বাংলাদেশের বয়সের সাথে উন্নয়নের গতিধারাকে বিশ্লেষন করলে আমরা তৃপ্তির ঢেকুর তুলতেই পারি। বিশ্বে যে সব দেশের নাম উন্নত রাষ্ট্রের তালিকায় রয়েছে- তাদের অনেক দেশের উন্নয়নের গতি আমাদের বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ছিল না। তবে প্র্রতিটি জাতির উন্নয়নের ইতিহাসে রয়েছে সঠিক নেতৃত্ব, ব্যক্তির কঠোর পরিশ্রম, সমাজে শৃংখলা আর দেশপ্রেম। বাঙালীর ভাষা আন্দোলন আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দেখে বিশ্বের সবাই এক বাক্যে বাঙালীর দেশপ্রেম, নেতৃত্ব, ত্যাগ আর সাহসের তারিফ করতে পিছু পা হয় নাই। তবে সবক্ষেত্রেই যে বাঙালী আজও সঠিক পথে ঘুরছে তার নিশ্চয়তা পাওয়া যায়না। বাঙালীর যেসব বিষয় নিয়ে গৌরবের ইতিহাস রচিত হয়েছে তার ফলও কম-বেশি মানুষ পাচ্ছে। ভাষা, স্বাধীনতা সহ নানাহ দিক বাঙালীকে আজ বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্টিত করেছে। অর্থনীতির অগ্রগতি হলেও স্বল্প সংখ্যক বাঙালীর অধিক প্রাপ্যের লালসাকে বাঙালী জাতিকে অর্থনৈতিক অবস্থান থেকে দুটি ভাগে ভাগ করেছে। একটি অংশে রয়েছে বঞ্তিকারী আর তার অপরপারে রয়েছে বঞ্চিতদের দল। যার ফলে বাঙালীর অর্থনীতিকে যেমন নিজেদের মধ্যে সার্বজনীনভাবে পুরোপুরি কল্যানকর করতে পারে নাই, তেমনি বিশ্বে বাঙালীর অর্থনীতির প্রশংসা অর্জন করতে পারে নাই। একটি উদাহরন দিতেই হয়- মাথা পিছু আয়ের দিক থেকে দেখা যায়, বেগম পাড়ার বাড়ির মালিকের আয় আর মসজিদের সামনে হাত পাতা মানুষের একই দেখানো হচ্ছে্। মাথা পিছু আয় সমান দেখানো গেলেও উভয়ের জীবন যাত্রার মানের বিশাল তফাতকে কমিয়ে দেখানোর সুযোগ নেই। বাঙালীর ইতিহাস এইখানেই কলংকিত।
দেশের অনেক মানুষই দেশের উন্নয়নের সারথি হয়েছে, হচ্ছে এবং হওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু বেগম পাড়ার বাড়ির মালিকের সাথে মসজিদের সামনে হাত পাতা মানুষের তফাত কমাতে কারও লেশমাত্র চিন্তা মাথায় আছে বলে প্রমান নেই।তবে বাঙালী সমাজে একটি বিষয় এক্ষেত্রে ভাল- মসজিদের সামনে হাতপাতাদের হাতে কম-বেশি দান করার বিষয়টিকে অগ্রাহ্য করা যাবে না। তবে হাতপাতাদেরকে সামান্য দান করা ছাড়া বাঙালী আবার বেশি কিছু করতেও নারাজ। সে বিষয়ে অনেক ভেবেছি সুরাহা পাই নাই। অনেকের সাথে আলাপ করেছি- তাতে বেশির ভাগ মানুষের ভাষ্য – হাতপাতা তাদের ব্যবসা, অনেকে বিষয়টিকে আলাপের বিষয় হিসেবে নিতে অপছন্দ করে, অনেকে ভাগ্যের দোষারোপ করে, অনেকে তার প্রচেষ্টার দোষারোপ করে। তবে কাউকেই এই সমস্যা চিরতরে ভাসিয়ে দিতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলতে শুনলাম না। আমি সমাজকে সামনে দেখি- তাই সব কিছু সমাজের দর্পন থেকে আলোকপাত করতে চাই।
