প্রতিবেদক- মোঃ আব্দুল হাই।
নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়ন চিরকাল সমাজে বহমান। এদের মধ্যে কেউ কাউকে পিছনে ফেলতে পেরেছে – তার প্রমান অনেকের বিশ্লেষনে মিলে না- আবার কেহ কেহ ভিন্ন মত প্রকাশ করে।ব্যক্তির অবস্থান, বিশ্বাস আর আশা-আকাঙ্খা এক্ষেত্রে তার মতপ্রকাশকে প্রভাবিত করে।তবে নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়নের পকৃত অবস্থাও আছে।
নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়নকে ব্যক্তি ও সমাজ লালন করে। যার ফলে নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়ন এর যে কোন একটি বা দুইটিকে সমাজ থেকে অপসারন দুরূহ ব্যাপার।ব্যক্তি তার নিজের স্বার্থ ও অগ্রগতির জন্য নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়ন ব্যবহার ও ভোগ করে। এখানে ব্যক্তি তার আদর্শের মাধ্যমে যা দেখে তাতে – তার গৃহীত নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়ন সবই যৌক্তিক। কিন্তু বঞ্চিত ব্যক্তির আদর্শের আলোকে – আগোয়ান ব্যক্তির গৃহীত নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়ন সবই অযৌক্তিক। ব্যক্তির আদর্শ, ভাবনা আর ভোগ মিলে তাকে যে অবস্থানে দাড় করায় তার বিপরীতে অন্যজন দাড়িয়ে তাকে বিতর্কিত করতে সচেষ্ট থাকে।ফলে নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়ন নিয়ে সংগত কারনেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
ইতিহাস স্বাক্ষী দেয় যে, সমাজরে বর্তমান অবস্থা হলো- পূর্বের এবং বর্তমান নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়নের গড় অবস্থা। সেখানে বর্তমান নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়নকে ব্যক্তির জন্য যৌক্তিক পর্যায়ে আনা সম্ভব হলেও- পূর্বের নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়ন্ এর ধারাবাহিকতার বিতর্ক রয়ে যায়। একইভাবে পূর্বে নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়ন্ যৌক্তিক পর্যায়ে ব্যক্তির ক্ষেত্রে থাকলেও বর্তমান তা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ফলে অধিকাংশ ব্যক্তি নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিতর্কিত থেকে যাচ্ছে।
বর্নিত বিতর্কের বাস্তবে সমাধান করা কঠিন কাজ। কারন মানুষতো তার অবস্থান ধারন করেছে নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়নের উপর দাড়িয়ে- কেহ হয়েছে সফল- কেহ হয়েছে বঞ্চিত। তবে এই সফল ও বঞ্চিত হওয়ার ধারাবাহিকতাটাই সমাজকে শোষক আর শোষিতের পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করে। এই প্রতিষ্টিত শোষক ও শোষিতের অবস্থানকে ভেঙ্গে নতুন সমাজ গড়াও কঠিন কাজ। যার ফলে ব্যক্তি তার নিজস্ব প্রচেষ্টায় নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়নকে ভর করে নিজের অবস্থানকে আগোয়ান করতে চায়। ফলে তার নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়ন ব্যবহার বিতর্কে পরিনত হয়। এই বিতর্কের পরিমান কোন ব্যক্তির বেশি আবার কোন ব্যক্তির কম। একইভাবে এই বিতর্কের পরিমান সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কম-বেশি হয়্। যেমন-খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, বিচার, সংস্কৃত ও আর্থিক অবস্থানের ক্ষেত্রে সমাজে নতুন করে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সকল বিতর্কের গতি চলমান থাকলেও সমাজ একেক সময় একেকটি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। উদাহরন স্বরূপ – সমসাময়িক সময়ের ধর্ষণ। সমাজে সকল সমস্যা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ধর্ষণকে নিয়ে মাতামাতি প্রমান করে- মানুষ বা সমাজ তার সকল সমস্যাকে একসাথে যেমন দেখতে চায় না –আবার একসাথে সমাধানও