ঢাকা, সোমবার, ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশকে কেউ যেন দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শক্তি পুলিশকে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সূচনালগ্নে পুলিশের রক্তে রঞ্জিত রাজারবাগ পুলিশ লাইন-এ দাঁড়িয়ে নতুন করে শপথ নেওয়ার সময় এসেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে ঢাকাপ্রকাশ এর গুগল নিউজ চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন ।

রোববার (১০ মে) পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজারবাগে হামলার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর অংশ হিসেবে ঘুমন্ত পুলিশ সদস্যদের ওপর বর্বর হামলা চালায়। এতে শত শত পুলিশ সদস্য শহীদ হন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সব পুলিশ সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, শুধু স্মরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; যেসব পুলিশ সদস্য দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন, সেই স্বাধীনতা রক্ষা করাও সবার দায়িত্ব।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, একদিকে জিয়াউর রহমান-এর চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার পক্ষে ঘোষণা, অন্যদিকে রাজারবাগে পুলিশের প্রতিরোধ—এই দুই ঘটনাই মুক্তিযুদ্ধের গতি ত্বরান্বিত করেছিল।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগে একত্রিত করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী কৌশল ছিল, তা এখনো গবেষণার বিষয় হতে পারে।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের প্যারেড কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং তা শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও আত্মমর্যাদার প্রতীক।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের ভোটে গঠিত সরকার মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ পুলিশ-এর সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। একই সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ পুলিশের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত।