ঢাকা, শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় ভারতীয় পণ্য পাচারের ভিডিও করতে গিয়ে হামলার শিকার ২ সাংবাদিক; গ্রেফতার ১

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল রেলস্টেশনে ভারতীয় চোরাই পণ্য ও মাদক পাচারের দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। এ সময় তাঁদের মারধর করে মুঠোফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শশীদল রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত সাংবাদিকরা হলেন—দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধি আক্কাস আল মাহমুদ (হৃদয়) এবং কুমিল্লা প্রতিদিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম (সুমন)। তারা রাতেই ব্রাহ্মণপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে হামলাকারীদের একজন মো. কবির হোসেন (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি দক্ষিণ শশীদল গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে।থানায় দেওয়া অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামগামী ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি শশীদল স্টেশনে পৌঁছালে চোরাকারবারিরা ট্রেনে ভারতীয় অবৈধ মালামাল ও মাদক তোলা শুরু করে। এ দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে কবির হোসেন, পারুল আক্তার, রাসেলসহ ১২–১৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে সাংবাদিকরা মোটরসাইকেলে করে স্থান ত্যাগের চেষ্টা করলে স্টেশনের বাইরে তাঁদের গতি রোধ করে আবারও মারধর করা হয়। সংবাদ প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হামলাকারীরা তাঁদের মুঠোফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। আহত দুই সাংবাদিক স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শশীদল বিজিবি ক্যাম্পের মাত্র ১০০ গজ দূরে অবস্থিত রেলস্টেশনটি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় চোরাই পণ্য ও মাদক পাচার হয়ে আসছে। কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রশাসন ও পুলিশের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ পণ্য এনে ট্রেনযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে। অভিযোগ রয়েছে, ট্রেন স্টেশনে প্রবেশের সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায় এবং ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার পর আবার বিদ্যুৎ ফিরে আসে—এই অন্ধকারের সুযোগেই পাচারকারীরা মালামাল তোলে।
সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. জসীম উদ্দিন মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালালেও পাচার বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পাচারকারীদের তৎপরতা আরও বেড়েছে বলেও জানা গেছে।ভুক্তভোগী সাংবাদিক আক্কাস আল মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে তাঁরা দেখেন অবৈধ পণ্য তোলার কারণে সাধারণ যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে পারছিলেন না। ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাটি জানাতে গেলে শশীদল বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার হামলাকারীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন এবং কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শশীদল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু তাহের সরকার বলেন, চোরাকারবারিদের কারণে স্টেশনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে এবং যাত্রীদের ওঠানামায় চরম ভোগান্তি হচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন জানান, সাংবাদিকদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।