ঢাকা, [bangla_day], [english_date], [bangla_date]

‘রিয়াল মাদ্রিদ আমার ঘর, আজীবন মাদ্রিদের ভক্ত থাকব’: লুকা মদ্রিচ

রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে এসি মিলানে যোগ দিলেও সাবেক ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা একটুও কমেনি লুকা মদ্রিচের। ক্রোয়েশিয়ান এই তারকা জানিয়েছেন, রিয়াল মাদ্রিদ তার ঘর এবং তিনি আজীবন মাদ্রিদের ভক্ত থাকবেন। একই সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই মিলানের প্রতি তার গভীর ভালোবাসার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মদরিচ বলেন, মিলানে নিজের জীবন নিয়ে তিনি খুবই খুশি। ক্লাব ও সমর্থকদের কাছ থেকে প্রথম দিন থেকেই উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, মাদ্রিদের চেয়ে মিলান ভিন্ন হলেও শহরটিকে তিনি ভালোবেসে ফেলেছেন।

রিয়াল মাদ্রিদ প্রসঙ্গে মদ্রিচ বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ ইতিহাসের সেরা দল। মিলানও অসাধারণ একটি দল। ইউরোপিয়ান শিরোপার হিসাবে মাদ্রিদের পরই তাদের অবস্থান। দীর্ঘদিন তারা শিরোপা জিততে পারেনি, তবে তারা ঐতিহাসিক ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের একটি ক্লাব।’

মদ্রিচ জানান, ছোটবেলায় ইতালিয়ান ফুটবলের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। ক্রোয়েশিয়ার কাছাকাছি হওয়ায় ইতালির ফুটবল নিয়মিত দেখতেন তিনি। সে সময় ইতালিয়ান লিগকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী লিগ মনে করা হতো এবং মিলানই ছিল তার প্রিয় দল।

মদ্রিচ আরও বলেন, ‘মিলন ছিল আমার শৈশবের প্রিয় দল, যে দলটিকে আমি অনুসরণ করতাম। কখনো ভাবিনি আমার পথ শেষ পর্যন্ত এখানে এসে মিলবে। কিন্তু জীবন নানা চমক দেয়, আর আজ আমি এখানে।’

অবসরের সময় ঘনিয়ে এলেও ফুটবল ছাড়তে চান না

৪১ বছর বয়সে পৌঁছেও অবসর নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে চান না মদ্রিচ । তিনি বলেন, যতদিন খেলতে ভালো লাগবে এবং নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন, ততদিন মাঠে থাকতে চান।

মদ্রিচ বলেন, ‘মানুষ মনে করে একটি নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছালে অবসর নেওয়াই ভালো। কিন্তু আমি তা মনে করি না। আমি যা করি, তা ভালোবাসি। আমি সত্যিই ফুটবল ভালোবাসি এবং এটি উপভোগ করি।’

ছয় বছর বয়স থেকেই ফুটবলের সঙ্গে তার পথচলা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মদ্রিচ বলেন, এটি তার কাছে কোনো চাকরি নয়, বরং ভালোবাসার বিষয়। তবে ক্যারিয়ারের শেষ যে খুব দূরে নয়, সেটিও তিনি স্বীকার করেছেন।

রোনালদোর হাজার গোল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মদ্রিচ 

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ১ হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন মদ্রিচ। পর্তুগিজ তারকার প্রতি নিজের বিশেষ ভালোবাসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রোনালদো একজন ‘অসাধারণ খেলোয়াড়’ এবং তার এই মাইলফলক অর্জন নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

মদ্রিচ বলেন, রোনালদোর প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা, আত্মবিশ্বাস ও প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চটা দেওয়ার মানসিকতা তাকে মুগ্ধ করে। রিয়াল মাদ্রিদে একসঙ্গে অর্জন করা সাফল্যের কারণেও রোনালদোর প্রতি তার আলাদা টান রয়েছে।

তবে বিশ্বকাপে রোনালদোর পর্তুগালের কাছে ক্রোয়েশিয়ার বিদায় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মদরিচ। তার দাবি, ম্যাচটিতে ক্রোয়েশিয়াই ভালো দল ছিল, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে।

প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। মদ্রিচের মতে, ফুটবলে প্রযুক্তি উপকারী হলেও কখনো কখনো তা ভুল ও বাছাই করে ব্যবহার করা হয়। ওই ম্যাচে শুধু শেষ গোল নয়, পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়েও তার আপত্তি রয়েছে।

বেলিংহ্যামকে ভবিষ্যৎ অধিনায়ক হিসেবে দেখছেন

রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান তারকাদের মধ্যে কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহ্যামকে নিয়ে প্রশংসা করেছেন মদরিচ। তবে মিডফিল্ডার হওয়ায় বেলিংহ্যামের সঙ্গে তার সবচেয়ে বেশি মিল রয়েছে বলে জানান তিনি।

মদ্রিচেরর মতে, বেলিংহ্যাম ভবিষ্যতে রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়ক হতে পারেন। মাঠে তার নিবেদন, আনুগত্য ও কঠোর পরিশ্রম সমর্থকদের মুগ্ধ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মদ্রিচ বলেন, ‘বেলিংহ্যাম অধিনায়ক হতে পারে। বার্নাব্যুর দর্শকরা তার প্রতিভার পাশাপাশি তার পরিশ্রমকেও মূল্যায়ন করে। বিশ্বকাপে এবং এ মৌসুমের শুরুতে সে যা করেছে, তা অসাধারণ।’

অবসরের পরও রিয়ালে ফিরতে চান

রিয়াল মাদ্রিদে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পর কোনো ভূমিকায় ফিরতে চান কি না-এমন প্রশ্নের জবাবেও ইতিবাচক ছিলেন মদ্রিচ।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি সেটা হবে। রিয়াল মাদ্রিদ আমার ঘর এবং সবসময়ই থাকবে। সেখানে কাটানো সময় ছিল আমার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের সেরা সময়।’ 

তবে শুধু নিজের পরিচয়ের কারণে রিয়ালে ফিরতে চান না মদ্রিচ। কোনো দায়িত্ব পেলে সেখানে কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চান তিনি।

মদ্রিচ বলেন,‘আমি শুধু আমার নামের কারণে রিয়াল মাদ্রিদে ফিরতে চাই না। ফিরলে আমি কার্যকর হতে চাই, গুরুত্বপূর্ণ হতে চাই এবং যে কাজই করি, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাই।’ 

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দীর্ঘ সাফল্যময় অধ্যায়ের পর নতুন ঠিকানা এসি মিলান হলেও, ক্লাবটির প্রতি তার আবেগ যে অটুট সাক্ষাৎকারে সেটিই আবারও স্পষ্ট করেছেন ৪০-এর কোঠায় থাকা এই কিংবদন্তি মিডফিল্ডার।