ঢাকা, সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিন দিন রাজনীতির ভাষা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে: ওবায়দুর রহমান মৃধা

বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব ওবায়দুর রহমান মৃধা গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন – সাম্প্রতিককালে আমার লক্ষ্য করছি যে, রাজনীতিবিদদের ভাষার ব্যবহার দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। যা জাতির জন্য শুভকর কিছু নয়। যেখানে ভাষা দুর্বল হয়ে যায় সেখানে পেশিশক্তি প্রবাল হতে থাকে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে পেশিশক্তির প্রয়োগ আজ দৃশ্যমান। কেউ যখন শৈল্পিক ভাষার রাজনীতি চর্চা করেন তখনই তাঁকে বা তাঁদেরকে দুর্বল ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু আমরা যদি পৃথিবীর ইতিহাস তথা সফল মানুষের জীবনী লক্ষ্য করি, তাহলে উপলব্ধি করতে পারি তাঁদের ভাষা এবং নীতির প্রতি দৃঢ় অবস্থানের কারণেই আজকের সভ্য অগ্রসরমান আধুনিক পৃথিবী আমরা পেয়েছি।

সবচেয়ে চিন্তার বিষয় – তরুণ রাজনীতিকদের মধ্যে অযথা উচ্চ কণ্ঠে কথা বলার প্রবণতা উদ্বেগজনক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা যখন কথা বলেন , মনে হয় বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব সব ধরনের নীতি-নৈতিকতা বর্জন করে রাজনীতি করছেন । ফলে তরুণ রাজনৈতিক প্রজন্ম যখন কথা বলেন তখন কথার বলার সাথে সাথে হাত-পাও ছুঁড়তে থাকেন। মনে হয়, তারা যা বলছেন সাধারণ জনগণ সেটা বুঝতে পারছে না। তাদের শারীরিক ভাষা এখানে প্রাধান্য পাচ্ছে। যা চিন্তাশীল মানুষের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয়।

বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত ডা. বি. চৌধুরী সবসময় ভাষার ব্যবহার তথা রাজনীতিতে বিনয়ভাব ধারাবাহিকভাবে মেনে চলতেন। তিনি রাজনীতিতে দূরদৃষ্টির উপর সবসময় গুরুত্ব আরোপ করতেন।

কোন সন্দেহ নেই যে, রাজনীতিতে কৌশল গ্রহণ করতেই হয়। অন্যের সমালোচনা করে তাদের ভুল-ত্রুটি জনগণের কাছে তুলে ধরতে হয়। সেজন্য ভাষার ব্যবহার হতে হয় মার্জিত। ভাষা এমন এক মৌলিক শিল্প যার বিকল্প শুধুই ভাষা। মানুষের মনে জায়গা করে নিতে ভাষায় পারে সঠিক পথ দেখাতে। বিপন্ন পরিস্থিতিতে হয়তো মানুষ ভাষার কথা আমলে আনতে পারে না। কিন্তু যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে তখন মানুষ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে শুরু করে। সুতরাং মানুষকে বোকা বানানোর জন্য কটুবাক্য ব্যবহার করে প্রভাবিত করা যায় না দীর্ঘমেয়াদে। আমরা আশা করব, আমাদের রাজনীতির ভিত্তি হবে ন্যায়পরায়ণতা ও কল্যাণমুখী। রাজনীতি যেন কোনোভাবেই ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়।