প্রতিটি দেশে তথা সারা বিশ্বে ইতিমধ্যে করোনা মহামারি মানুষের জীবন ও জীবিকাকে তছনছ করে দিয়েছে। মানুষ করোনা মাহমারির প্রকোপে দিশেহারা।করোনা এমন ধরনের মহামারি যা মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বন্ধ করে দিয়েছে। যা অন্য কোন মহমারিতে কম পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞ সহ অনেকের মতে জীবন আগে, আবার অনেকের মতে জীবিকা আগে- কারন জীবিকা ছাড়া জীবন অচল। এই বিরোধের মধ্যে আজ মানব সমাজ হুমকির মুখে পড়ে আছে। যার যার অবস্থান থেকে করোনা মহামারিকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা হলেও তার আশানুরূপ ফল লাভ করা সম্ভব হয়। যার বিভিন্ন কারন রয়েছে। এই যেমন টিকা ও চিকিৎসা দুটাই অপ্রতুল ও ব্যয়বহুল।যা সকল মানুষের পাওয়ার সুযোগ নেই। দেশে তথা বিশ্বে করোনা মহামারিকে রুখে দেওয়ার জন্য পূর্ব থেকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। তবে তিনটি বিষয় সকলের গ্রহনযোগ্য ও অনুশীলন করা সম্ভব। তাহলো (1) মাস্ক ব্যবহার করা, (2) নিরাপদ দুরুত্বে অবস্থান করা এবং (3) বার বার সাবান দিয়ে কম পক্ষে বিশ সেকেন্ড দুই হাত ধৌত করা। এই তিনটি উপায় যেমন সাশ্রয়ী তেমনি মানুষ ব্যবহার করতেও স্বাচ্ছন্দ অনুভব করে এবং এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা নাই। শুধু তাই নয় এর জন্য কারও দারস্ত হতে হবে না। সবদিক থেকে করোনা মহমারিকে রুখে দেওয়ার জন্য এই মুহুর্তে বর্নিত তিনটি পিদ্ধতিই সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত বলে সকলে মনে করছে। তবে এই তিনটি পদ্ধতি সকল মানুষ নিয়মিত ব্যবহার করতে অব্যস্থ নয়। যার ফলে উক্ত তিনটি সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী পদ্ধতিও মানুষ নিয়মিতভাবে ব্যবহার করছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে শুরু করে অনেক মানুষই এই তিনটি পদ্ধতি ব্যবহারের বাস্তবায়নের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছ। যদিও প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় এ বিষয়ে বিস্তর প্রচার-পচারনা রয়েছে। তবে ফল গ্রহনযোগন পর্যায়ে নয়।বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্নিত তিনটি পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য নিজে হাত, মুখ দিয়ে বাস্তবে দেখিয়ে দিয়ে দেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে চলেছে। কিন্তু সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও এর ব্যবহার আশাতীত করা সম্ভব হয় নাই। এক্ষেত্রে মানুষের কাছে উপস্থিত থেকে মানুষকে বুঝানো ও বাস্তবে তাকে ব্যবহার করাতে একটি বিশেষ দল তৈরি করতে হবে। যার রূপরেখা নিম্নরূপ:
1। এলাকা নির্ধারন:
পরীক্ষামূলকভাবে দেশের যে কোন এলাকাকে নির্দিষ্ট করে উপরোক্ত তিনটি বিষয় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। বিশেষ করে ঢাকার যে কোন একটি জনবসতি ছোট এলাকাকে নির্দিষ্ট করা যেতে পারে।সফল হলে উক্ত এলাকায় কাজের অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে সারা দেশে চালু করা যাবে।
2।কর্মী:
গ্রামীণ ব্যাংকের 12 হাজার কর্মী বর্তমানে অবসরে আছে। যাদের অনেকের চাকরির বয়সও আছে এবং কাজ করারও ক্ষমতা রয়েছে। যারা এ ধরনের কাজ করতেও অভ্যস্ত এবং সফল। যার উদাহরন-দেশের প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র মানুষকে গ্রামীণ ব্যাংকের উদ্যোগে – শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চারা রোপন, স্যানিটেশন সহ তাদের প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করে বাস্তবায় করা হয়েছে।অবশ্য এসব কর্মসূচী বাস্তবায়নে আমাদের বা গ্রামীণ ব্যাংকের পাশাপাশি সরকর সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও কমবেশি অবদান রেখেছে। সেক্ষেত্রে বর্নিত অবসরপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে আগ্রহীদের এই কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।
