোগ্যভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সংবাদমাধ্যমকে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ দিতে হবে। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সরকারের কোনো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যেন অন্যায় না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দলগতভাবে কাজ করতে হবে এবং জনগণ যে আস্থা ও ভোট দিয়েছে, তার মর্যাদা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামত করে নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সময় লাগবে। বিচার বিভাগ, রাজনীতি, সংসদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া নৈতিক অবক্ষয় কাটিয়ে উঠতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এর আগে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তথ্যমন্ত্রী। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের সম্মেলনকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখে জনগণের স্বার্থ রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান মেরামত এবং নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলায় গুরুত্ব দিতে হবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।