ঢাকা, শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীমান্তে কুমির ও সাপ ছাড়ার পরিকল্পনা দুই দেশের জন্য বিপজ্জনক- মোহাম্মদ খোরশেদ আলম

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের নামে সীমান্তে কুমির ও বিষধর সাপ ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। সীমান্তের যেসব অংশে কাঁটাতারের বেড়া বসানো কঠিন, বিশেষ করে নদী ও জলাভূমি অঞ্চল, সেখানে এই শিকারি প্রাণীগুলো ছেড়ে দিয়ে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকানোর সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) অভ্যন্তরীণভাবে নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী, পরিবেশবিদ এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এটা বিপজ্জনক ও অমানবিক কৌশল কিনা সে বিতর্কও উঠেছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও মিজোরাম রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত। এই সীমান্তের বড় অংশই পাহাড়ি, নদীবহুল বা জলাভূমি অঞ্চল। যেখানে প্রচলিত কাঁটাতারের বেড়া বসানো জটিল। ভারত ইতোমধ্যে প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া নির্মাণ করেছে। তবে নদী ও চরাঞ্চল সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো স্থাপন কার্যত কঠিন।

এ প্রেক্ষাপটে মার্চ মাসে বিএসএফের এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিটগুলোকে সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কুমির ও বিষধর সাপ ব্যবহার করে ‘প্রাকৃতিক প্রতিরোধ’ গড়ে তোলা যায় কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। বিষয়টি প্রথমে আঞ্চলিক একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, পরে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনায় আসে।

খোরশেদ আলম আর ও বলেন, সীমান্তে কুমির বা সাপ ছেড়ে দেওয়া বাস্তবে কোনো কার্যকর সমাধান নয়। প্রথমত, এই প্রাণীগুলো মানুষ বা জাতীয়তা চিহ্নিত করতে পারে না। তারা বাংলাদেশী বা ভারতীয় চেনে না। ফলে এটি সীমান্ত সুরক্ষার বদলে উভয় দেশের সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের জন্য সমান ঝুঁকি তৈরি করবে। দ্বিতীয়ত, নদী একটি চলমান ও উন্মুক্ত পরিবেশ এখানে প্রাণীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। তারা ভেসে যেতে পারে, অন্যত্র ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি বসতিতে ঢুকে পড়তে পারে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সতর্ক করে বলেন, সীমান্তে কুমির ছেড়ে দিলে তারা হয়তো টিকেই থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, প্রথম কথা হলো, এরা দ্রুতই মারা যাবে। বিষধর সাপের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যেকোনো প্রজাতিকে তার স্বাভাবিক বিচরণ এলাকার বাইরে নিয়ে যাওয়া পুরো বাস্তুতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। যদি এটা করা হয়, তাহলে পুরো খাদ্যশৃঙ্খল বা বাস্তুতন্ত্রে হস্তক্ষেপ হতে পারে।সব মিলিয়ে, কুমির ও সাপ ব্যবহার করে সীমান্ত ‘বেষ্টনী’ তৈরির ধারণাটি যতটা অস্বাভাবিক, ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ। এটি প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার একটি ‘সহজ’ সমাধান হিসেবে সামনে এলেও বাস্তবে বহুমাত্রিক সংকট তৈরি করতে পারে।