আমরা হয়তো হাতপাতা মানুষদের সমস্যা সমাধান করতে পারব বা পারব না। তাই বলে চেষ্টার ত্রুটির অভাবকে বাঙালীর ইতিহাসকে বড়ই ব্যথিত করে। সমাজের যতই উন্নতি হোক না কেন – অপরের নিকট হাতপাতা মানুষদের উন্নয়ন করা না গেলে বা এসমস্যার সমাধান করা না গেরে- নিজের সুন্দর শরীরের একটি ক্ষতের মত- হাতপাতার মানুষগুলো বাঙালী সমাজের বেদনার বিষয় হয়ে থাকবে।
অপরের নিকট হাত পাতা মানুষদের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আমার চাইতে কারও মাথায় কম বুদ্ধি আছে তা আমি মনে করি না। তবে তার বাস্তবায়ন যে এখনো হয়নি তার প্রমান দেখাই যাচ্ছে।
বাঙালী সমাজের এই ক্ষতকে দুর করতে পারলে হয়তো বিশ্ব বাঙালী সমাজকে আরও একধাপ সামনে নিয়ে মূল্যায়ন করবে। তখন হয়তো বাঙালী সমাজের অনেক সমস্যাই বিশ্ব বলতে সাহস পাবে না।
ভাষা ও স্বাধীনতা যেমন বাঙালীর অনেক দোষকে লুকিয়ে রাখতে শক্তি যোগায় তেমনি হাতাপাতা মানুষদেরকে তাদের সামাজিক অবস্থান থেকে সামান্য উপরে এনে মানবিক সুযোগ পাওয়াটাকে নিশ্চিত করতে পারলে বাঙালী বিশ্বে জোর গলায় নানাহ বুলি আওড়াতে সক্ষম হবে। তখন আর কথায় কথায় বিশ্ববাসি বাঙালীর গনতন্ত্র, ভোট আর অধিকারের বিষয়ে কটাক্ষ করতে পারবে না। উদাহরন হয়ে থাকা সৈদি আরব সহ বেশ কয়েকটি দেশের কথা উল্লেখ করতেই হয়। তাদের সমাজে নানাহ মানুষ নানাহ বিলাসিতা ভোগ করলেও, রাজতন্ত্র থাকলেও হাতপাতা মানুষদের বিষয়ে তারা সচেতন। তাই পশ্চিমারা হয়তোবা রাজতন্ত্রের সমালোচনা না করে বাঙালীর গনতন্ত্রের দিকে বেশি নজর দেয়। আর পশ্চিমাদের এই গনতন্ত্রের তথা কথিত আওয়াজের সাথে যারা সুর মিলায় তদের অনেকের বাড়ি বেগম পাড়ায়, অনেক বেগম পাড়ায় যাওয়ার জন্য প্রস্ততি নিচ্ছে।কিন্তু দেশের হাতা পাতা মানুষদের জন্য তাদের কোন মথা ব্যাথা নাই। তবে মাথা ব্যাথার কথা একেবারে যে তারা বাদ দিয়েছে তা নয়- কারন তারাইতো দু’টাকা বা এক টাকা করে দিয়ে হাতপাতা মানুষদের সহায়তা করে। তবে তারা যে হাতপাতা মানুষদের সমাজের অন্যান্য সুবিধা দিতে চায় না তার প্রমান অনেক। একটি সাম্প্রতিক প্রমান উল্লেখ করতেই হয়। সরকার সবাইকে বিনামূল্যে ভেক্সিন দিয়েছে। অনেকে ইতিমধ্যে তিন তিনবার অর্থাৎ বুস্টার ডোজ নিয়েছে। কিন্তু, আইডি কার্ড সহ নানাহ তথা কথিত কৈফিয়ত হাজির করে হাতপাতা মানুষদেরকে একবার টিকা নেওয়ার অধিকারকেও করা হয়েছে বঞ্চিত। যা বাঙালী ইতিহাসের ক্ষত হিসেবেই রয়ে যাবে।