3। ফান্ড:
মূলত একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ করতে তেমন ফান্ডের প্রয়োজন নেই। এলাকার পরিধির উপর ভিত্তি করে কর্মী নিয়োগ ও সরঞ্জামাদির পরিমান নির্ভর করবে। সেক্ষেত্রে পরীক্ষামূলকভাবে ছোট এলাকা ও কম সংখ্যক কর্মী নিয়োগ দিয়ে কর্মসূচি শুরু করা যেতে পারে। প্রথমত: এ ফান্ড সরকারকেই বহন করতে হবে। সরকার রাজি হলে এর একটি দৈনিক ও মাসিক হিসাব উপস্থাপন করা হবে।
একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। বর্নিত তিনটি কর্মসূচি যারা বাস্তবায়ন করছে- তারা নিজেদের মূল কর্মের পাশাপাশি এটাকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। যার ফলে এর পুরোপুরি ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
4। কমিটি:
বাস্তবায়নকারি কর্মীদের মধ্যে থেকেই মূলত কমিটি হবে। তবে সরকারের প্রতিনিধি ও এলাকার জনপ্রতিনিধি এ কমিটিতে থাকবে। যে দপ্তর থেকে ফান্ড সরবরাহ করা হবে সরকারের সেই দপ্তরের প্রধানকে এ কমিটির সদস্য হিসেবে রাখতে হবে।
5। বাস্তবায়ন পদ্ধতি:
যে মানুষগুলো বর্নিত তিনটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে পিছিয়ে আছে তাদের সাথে পার্সন টু পার্সন যোগাযোগ করে তাদেরকে বার বার উদ্বুদ্ধ করা। পথে, বাজারে, অফিসে, প্রয়োজনে সম্ভব হলে বাসায়ও তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরহা করতে হবে। এলাকার যারা এক্ষেত্রে বেশি পিছিয়ে আছে-তাদেরকে নিয়ে মোটিভেশনাল আনুষ্ঠানিক মিটিং অর্থাৎ কর্মশালা করতে হবে। যাদেরকে মোটিভেশন করা হবে তাদের জন্য তাদের কর্মের বিপরীতে ভাতা সহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাস্ক ও সাবান সরবরাহ করতে হবে।
6। মনিটরিং:
প্রতি দিন, প্রতি সপ্তাহে এবং প্রতি মাসে মনিটরিং করে এ কর্মসূচিকে অগ্রসর করার জন্য সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হবে। যা কমিটিকে দায়িত্ব নিয়ে করতে হবে।
7। এলাকার মানুষকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুসিয়ারি প্রদান:
কর্মসূচিকে বাস্তবায়ন ও অংশগ্রহনের জন্য এলাকার মানুষকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাপে রাখতে হবে।কমিটিটির অভিযোগের ভিত্তিতে কর্মসূচিকে বাধাদান কারিদের আইনগত ভয়ভিতি দেখাতে হবে।
8। এলাকার সকল ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে প্রচারনার জন্য প্রশাসন থেকে নির্দেশ প্রদান করতে হবে। সেখানে কমিটির সদস্য উপস্থিত হয়ে তার বক্তব্য পেশ সহ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে পারবে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ সরকার থেকে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে এ সংক্রান্ত একটি পূর্নাঙ্গ প্রোজেক্ট প্রোফাইল উপস্থাপনা করা হবে। কর্মসূচিটি সকলের মতে আশু প্রয়োজন বলে মতামত প্রকাশ করেছে।সবার জন্য এবং স্বল্প ব্যয়ে ও সকলের মাধ্যমে এ কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা গেলে করোনা মহামারি অনেকাংশে লাঘব হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করে। তাতে জীবন ও জীবিকা পশাপাশি চলবে। লক-ডাউনের প্রয়োজন হবে কিনা? তা সময় বলে দিবে?