ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দাকে রুখে দাও বাঙ্গালী তোমার দেশে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির বিষয়ে সম্প্রতি দেশের বাঘা বাঘা অর্থনীতিবিদ নিজ নিজ বুদ্ধিমত্তার ভিত্তিতে নানাহ পরামর্শ সরকারকে প্রদান করে আসছে। করোনা পরবর্তী ও ইউক্রেনের যু্দ্ধের প্রভাবের ফলে অর্থনৈতিক মন্দাকে সামাল দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে সরকারের মাধ্যমে নানাহভাবে কাজ করে চলেছে। দেশের মানুষ তার নিজ নিজ অবস্থানে থেকে নিজের পরিবারকে রক্ষা করার লক্ষ্যে নানাহ ধরনের পরিকল্পনা করে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছ। সর্বপুরি আমরা সবাই নিজের ও দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে সচেষ্ট আছি।
এরপরও দেশের মধ্যে কিছু মানুষ শ্রীলংকার অর্থনীতির উদাহরন টেনে নানাহ ভায়াবহতার ব্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দে্শের সাথে শ্রীলংকার কোন কোন বিষয় তুলনা করলে ব্যাখ্যা সঠিক হবে তার মানদন্ড না থাকলেও কিছু বিষয়কে মানদন্ড ধরে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে অধিকাংশ দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান আজও শ্রীলংকার চেয়ে অনেক অগ্রগামী।
যাক আমি নিজে বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে যেমন লেখা পাড়া করিনি আবার এ বিষয়ের উপর আন্তজার্তিক চর্চাও নাই বললেই চলে। তবে পড়া লেখা শেষে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে দীর্ঘ সময় গ্রামে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে নানাহ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে কাজ করেছি। আমার সাথে দেশের প্রায় ত্রিশ হাজার শিক্ষিত যুবক এ কাজে নিয়োজিত ছিল এবং বর্তমানে আমাদের স্থলাভিষিক্তও হয়েছে আমাদের চেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষিত যুবক। বাংলাদেশ গ্রাম নির্ভর অর্থনীতিতে চলমান ও বলিয়ান। কথাটা এভাবে বললে ভাল হয় যে, গ্রামের মানুষ ভাল থাকলে দেশ ভাল থাকবে। কারন সংখ্যাধিক মানুষ গ্রামে বাস করে।
আজকে যদি আমরা গ্রামকে দেখি তবে দেখতে পাই- কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। কৃষক ফসল ফলাচ্ছে আশাতীত পরিমান। রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ সহ তথ্য প্রযুক্তির সমাহার গ্রামকে অগ্রসর করেছে। মোট কথা গ্রাম আজ নিজের পায়ে দাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
দেশের শহর-বন্দরে অধিকাংশ মানুষের জীবন মান দেখলে-উন্নত দেশের উন্নত শহরের সাথে মিলে যায়। এসব সম্ভব হয়েছে তাদের নিজ নিজ আয়ের উপর।
গার্মেন্টস সহ নানাহ কলকারখানার শ্রমিকের বেতন বেশি না হলেও কম নয়। মানুষ বস্তিতে থাকলেও তাদের কাজের গুরুত্ব সমাজে বেড়েই চলেছে।
শিক্ষিত মানুষ তার পাকাপোক্ত পেশা ঠিক করতে না পারলেও কাজ করতে চাইলে কাজের অভাব আছে বলে মনে হয় না। সব দিক বিবেচনা করলে আজ দেশকে দেখতে আমার ও আমার মত দৃষ্টি ভঙ্গির মানুষের ভালই লাগে। তবে একটি কথা বলে রাখা দরকার এসব মানুষদের মধ্যে জীবন যাত্রার পার্থক্য খুবই দৃস্টিকটুর।
