ঢাকা, [bangla_day], [english_date], [bangla_date]

অস্ত্র ঘাটতির তথ্য ফাঁস: পেন্টাগনের ৫০ কর্মকর্তাকে ‘পলিগ্রাফ’ পরীক্ষা

ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কৌশলগত অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘাটতি দেখা দিয়েছে—এমন স্পর্শকাতর ও গোপনীয় তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে পেন্টাগন। এই তথ্য ফাঁসের উৎস খুঁজে বের করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সদর দফতর পেন্টাগনের জয়েন্ট স্টাফের অন্তত ৫০ জন সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক কর্মচারীকে পলিগ্রাফ (লাই ডিটেক্টর বা মিথ্যা শনাক্তকরণ) পরীক্ষার মুখোমুখি করা হয়েছে।

মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার মিসাইল সহ গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের মুজুদে বড় ধরনের টান পড়েছে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে পেন্টাগনের এ সংক্রান্ত কিছু গোপনীয় নথি ও তথ্য প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয় মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে।

তথ্য ফাঁসের এই ঘটনার পেছনে কোনো কর্মকর্তা যুক্ত রয়েছেন কি না, কিংবা কোনো সরকারি কর্মকর্তা বিদেশি চরের ভূমিকা পালন করছেন কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই অস্বাভাবিক ও ব্যাপকভিত্তিক পলিগ্রাফ পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে সিবিএস নিউজের সূত্রে জানানো হয়। তবে পেন্টাগনের এই পলিগ্রাফ পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা সরাসরি ব্যর্থ হননি বলে জানা গেছে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এই ধরনের পলিগ্রাফ পরীক্ষার নির্দিষ্ট তথ্যের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত স্পর্শকাতর তথ্য অননুমোদিতভাবে ফাঁস করাকে পেন্টাগন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত পরিচালনা করে।”

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এবং গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ ও তথ্য ফাঁসকারীদের ‘দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, পেন্টাগনের জয়েন্ট স্টাফের মতো শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা বিভাগের এত বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তাকে একসঙ্গে পলিগ্রাফ পরীক্ষার মুখোমুখি করার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ তথ্য ফাঁস রোধে অন্যান্য কর্মীদের সতর্কবার্তা দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।