ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কর অঞ্চল রংপুর এর কর্মকর্তাদের সাথে রংপুর চেম্বার পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তা ও পরিচালকবৃন্দের মত বিনিময় সভা

কর অঞ্চল রংপুর এর কর্মকর্তাদের সাথে রংপুর চেম্বার পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তা ও পরিচালকবৃন্দের এক মত বিনিময় সভা রংপুর চেম্বারের বোর্ড রুমে অনুষ্ঠিত হয়। রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটুর সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর অঞ্চল রংপুর এর কর কমিশনার আবু হান্নান দেলওয়ার হোসেন।
মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোজতোবা হোসেন রিপন, অতিরিক্ত কর কমিশনার মোঃ মঞ্জুর আলম, রংপুর চেম্বারের পরিচালকবৃন্দের মধ্যে মোঃ রিয়াজ শহিদ শোভন, মোঃ আকবর আলী, মোঃ আজিজুল ইসলাম মিন্টু, মোঃ আশরাফুল আলম আল আমিন, পার্থ বোস, মোঃ শাহজাহান বাবু, মোঃ জুলফিকার আজিজ খান, খেমচাঁদ সোমানী রবি।
মত বিনিময় সভায় চেম্বারের কর্মকর্তা ও পরিচালকবৃন্দ বলেন, কৃষিভিত্তিক রংপুর অঞ্চল দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এখনো অনগ্রসর। গ্যাসের অভাব, বিদ্যুতের স্বল্পতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার অসুবিধার কারনে এ অঞ্চলে আজ পর্যন্ত বৃহৎ কোন শিল্প কারখানা গড়ে ওঠেনি। যার ফলে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের মাথাপিছু আয় ও জীবনমানও বাড়েনি। বরং সবচেয়ে গরিব ১০টি জেলার পাঁচটি রংপুর বিভাগে। ব্যবসায়ীরা সরকারের ঊর্ধ্বে নয়, ব্যবসায়ীরা সাধ্যমত আয়কর প্রদানে আগ্রহী। তাই চেম্বার নেতৃবৃন্দ কর কর্মকর্তাদেরকে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বৈশি^ক করোনাকালীন সময়ে ব্যবসায়ীদের ওপর অহেতুক করের বোঝা না চাপিয়ে যৌক্তিক হিসেবে হয়রানিমুক্ত পরিবেশে আয়কর আহরণের আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির ব্যক্তব্যে কর অঞ্চল রংপুর এর কর কমিশনার আবু হান্নান দেলওয়ার হোসেন ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সকলকে আয়করের রাজস্ব প্রদানের ব্যাপারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি করনেট সম্প্রসারণের মাধ্যমে কাঙ্খিত আয়কর রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবসায়ী সংগঠন হিসেবে রংপুর চেম্বারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সকল অংশীজনের সাথে সৌহার্দ্য ও সুসম্পর্ক বজায় রেখে আমরা রংপুর জেলার আয়করের রাজস্ব আহরণ করতে চাই। তিনি বলেন, নতুন অর্থ আইন মোতাবেক ২০২০-২০২১ কর বর্ষে নিবন্ধনকৃত সকল টিআইএনধারীকে আয়কর রিটার্ন দাখিলে বাধ্য করার পাশাপাশি কর নেটের বাইরে যারা রয়েছে তাদের সনাক্ত করতে শিগগিরই জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তাই তিনি এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন হিসেবে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে রংপুর চেম্বারকে সহায়ক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু বলেন, শুধু নতুন নতুন আইন চালু করলেই হবে না, সেটি জনবান্ধব হতে হবে। তিনি বৈশি^ক করোনাকালীন সময়ের কথা বিবেচনা করে আয়কর কর্মকর্তাদেরকে সহনীয় ও বন্ধুসুলভ আচরণের মাধ্যমে রংপুরের ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে সহনীয় পর্যায়ে আয়করের রাজস্ব আদায়ের আহ্বান জানান। পরিশেষে তিনি দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ব্যবসায়ীদেরকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বেচ্ছায় স্বপ্রণোদিত হয়ে আয়করের রাজস্ব প্রদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মত বিনিময় সভায় কর অঞ্চল রংপুরের কর্মকর্তাদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, কর অঞ্চল রংপুরের উপ-কর কমিশনার মোঃ সুমন কুমার বর্মন, কর পরিদর্শক মোঃ মহিদুল ইসলাম ও মোঃ মাহমুদার রহমান।