শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার।শিক্ষা ছাড়া চিকিৎসাও অচল। আরও কত যে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে বাক্য উল্লেখ করা যায়- তার সীমা নাই। তবে এসবের মূল্য করোনা মহামারীতে হারিয়ে গেছে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সচল রাখার ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেস্টার পরও প্রায় দেড় বছর যাবত শিক্ষার্থীরা পড়া-লেখা থেকে বিচ্ছিন্ন। অনলাইন, এসাইনমেন্ট সহ সরকারের নানাহ পদক্ষেপও শিক্ষার্থীকে অধ্যয়নের সাথে যুক্ত রাখতে পারে নাই – যা বাস্তবতা। এছাড়া প্রমোশন, ভর্তী, সনদ সহ অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীরা যার যার অবস্থানে স্থবির হয়ে বসে আছে। শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে যেমন দেড়টি বছর হারিয়ে যাচ্ছে তেমনি জাতিও কত বছর যে পিছিয়ে গেল তার হিসাব কাগজে বা গননায় করা যাবে না। মোট কথা শিক্ষার স্থবিরতা জাতিকে ভবিষ্যতে ভোগাবে।
বাসায় শিক্ষার্থীদের নিজেদের যেমন অস্থিরতা বৃদ্ধি করেছে তেমনি অভিভাবকদেরকে অসম্ভব পিড়ার মধ্যে রেখেছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী গেম খেলা ছাড়া অন্য কোন কাজে জড়াতে অনিহা প্রকাশ করছে। যা সামনের দিনগুলিতে শিক্ষার্থীকে শিক্ষায় মনযোগী করতে হিমশিম খেতে হবে।
যাক শিক্ষার অগ্রগতির জন্য সরকারের বিশাল বহরে রয়েছে আমলা সহ বিশেষজ্ঞ ও মন্ত্রী, এমপি। যারা শিক্ষাকে করোনা মহামারীতেও ধরে রাখার জন্য আপ্রান প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা চিন্তার বিষয় হয়ে গেছ। এক্ষেত্রে অভিভাবকগন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে শিক্ষার সাথে শিক্ষার্থীকে সংযুক্ত রাখতে কিছু সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছে।
যেহেতু প্রতিটি মাসের বেতন বাবদ অভিভাককে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ শিক্ষার্থীর পিছনে ব্যয় করতে হচ্ছে- সংগত কারনেই সেক্ষেত্রে কিছু প্রত্যাশা করাটা অপরাধ হতে পারে না। এঅবস্থায় অনলাইন বা অফলাইনে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রতিটি শিক্ষক সপ্তাহে কম পক্ষে তিনটি এসাইনমেন্ট বিনিময় করবে। যে এসাইনমেন্ট অবশ্য শিক্ষক কর্তৃক প্রস্তুত হতে হবে। শিক্ষার্থী এসাইনমেন্ট পাওয়ার পর পড়ে তা আবার হুবহু হাতে লিখে শিক্ষকের কাছে জমা দিবে। জমার ক্ষেত্রে অবশ্যই শিক্ষার্থীর হাতে লেখা এসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। যা অন লাইন বা অফ লাইনে জমা করার সুযোগ রাখতে হবে।
পরীক্ষা যথারীতি নেওয়া সম্ভব না হলেও সহনীয় পর্যায়ে বছরে কম পক্ষে 4টি পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। পরীক্ষার উত্তর পত্র শিক্ষার্থী হাতে লিখে এসাইনমেন্ট আকারে অন লাইন বা অফ লাইনে জমা দিবে।
মূলত: শিক্ষার্থীকে পড়া-লেখার সাথে সংযুক্ত রাখাই এর উদ্দেশ্য। এই পদ্ধতি ছাড়াও সরকার আরও লাগসই পদ্ধতি করোনার মহামারীতে ব্যবহার করতে পারে। তবে অবশ্যই শিক্ষার্থীকে শিক্ষার সাথে সংযুক্ত রাখতে হবে। যে সব শিক্ষার্থী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসনের প্রয়োজন অনুভব করবে- তাদেরকে সংশ্লিষ্ট আবাসনে বসবাসের সুযোগ করে দিতে হবে। অবশিষ্টরা নিজ বাসায় বসে তাদের এসাইনমেন্ট তৈরি করবে।
সনদ নির্ভর চুড়ান্ত পরীক্ষা সমূহ অবশ্য যথা সময়ে না হলেও দুই/তিন মাসের মধ্যে এসাইনমেন্টের মাধ্যমেই গ্রহন করতে হবে এবং ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।
চলমান উচ্চ শিক্ষার ভর্তী পরীক্ষা সহ সকল ভর্তী পরীক্ষা অব্যশ্যই যথারীতি নিয়ে ভর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। মেডিকালে ভর্তীর জন্য যেহেতু সমস্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে – তাই অন্যান্য উচ্চ শিক্ষার ভর্তী পরীক্ষা ঝুলিয়ে না রেখে দুই এক মাসের মধ্যে অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে।
অভিভাবকগন নিরুপায় হয়েই সরকার বহাদুর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরনাপন্ন হয়েছে। মানুষ বলে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দিকে দৃষ্টি ফিরায় তা স্বর্নতে রূপান্তিরত হয়। সেই আশায় বুক ভাসিয়ে শিক্ষার বর্তমান করুন অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্যই মূলত: অভিভাবকগন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার অধিনায়ক বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বরনাপন্ন হয়েছে।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু জয় শেখ হাসিনা