ঢাকা, সোমবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
কর্ম করেই করোনা মোকাবেলা করতে হবে।

করোনা মহামারির সময় ঢাকা শহরের অনিশ্চিত আয়ের মানুষের জন্য সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন কাজে দৈনিক ভিত্তিতে মজুরির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা:

বাংলাদেশে প্রায় 1260 জন মানুষ বাস করে প্রতি বর্গ কিলোমিটার এরিয়াতে। কিন্তু প্রতি বর্গ কিলোমিটারে 47,400 জন মানুষ বাস করে ঢাকা শহরে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে প্রায় 37.62 গুন বেশি মানুষ  ঢাকা শহরে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বাস করে।এই গানিতিক হিসাব প্রকৃতপক্ষেই আশংকাজনক। কারন এত বেশি মানুষের বসবাসের এলাকায় খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, সামাজিক নিরাপত্তা সহ মানুষের অন্যান্য মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা খুবই কঠিন কাজ।

প্রতি বর্গকিলোমিটারে 47,400 জন মানুষের ঘনত্ব সহকারে ঢাকা টানা তৃতীয় বছরের মত পৃথিবীর সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ শহর হিসাবে অবস্থান করছে। সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্য সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকেরা ঢাকাতে প্রবেশ করায় ঢাকা শহরের জনসংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে।প্রতিদিন দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে প্রায় 2,000 মানুষ বসবাসের জন্য ঢাকায় আগমন করছে। সে তুলনায় ঢাকা শহরের এরিয়া বৃদ্ধির পরিমান খবুই নগন্য।

ঢাকা শহরের প্রায় 15% মানুষ বস্তিতে বাস করে। বস্তির এই মানুষদের জীবন-যাপন অমানিবিক। এছাড়া  বস্তিতে বসবাসকারিদের চেয়ে যারা উন্নত জীবন-যাপন করে তাদের মধ্যে আবার তিনটি শ্রেণী রয়েছে। তার মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ অনিশ্চিত আয়ের উপর নির্ভরশীল। খুবই সামান্য সংখ্যক মানুষ তাদের আয়ের পথ সুনিশ্চিত। তাছাড়া ঢাকার মানুষের মধ্যে সামান্য কিছু অংশের মানুষের জীবন-যাপন পৃথিবীর উন্নত দেশের মানুষের জীবন-যাপনের মানকেও ছাড়িয়ে গেছে।যাদের আয় ও সম্পদ তাদেরকে মহাসুখে রেখেছে।যদিও এটা সমাজের একটি ক্ষত।

এসব বিভিন্ন জীবন-যাত্রার মানের মানুষদের আয়, খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার সুবিধাও বিভিন্ন। কারন আয়ের উপর নির্ভর করে বর্নিত সুবিধা।

বর্তমান করোনা মাহামারির সময় এসব মানুষদের করোনার চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও বিস্তর-বিস্তর তফাৎ পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে করোনার চিকিৎসা অপ্রতুল থাকার কারনে এক্ষেত্রে মানুষের প্রত্যাশাও কম। মানুষের ঘনত্বের আধিক্যতার কারনে করোনাকে মোকাবেলা করার জন্য ঢাকাকে একটি বিশেষ ব্যবস্থার মধ্যে আনতে হবে। কারন ঢাকা শহরের মানুষের আয় ও করোনা মোকাবেলা দু’টোই আজ সমান সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। কারন করোনা মোকাবেকলা করতে যেয়ে ঢাকা শহরের অধিকাংশ মানুষের আয় কমেছে বা কারও কারও আয় বন্ধ হয়েছে।সেক্ষেত্রে আয়ের পথকে সুগম রেখেই ঢাকা শহরে করোনা মোকাবেলা করতে হবে।

