ঢাকা, বুধবার, ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করোনা মহামারিতে জীবিকার প্রয়োজন জীবনকে অবহেলিত করেছে।

করোনা মহামারিতে জীবিকার প্রয়োজন জীবনকে অবেহেলিত করেছে। দেশের নিম্ন আয়ের, দৈনিক আয়ের এবং অনিরাপদ কর্মের আয়ের মানুষ করোনা মাহামারিকে উপেক্ষা করেই কাজের সন্ধানে পাগল হয়ে ঘুরছে। কারন বাসায় ছেলে-মেয়ে এবং বৃদ্ধ বাবা-মা সহ পরিবারের সদস্যগন উপবাস করছে। দেশের সরকার নানাভাবে মানুষকে খাদ্যের সরবরাহ সহ আর্থিক সাহায্য প্রদান করে আসছে। এরপরও কিছু নিম্ন আয়ের মানুষ এসব সুবিধার বাইরে থেকে যাচ্ছে। যারা নিরুপায় হয়েই আয়ের জন্য কর্মের সন্ধানে  পথে পথে ঘুরছে। এসব মানুষের পরিসংখ্যান সঠিকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব না হলেও – যারা এ ধরনের সমস্যায় আছে, তাদের প্রত্যেককে এখনই সহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন।

রাজধানি শহরে এর প্রকট বেশি। কারন কাজ না থাকায় একদিকে যেমন খাবার সমস্যা হয় তেমনি বাসা ভাড়ার সমস্যাটাও আরও বেশি প্রকট হয়ে যায়- এসব দরিদ্র মানুষদের। যার ফলে তাদের জীবন যাপন দুরুহ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলাপমেন্ট ষ্টাডিজ (বিআইডিএস) এর জরিপে বাংলাদেশে ইতিমধ্যে করোনা মাহামারিতে 13% মানুষ কর্মহারা হয়ে পড়েছে।

 

প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া সহ সকল মিডিয়াতেই সরকারি সহ নানা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সহায়তার কথা প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু কোথা থেকে এবং কিভাবে যোগাযোগ করে বর্নিত সহায়তা পাওয়া যাবে তার কোন দিকনির্দেশনা প্রচার করা হয় না। যার ফলে ভুক্তভুগিরা শুধু শুনেই যাচ্ছে- সেবা গ্রহনের জন্য সঠিক পথ পাচ্ছে না।

প্রসংগত একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন বলে মনে করছি। ফেসবুকে দেখলাম এবারের লকডাউনের প্রথমে নাফিসা নামে একজন মেয়ে সিনজিতে পোস্টার লাগিয়ে প্রচার করলো- সাহায্যের কথা। আমিও ফেসবুক বন্ধুদের শেয়ার করে জানিয়ে দিলাম। অনেকে বর্নিত মহিলার প্রশংসাও করেছে। জানিনা সে এখনো সহায্যের হাত অব্যাহত রেখেছি কিনা? বা কোথায় কোথায় সাহায্য করেছে? কারন তার বর্নিত স্ট্যাটাসের পরে তার আর কোন স্ট্যাটাস পাওয়া যায়নি। তার দেওয়া একটি মাত্র মোবাইল নম্বরে বারবার যোগাযোগ করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এতে করে সাহায্য নেওয়ার মত মানুষ তার সাথে যোগাযোগে ব্যর্থ হচ্ছে। আমি নিজেও তার একটি সাক্ষাতকার নিতে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে অনুরোধ করি এবং বারংবার তার দেওয়া মোবাইলে ফোন করে পাই নাই।

এভাবে অশিক্ষিত, সহজ সরল অভাবি মানুষগুলো বুঝতে পারছে না সহায্যের জন্য কিভাবে কার সাথে যোগযোগ করলে পাওয়া যাবে। মূলত: সাহায্য প্রদানকারিকে অবশ্যই দেশের এসব দরিদ্র মানুষের শিক্ষার কথা মাথায় রেখে সাহায্য পাওয়ার পদ্ধতি সহজ করে বর্ননা করতে হবে। সাহায্য পাওয়ার বর্ননা যেমন সহজ করতে হবে তেমনি সাহায্য পাওয়ার পদ্ধতিও আরও সহজ করতে হবে। কারন তার ঘরে খাবার নাই বলেই সে আজ সাহায্যের জন্য বেরিয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে কাজ করার সুযোগ থাকলে এদের অধিকাংশ মানুষ কাজ করেই দিনাতিপাত করে। কাজের সন্ধানে হাজারও চেষ্টা করেও করোনার লকডাউনে যখন নি:স্ব হয়ে পড়ে তখইন এসব মানুষ সাহায্যের জন্য দৌড়াতে থাকে। কিন্তু হায়রে সাহায্য- কোথায় কিভাবে পাওয়া যাবে তার অবস্থান তাদের জানা নেই। তা্ই এসব মানুষ তার আবেগ প্রকাশ করে বলেছে- করোনার কারনে এধরনের অভাবের চেয়ে করোনায় মৃত্যুই ভাল।

দেশের মানুষের একটি অংশ যখন করোনার ভয়ে বাসা থেকে বের হচ্ছে না – তখন এসব নিম্ন আয়ের মানুষ জীবনকে অবহেলা করে কর্মের জন্য রাস্তায়। কিন্তু রাস্তাতো কর্মের অনুকুল পরিবেশ রাখতে পারে নাই করোনা মাহমারিতে। যার ফলে এসব দরিদ্র মানুষের বুকফাটা চাপা কান্নায় ধরণিও কাদছে।

দেশের চলমান কর্মের অনুকুল পরিবেশ এসব মানুষকে কাজ করেই বেচে থাকার সুযোগ করে দিয়েছিল। যার সুবাধে এরা সেই পথেই ছিল। কারও কাছে সাহয্যের জন্য সময় ব্যয় না করে কাজের মাধ্যমেই জীবন যাপনে স্বাচ্ছন্দবোধ করে আসছিল। কিন্তু করোনা মাহামারির উচু-নিচু ঢেউ এদের জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কর্মের সুযোগ করে দিলেই এসব মানুষ তাদের পরিবার পরিজন নিয় বেচে থাকার পথ খুজে পেয়ে যাবে।