চায় না। তাই সমাজপতিদের বা দেশ পরিচালকদের চলমান চিহ্নিত সমস্যাকে অগ্রে সমাধান করতে হয়। যার ফলে আজ ধর্ষণের জণ্য শাস্তি মৃত্যুদন্ড করতে হচ্ছে। ধর্ষণ যারা করছে –তারা সমাজের নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়নের উপর ভর করেই করছে। ব্যক্তির উন্নয়ন তাকে ধর্ষণের মত অসামাজিক কাজে লিপ্ত হতে উতসাহিত করে। সামাজ ও দেশের চলমান আইন ও ব্যবস্থা সেটাকে প্রতিহত করতে চেষ্টা করেও অনেক সময় সফল হয় না। কারন ব্যক্তি তার উন্নয়নের মাধ্যমে এমন অবস্থানে পৌছে গেছে যে, তাকে প্রতিরোধ করা কঠিন। এক্ষেত্রে উন্নয়ন দুর্নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করে।
একইভাবে ব্যক্তির উন্নয়নের সুবাধে আর্থিক স্বচ্চলতা তাকে অন্য মানুষকে বঞ্চিত করতে অগ্রসর হয়। বঞ্চিতদের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগে উক্ত আর্থিক স্বচ্ছল ব্যক্তি সমাজের সকল বিচার, প্রশাসন ও সমাজপতিদের ক্রয় করে বঞ্চিতদের অর্থ, জমি-জমা, অন্যান্য সম্পদ সহ ইজ্জত পর্যন্ত জোর করে নিয়ে নেয়।বঞ্চিতরা হয় শোষিত- তারা আরও দুর্বল হতে থাকে।
একইভাবে – অফিস-আদালতেও যাদের হাতে প্রশাসন- তারা নিজেকে উন্নতির চরম শিখরে পৌছাতে নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়নের উপর ভর করে কিছূ অফিসিয়ালকে শোষন করে। এক্ষেত্রেও শোষন আর শোষিতের পার্থক্য হতে থাকে।
এভাবে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, বিচার সহ সমাজের সকল সুবিধা গ্রহনের ক্ষেত্রে একদল নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়নের বেড়াজালকে কাজে লাগিয়ে শোষকের ভূমিকায় থাকে আর অন্যদেরকে শোষন করে সমাজে পার্থক্য সৃষ্টি করে।
অতীত ও বর্তমানের শোষন সমাজে সৃষ্টি করে বিরাট পার্থক্য- মানুষে মানুষে হয়ে যায় দাস ও প্রভূ- শোষক ও শোষিত। যার ধারা ক্রমাগতভাবে সামনে বাড়তে থাকে। সমাজে সৃষ্টি হয় একশ্রেণীর সুবিধাভোগের আর একশ্রেণীর সুবিধা বঞ্চিতের। সমাজপতি ও দেশ পরিচালকগন তখন শোষকের পাশে দাড়িয়ে শোষিতদের নিপিড়নে কার্যক্রম পরিচালনা করে- কারন শোষকরাই সকল ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে তাদের অনুকুলে সকলকে পরিচালিত করে। এভাবে সমাজ কলুষিত হয়ে মানুষকে বিশিয়ে তুলে। মানুষ দরিদ্র থেকে ভিক্ষুকে পরিনত হয়। শোষকরা দান করতে থাকে শোষিতদের। সমাজে সৃষ্ঠি হয় ভিক্ষা গ্রহনকারি ও ভিক্ষাদানকারি।
মানুষতো সমাজে এটা চায় না। কিন্তু কিছূ মানুষের কারনে ভিক্ষুক সমাজে সৃষ্টি হয়। যারা সৃষ্টি করে তারাই ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিয়ে জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শোষকরা চায়না –ভিক্ষুক ভিক্ষা না করুক- ভিক্ষুক তার জীবন যাপনে উন্নয়ন করুক- তা শোষকরা কখনও হতে দেয় না। ভিক্ষার নানাহ প্রকারভেদ রয়েছে- সরাসরি অল্প অর্থ দিয়ে ভিক্ষা দেওয়া, কম বেতনে চাকরি দিয়ে সময়ে সময়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা- যা উন্নত ভিক্ষা দেওয়া। এভাবে শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলে এবং কৃষককেও শোষকরা ভিক্ষা দিতে থাকে –আর দরিদ্রের বেড়াজালে আটকে রাখে।
আমাদের সমাজ বড়ই রূঢ়। যার ফলে শোষক আর শোষিতের প্রভেদ যুগ যুগ ধরে চলমান।
তাই নীতি, দুর্নীতি ও উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গেলেই শোষকদের বিষয়টা সামনে এসে যায়। যার সমাধান সমাজে এখনও সম্ভব হয় নাই। সমাধান কখনও হবে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় নাই। তবে সবার প্রচেষ্টায় শোষক ও শোষিতের পার্থক্য কমিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।জীবন যাপনের নূন্যতম উপাদানগুলি সকল মানুষের দৌড় গোড়ায় পৌছানোর প্রচেষ্টা সকলের পক্ষ থেকে করা উচিত।