ঢাকা, সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অসহায়, বঞ্চিতদের দৌড়গোড়ায় তাদের ন্যায্য পাওনা পৌছানো:

প্রতিবেদক: মো: আব্দুল হাই।
শিক্ষক, চিকিৎসক, কৃষিবিদ, কৃষক, কামার, কুমার, মৎস্যজীবী, মৎস্যকর্মী, পশুপালন সহ সকল শ্রমজীবীদের সমাজে কাজ করতে হয়- নিজের জন্য ও সমাজের জন্য। সেক্ষেত্রে তাদেরকে সমাজ কর্মী হিসেবেই গন্য করা ভাল। এরা সবাই কোন কোন সময় শুধু পরিবারের জন্য তার পেশার অবদান রাখতে সক্ষম হয় আবার কোন কোন সময় সমাজের ছোট অংশের উপর তার অবদান রাখা সম্ভব হয়।কোন কোন সময় জাতীয়ভাবেও কারও কারও অবদান ও নেতৃত্ব দেখা যায়। সমাজ উন্নয়নের অগ্রগতি মূলত: এদের কর্মের গতির উপর নির্ভর করে। এদের কর্মের গতি আবার সমাজ ও দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, ভৌগোলিক অবস্থার উপর নির্ভর করে।
বর্ণিত সমাজকর্মীদেরকে প্রথমে নিজেকে প্রস্তুত করতে হয় তার নিজস্ব কাজের উপযুক্ত হিসেবে। যেমন তাকে লেখাপড়া করতে হয়, নিজ কর্মের উপর অভিজ্ঞতা নিতে হয, কর্মের স্থানে প্রবেশ করতে হয়। কর্মের স্থান ব্যক্তিগত হতে পারে আবার প্রাতিষ্ঠানিকও হতে পারে। এদের কর্ম শুরু হওয়ার পর তার ব্যক্তিগত মেধা, সততা, অভিজ্ঞতা, সমাজে তার কর্মের পরিবেশ, অর্থনৈতিক পরিবেশ, ধর্মীয় পরিবেশ ইত্যাদির অনুকুল পরিববেশ তাকে কাজ করতে সহায়তা করে।
স্বাধীন বাংলাদেশে বর্নিতদের কর্মের নানা প্রতিকূলতা থাকলেও বর্তমানে সেই প্রতিকূলতা থেকে অনেকখানি অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয়েছে। তারা তাদের কর্মের মাধ্যমে দেশকেও অনেকখানি এগিয়ে নিতে সমক্ষম হয়েছে। সে সক্ষমতার গতিকে ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। কারন দেশের কিছু সংখ্যক মানুষ তাদের কর্মের সুফল থেকে এখনও পুরোপুরি বঞ্চিত রয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে আবার আংশিক বঞ্চিত রয়েছে। যাহা স্বাধীনতার সুফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্থ করে। কারন দেশের স্বাধীনতার সুফল সকলের জন্য – কাউকে বাদ দিয়ে কোন মৌলিক সুবিধা দেশের মানুষ ভোগ করলে তা স্বাধীনতার সুফল বাস্তবায়ন বলে গন্য করা যায় না। কারন স্বাধীনতার আগেও কিছু মানুষ সমাজে সকল সুবিধা ভোগ করতো আর কিছু মানুষ বঞ্চিত ছিল। সমাজের সকল মানুষকে সকল মৌলিক চাহিদা প্রদানের জন্যই স্বাধীনতা। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও যদি একটি মানুষ তার মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত থাকে- তবে তার কাছে স্বাধীনতার সুফল পৌছানো সম্ভব হয়নি – যেখানে সে এখনও পরাধীন রয়ে গেছে। যা আমাদের কারও কাম্য নয়।
বাংলদেশের প্রেক্ষাপটে খাদ্য, বস্তু, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা, বিচার সহ নানাহ মৌলিক অধিকার থেকে এখনও কিছূ সংখ্যক মানুষ বঞ্চিত রয়ে গেছে। যার উদাহরন ভিক্ষুক সহ অতি নিম্ন আয়ের মানুষ এখনও বাংলাদেশে আছে। যারা খাদ্য পেতে সকল সময় হাহাকারের মধে থাকে। খাদ্যের জন্য প্রতিটি বেলায় তাদেরকে অন্যের উপর নির্ভর করতে হয়। কেহ খাদ্যের ব্যবস্থা করলে খাবার পায় নইলে তাকে উপোষ করতে হয়। তার এমন ব্যবস্থা নাই যে – তার জন্য খাদ্যের অবশ্য ব্যবস্থা সমাজের কোথাও রাখা হয়েছে। এভাবে বস্তু, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা, বিচার সহ নানাহবিধ ক্ষেত্রে দেশের কিছু সংখ্যক মানুষ সেবা পেতে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়ে গেছে। যা স্বাধীনতার সুফল বাস্তবায়নের লক্ষকে ম্লান করে দেয়।
বঞ্চিত এসব মানুষকে সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানের চেয়ে দেশের সৌখিন মানুষেরা আরও সুবিধা প্রাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ব্যস্ত রয়েছে। যার ফলে বঞ্চিতদের স্বাধীনতার 50 বছর পরেও তার ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া সমাজের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে নাই। এসব বঞ্চিতদের কাছে তাদের ন্যায্য পাওনা পৌছানোর মাধ্যমে স্বাধীনতার লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন জরুরী হয়ে পড়েছে।
যারা বঞ্চিত, তাদের পাওনা আদায় করার ক্ষেত্রেও সমাজ তাদেরকে দুর্বল করে রেখেছে।তারা তাদের পাওনার বিষয়ে ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানালে তাদের উপর সামাজিক, প্রশাসনিক সহ নানাহ অত্যাচার নেমে আসে। এতে করে তাদের দাবির জন্য তারা সোচ্চার হতেও পারে না। কারন সমাজে যাদের অর্থ বেশি তারা অর্থের জোরে মানুষ ভাড়া করে, প্রশাসনকে কিনে এদেরকে পিটিয়ে দাবিয়ে রাখে।যেখানে সমাজ, রাষ্ট্র ও বিচার তাদের পক্ষে আসতে অক্ষম হয়ে পড়ে। এভাবে বঞ্চিতদের অবস্থান অপরিবর্তনীয় রয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে সৌখিনরা তাদের সকল চাহিদার পাহাড় পরিমান ভোগে ব্যস্ত আছে। এখানেই স্বাধীনতার সুফল বাস্তবায়নের পথ আটকে গেছে।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সুবিধা ভোগ করে এসব বঞ্চিতদের তালিকা করা কঠিন নয়। তালিকা প্রস্তুত করার পর ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে তাদের সাথে সমাজের যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। যোগাযোগের মাধ্যমে তাদেরকে সমাজের সকল স্তরে উপস্থাপন করতে হবে- তাদের ন্যায্য পাওনা পাওয়ার সুবিধার্থে। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র চলমান স্থানীয় সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করে তাদেরকে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করতে হবে- দেখতে হবে- কতজন বঞ্চিত মানুষ এখনও তাদের ন্যায্য পাওনা পেল না।খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বিচারের ক্ষেত্রে কোন কোন ব্যক্তি এখনও বঞ্চিত তাদেরকে নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রকে কেন্দ্রীয়ভাবে কাজ করতে হবে। কারন স্থানীয় সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন এক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত বর্নিতেদের ন্যায্য পাওনা দিতে পারে নাই। তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহন করে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বঞ্চিতদের ক্ষেত্র ভিত্তিক তালিকা করতে পারলেই তাদের কাছে সেবা পৌছানো সহজ হবে ও তারা সেবা সঠিকভাব পাবে। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ না করে বঞ্চিতদের সঠিক তালিকা সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে থাকা আজ জরুরী হয়ে পড়েছে। তালিকা করার পর শিক্ষক, চিকিৎসক, কৃষিবিদ, কৃষক, কামার, কুমার, মৎস্যজীবী, মৎস্যকর্মী, পশুপালন সহ সকল শ্রমজীবীদের দিয়েই বঞ্চিতদের সুবিধা পৌছে দেয়া সম্ভব হবে বলে প্রতিয়মান হচ্ছে।