ঢাকা, সোমবার, ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিনেতা বিজয়ের শপথে গেলেন না স্ত্রী-সন্তানেরা

অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া থালাপতি বিজয়ের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না তার স্ত্রী ও সন্তানরা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভক্তদের অনেকের মন্তব্য, এই মুহূর্তটি তাদের কাছে ‘অপূর্ণ’ মনে হয়েছে।

তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান রবিবার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করেন।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে উৎসাহ দিতে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা এসএ চন্দ্রশেখর, মা শোভা চন্দ্রশেখর ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু, দলীয় নেতা এবং সমর্থকরা।
বিজয়ের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন থাকা অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানকেও অনুষ্ঠানে দেখা গেছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের নজর কেড়েছে বিজয়ের স্ত্রী সঙ্গীতা সোর্নালিঙ্গম এবং তাদের দুই সন্তান– জেসন সঞ্জয় ও দিব্যা সাশার অনুপস্থিতি।

বিজয়ের সঙ্গে তৃষা কৃষ্ণানের সম্পর্ক নিয়ে অনেকে আলোচনায় মেতেছেন। দীর্ঘ সময় ধরেই এ দুই অভিনয়শিল্পীর বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে উপস্থিত হওয়াকে কেন্দ্র করে প্রেমের গুঞ্জন চলে আসছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী তৃষা উপস্থিত। অন্যদিকে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তার স্ত্রী ও সন্তানদের অনুপস্থিতি অনেককেই ব্যথিত করেছে। সঙ্গীতার বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনের সেই কথাগুলো মনে পড়ছে যেখানে বলা হয়েছিল– ‘বিবাদী (বিজয়) বিদেশ ভ্রমণ এবং প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া অব্যাহত রেখে আবেদনকারী ও সন্তানদের বারবার অপমানিত করেছেন’।

অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, নতুন মুখ্যমন্ত্রী, নতুন রানী? থালপতি বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন, কিন্তু আসল গল্প তো সামনের সারিতে। স্ত্রী নেই, সন্তান নেই, অথচ মায়ের সঙ্গে তৃষা বসে আছেন? বিচ্ছেদের গুঞ্জন নাকি অনানুষ্ঠানিক স্বীকৃতি? সঙ্গীতার অনুপস্থিতি কথার চেয়েও বেশি কিছু বলছে।

আরেকজন মন্তব্য করেছেন, যেই পরিবারের আজ আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকার কথা ছিল, তারাই অনুপস্থিত। জোসেফ বিজয় যখন শপথ নিচ্ছেন, তখন তার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্ত্রী সঙ্গীতা, ছেলে জেসন সঞ্জয় ও মেয়ে দিব্যা সাশা অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।

অন্য একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, বিজয়ের স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য খুব খারাপ লাগছে, যারা এ অনুষ্ঠানের অংশ হতে পারেননি।

২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে চেঙ্গলপাট্টি ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার কোর্টে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন বিজয়ের স্ত্রী সঙ্গীতা। বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে তিনি পরকীয়া ও মানসিক যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করেন। এ মামলার পরবর্তী শুনানি ১৫ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে।

আবেদনে সঙ্গীতা জানিয়েছেন, ১৯৯৮ সালে তারা যুক্তরাজ্যে বিবাহ নিবন্ধন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে চেন্নাইয়ের রাজা মুথাইয়া মান্ড্রামে হিন্দু রীতিতে বিয়ে করেন।

তিনি দাবি করেন, তাদের দাম্পত্য জীবনের শুরুর বছরগুলো সুখী ও শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে তার অভিযোগ, ২০২১ সালে বিজয়ের সঙ্গে এক অভিনেত্রীর কথিত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পারার পর থেকেই তাদের সম্পর্কে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

সূত্র: এনডিটিভি