সেক্ষেত্রে গার্মেন্টস যেমন বড় ধরনের ভূমিকা পালন করছে। এভাবে সকল সেক্টরে মানুষের আয়ের পথকে সুগম রেখেই করোনাকে মোকাবেলা করতে হবে। ঢাকা শহরের উন্নয়ন কাজ বৃদ্ধি করলে শ্রমজীবী মানুষের আয়ের পথ সুগম হবে। শ্রমজীবী মানুষের আয়ের পথ সুগম হলে একেবারে নিম্ন পর্যায়ের ব্যবসার প্রসার লাভ করবে এবং এর সাথে জড়িতেদের আয়ের পথও কিছুটা গতিতে থাকবে। এছাড়া ঢাকা শহরের অনিশ্চিত আয়ের বড় অংশের মানুষ করোনার সময় পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতে হিমশিম খাচ্ছে। অনিশ্চিত আয়ের মানুষের মধ্যে রয়েছে- বেসরকারি চাকরিজীবীর একটা বড় অংশ। যারা ছোট-বড় কোম্পানীতে চাকরি করে, আবার কেহ একেবারে ছোট ব্যবসায় সেবা প্রদান করে, আবার কেহ নিজে ব্যক্তিগতভাবে প্রযুক্তি ও তথ্য ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত।এই সর্বশেষ অংশে বর্নিতরা আজ যেমন নিজেরা নিজেদের কাছে বোঝা হয়েছে তেমনি ঢাকা শহরের জন্যও বড় বোঝা হয়েছে। তবে এসব কর্মজীবী ছাড়া ঢাকা শহর অচল। তাই এদের কর্ম ঠিক রাখার জন্য সরকার সহ দেশের সকল পর্যায়ের নেতৃস্থানীয়দের এগিয়ে আসতে হবে। এসব মানুষের কাজের ব্যবস্থা করতে হবে বা তাদের স্ব-স্ব কর্মকে চালু রাখতে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। যে সব ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে তার মধ্যে অন্যতম হলো- এসব মানুষের জন্য সাময়িকভাবে সিটি কর্পোরেশনের অধীনে নানা ধরনের কাজের ব্যবস্থা করা। যার যে যোগ্যতা আছে তাকে সেই কাজে লাগানো। যার বিনিময়ে তাকে মজুরি স্বরূপ দৈনিক ভিত্তিতে অর্থ প্রদান করা। ঢাকা শহরের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পকে দ্রুত বাস্তবায়ন করলেই এসব মানুষের কাজের ব্যবস্থা করা সম্ভব। করোনা মহামারির সময় শুধু এই ব্যবস্থা। করোনা মহামারির অবসান হলেই এসব মানুষ নিজেই তার নিজ নিজ কর্মে ফিরে যাবে। এতে করে করোনা মহামারির সময় সময় সরকারকে দান-ক্ষয়রাত করার জন্য বিরাট সময় ব্যয় করতে হবে না। দান-ক্ষয়রাতের সময় চাটার দলকেও আর নিয়ন্ত্রন রাখার জন্য সরকারের বড় ব্যয় করতে হবে না। তবে এসব মানুষদের কাজ সৃষ্টির জন্য ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সেবাদানকারি বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।যাতে করে এদের কাজের মাধ্যমে সেবার মান উন্নত করা যায়।তার একটি পরিকল্পনাও গ্রহন করতে হবে।

সর্বশেষে বলতে চাই- করোনা মহামারির সময় করোনা মোকাবেলার পাশাপাশি মানুষের আয়ের পথকে সুগম রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

এতে করে অর্থ প্রবাহ ঢাকা শহরে অব্যাহত থাকবে, সকলের কাছেই অর্থ চলাচল করবে। অর্থনীতির চাকাও ঘুরতে থাকবে। এ বিষয়টিকে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে এর ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহন করে ঢাকা শহরের উন্নয় যথা সময়ে সম্পন্ন করা যাবে। পাশাপাশি অনিশ্চিত আয়ের মানুষের আয়ের পথকে সুগম রাখা যাবে- সময়ের ব্যবধানে ও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে।