ঢাকা, রবিবার, ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ৮৫ তম জন্মদিন উদযাপন

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ৮৫ তম জন্মদিন উদযাপন করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । তার জন্মদিন উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন – বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, ডীন,কলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান, লেখক, কবিও যুগ্ম সম্পাদক, দৈনিক প্রথম আলোর সোহরাব হাসান, নাগরিক ঐক্যের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রউফ মান্নান, সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাগরণী শান্তিসঙ্গের সভাপতি মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম। ঢাকা        অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। সফল একজন শিক্ষক ছিলেন। তাঁর ছাত্রছাত্রীরা বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের বাইরে নানা দেশে গুরুত্বপূর্ণ নানা কাজে নিয়োজিত। ষাটের দশকের শুরু থেকে তিনি পত্রপত্রিকায় লিখে আসছেন। কবিতা, ছোটগল্প, রম্যরচনা যেমন লিখেছেন; তেমনি সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়ে। এ ক্ষেত্রে তাঁর লক্ষ্য সর্বজনীন মানবকল্যাণ।

তিনি বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, কবি কাজী নজরুল ইসলাম, জসীম উদ্‌দীন প্রমুখের রচনাবলির নিবিষ্ট পাঠক। মোহাম্মদ বরকত উল্লাহর ‘মানুষের ধর্ম’ বইটি পড়েও তিনি দর্শনচিন্তায় আগ্রহী হয়েছেন। কালীপ্রসন্ন ঘোষের প্রভাতচিন্তা, নিভৃতচিন্তা, নিশীথচিন্তা প্রভৃতি গ্রন্থেরও তিনি অনুরাগী পাঠক। বার্ট্রান্ড রাসেল, মাও সে তুং, লিও টলস্টয় প্রমুখের কিছু লেখা তিনি বাংলায় অনুবাদ করেছেন। তিনি অনুবাদ করেছেন সেসব লেখা, যেগুলো বাংলা ভাষার দেশে সর্বজনীন কল্যাণ সাধনের জন্য বিশেষ দরকারি। লেখার মধ্য দিয়েই তিনি চেষ্টা করেছেন স্বদেশ ও বিদেশের সর্বজনীন কল্যাণের।
বাংলাদেশে রাষ্ট্র, জাতি ও জনজীবনের কল্যাণ বিবেচনা করে তিনি লেখেন। দেশের রাজনৈতিক মহলে এবং তরুণদের মধ্যে তাঁর লেখার গুরুত্ব বিবেচনা করলে অনেক কিছু স্পষ্ট বোঝা যাবে।
স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২ সাল থেকেই দুর্নীতির অভিযোগে তীব্রভাবে অভিযুক্ত হয়েছে প্রতিটি সরকার ও সরকারি দল, সরকারের অনুসারী ছাত্র সংগঠনও ক্রমাগত আক্রান্ত হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগে। তিনি লক্ষ্য করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্রমাগত যেভাবে আন্দোলন চলছে, তাতে দুর্নীতির প্রসার কমেনি। অবস্থা দেখে তিনি অনুভব করেন, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার আন্দোলন দরকার।

আবুল কাসেম ফজলুল হকের পরিচয় নিহিত তাঁর রচনাবলিতে। প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে আছে– কালের যাত্রার ধ্বনি, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন, মুক্তিসংগ্রাম, বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ও উত্তরকাল, নবযুগের প্রত্যাশায়, সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রসঙ্গে, যুগসংক্রান্তি ও নীতিজিজ্ঞাসা, নৈতিকতা: শ্রেয়োনীতি ও দুর্নীতি, মাও সে তুঙের জ্ঞানতত্ত্ব, মানুষ ও তার পরিবেশ, বাংলাদেশ কোন পথে, রাষ্ট্রচিন্তায় বাংলাদেশ, অবক্ষয় ও উত্তরণ, প্রাচুর্যে রিক্ততা, গণতন্ত্র ও নয়াগণতন্ত্র, রাজনীতিতে ধর্ম মতাদর্শ ও সংস্কৃতি, নৈতিক চেতনা: ধর্ম ও আদর্শ, রাজনীতি ও সংস্কৃতি: সম্ভাবনার নবদিগন্ত, বিশ্বায়ন ও সভ্যতার ভবিষ্যৎ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা, জাতীয়তাবাদ আন্তর্জাতিকতাবাদ বিশ্বায়ন ও ভবিষ্যৎ, ভালো জীবনযাপন নিয়ে কিছু কথা, মার্কসবাদ ও বর্তমান বাস্তবতা, ছয় দফা আন্দোলন ও আজকের বাংলাদেশ প্রভৃতি।