প্রকৃত বিষয়টি হলো দেশের মানুষের জীবন যাত্রার মান আজ দ্রুত উন্নত হতে চলেছে। সেক্ষেত্রে কিছু মানুষ অগ্রজ হচ্ছে আর কিছু মানুষ পিছে পড়ছে। এই পিছে পড়া মানুষদের নিয়েই সরকার ও সমাজের কাজ করার সুযোগ হয়েছে।
সম্প্রতি বিশ্ববাজারে ডলারের দাম ঝড়ের গতিতে বাড়তে শুরু করেছে আমাদের দেশেও সেখান থেকে দুরে থাকতে পারে নাই। এই ডলারের অধিক মূল্যের অনেক কারনের মধ্যে কিছু বিষয় মানুষের চোখে দৃষ্টিকটুর হয়।
দেশ থেকে বিদেশে মানুষকে যেতে হবে নানাহ উদ্দেশ্যে – যার ফলে দেশে নানাহ উন্নত প্রযুক্তি সহ নানাহ সুবিধার আমদানি হবে। তবে যে সব খাতে বিদেশ ভ্রমনের পর দেশের কোন উন্নয়ন হবে না তা এই সময় পরিহার করা জরুরী।
আমাদের চোখে এই অর্থনীতির মন্দার সময়ও কিছু মানুষের বিদেশে যাওয়ার দুর্বারপাল্লা ধরা পড়ছে। তার মধ্যে একটি শ্রেণী বিদেশে শুধুই ভ্রমনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে। কিছু মানুষ উন্নত লেখা পড়া ও সাধারন লেখা পড়ার জন্য যাচ্ছে। কিছু মানুষ বিদেশে বিনিয়োগ করছে, কিছু মানুষ বিলাসিতার জন্য কেনা কাটা করছে।দেশের চলমান প্রয়োজন ছাড়া এই মূহুর্তে যতরকম বিদেশ ভ্রমন আছে- যতরকম কেনাকাটা ও অপ্রয়োজনীয় শিক্ষা আছে- তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহারের অগ্রজ হিসেবে কাজ করছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সততা, প্রজ্ঞা ও নিরলস পরিশ্রমে দেশের সকল স্তরের মানুষের জন্য কাজ করে সফলতার চাবি দেশের মানুষের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে। দেশের প্রতিটি মানুষও তার আহবানে সাড়া দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে কাজ করে স্বার্থক হয়েছে বলেই – দেশের উন্নতি বিশ্বদরবারে প্রশংসিত।
সম্প্রতি সময়ে আমাদের হাতের মধ্যে থাকা গ্রামীণ অর্থনীতিকে যেমন সব দিক থেকে আরও শক্তিশালী করতে হবে তেমনি বিদেশে কারনে অকারেন অর্থ প্রেরন বন্ধ করতে হবে। তবেই আমরা বিশ্ব মন্দার প্রভাব হতে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ পাব।
শুধু সমালোচনার নামে সরকার ও অন্যের সমালোচনা না করে আমাদের প্রত্যেককে এই অর্থনীতির বিশ্ব মন্দায় সতর্ক থেকে নিজের অবস্থান দেশের মধ্যে যেমন মজবুত করতে হবে তেমনি বিদেশের দিক থেকে চোখ সাময়িক সময়ের জন্য হলেও ফিরে আনতে হবে।
দেশের অর্থনীতিকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে ইতিমধ্যে নানাহ ধরনের নীতি ও কৌশলের প্রচলন আছে। এসব বিষয়ের নিয়ন্ত্রনকারীদেরকে বা নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠানকে এই সময় অধিক সতর্কতার সাথে কর্ম পরিচালনা করতে হবে।
আমার ব্যক্তিগত মত হয়তোবা দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সক্ষম হবে না- তবে এ বিষয়গুলি নজরে রেখে আমরা যদি এই সংকটের সময় পথ চলি তবে অবশ্যই বিশ্ব মন্দার অর্থনীতি আমাদেরকে স্পর্শ করতে সক্ষম হবে না। সেক্ষেত্রে মন্দাকে চ্যালেঞ্জ করে আমাদরকে আগে বাড়তে হবে। বাংলাদেশের মানুষের কমস্পৃহা অর্থনীতির বিশ্বমন্দাকে চ্যালেঞ্জ করে নিজের পায়ে দাড়িয়ে থাকতে সক্ষম হবে- সেই প্রত্যাশায় রইলাম।
মো: আব্দুল হাই
সদস্য সচিব
গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত ঐক্য পরিষদ
ঢাকা, বাংলাদেশ ।