ঢাকা, শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন বছরে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার স্বপ্ন মিরাজের

সদ্য শেষ হয়েছে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে এবং টেস্ট সিরিজ। যেখানে ভারতের কাছে ০-২ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারলেও ওয়ানডে সিরিজ ঠিকই ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ দল।

প্রথম ওয়ানডেতে খাদের কিনারা থেকে দলকে ১ উইকেটের জয় এনে দেন মিরাজ। এরপর দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও করেছেন ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। সিরিজ জুড়ে দুই ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে মিরাজ রান করেছেন ১৫৩ সঙ্গে নিয়েছেন ৪ উইকেট। অবশ্য টেস্ট সিরিজে ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে না পারলেও বল হাতে নিয়েছেন ভারতীয় ব্যাটারদের ১১ উইকেট। চলতি বছরের এই শেষ সময়ে বাংলাদেশ দলের কোনো খেলা না থাকায় মেহেদী মিরাজ এখন সময় কাটাচ্ছেন পরিবারের সঙ্গেই। এমন অবস্থায় মঙ্গলবার শীতের সকালে মুঠোফোনে পাওয়া গেল মিরাজকে। ঢাকা পোস্টের সঙ্গে সবশেষ ভারত সিরিজ ও আগামী বছর অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে কথা বলেছেন টাইগারদের তারকা এই অলরাউন্ডার।

শুরুতেই মিরাজ বললেন, ‘অবশ্যই আমার কাছে খুব ভালো লাগছে, ভারতের সাথে এরকম একটা সিরিজ গেছে আমার কাছে তো অনেক বড় একটা পাওয়া এটা। বিশেষ করে যে ওয়ানডে সিরিজটা গেছে। এরপর শেষ টেস্টে জিততে জিততে তো হেরে গেলাম। অবশ্যই এটা আমার ক্যারিয়ারের জন্য আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডেতে অলরাউন্ডারদের তালিকায় নাম্বার তিনে অবস্থান করছেন মিরাজ। একইসঙ্গে শীর্ষে রয়েছেন সাকিব আল হাসান। একই সময়ে টাইগারদের দুই ক্রিকেটার সেরা তিনে থাকার আনন্দ নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘এটা অবশ্যই ভালো লাগার একটা বিষয়। বড় পাওয়া বলতে পারেন। তবে এখানে থেমে থাকলে চলবে না, এটাকে আরো ভালো করতে হবে, ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। এটা জাস্ট শুরু এখান থেকেই এগিয়ে যেতে হবে এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।’

মেহেদী মিরাজ ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়িয়েছেন। যদিও এমন ইনিংস খেলার ক্ষেত্রে মানসিক শক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে করে মিরাজ জানালেন, ‘সবকিছুর জন্য মানসিক কাজটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মানসিকের সাথে স্কিল তো অবশ্যই আমার আছে আমি বিশ্বাস করি। ওটা নিয়েও কাজ করেছি। কিন্তু মানসিক কাজটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে বড় কথা টি-টোয়েন্টিতে আমাকে যখন উপরে ব্যাটিং করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল তখন পরিশ্রম করেছি, অনুশীলন করেছি, দেশে এবং দেশের বাইরে। তখন ওটা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে এবং কাজে লেগেছে।’

২০২২ সালের শেষ দিকে গিয়ে দাঁড়িয়েছে এখন, চলছে ডিসেম্বর মাস। তবে নতুন বছরে কি পরিকল্পনা থাকছে মিরাজের, ‘নতুন বছরে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই আমার কাছে। যে জিনিসটা রয়েছে সেটা উন্নতি করতে হবে। সামনে বিশ্বকাপ রয়েছে, বিশ্বকাপের মঞ্চে ভালো খেলতে হবে। তার জন্য এখন থেকেই ভালো খেলতে হবে।’

যেহেতু বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সবকিছুই চেনা-জানা কন্ডিশন সেক্ষেত্রে প্রথম লক্ষ্য কি থাকছে আপনার কাছে? মিরাজ বললেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্যই থাকবে টপ ফোরে থাকা।’ ফাইনালের স্বপ্ন আছে কিনা এমন প্রশ্নেরও উত্তর দিয়ে মিরাজ বললেন, ‘আমরা যদি ইনশাআল্লাহ টপ ফোরে থাকি অবশ্যই তখন আমাদের…আমরা ফাইনাল খেলতে পারব। আমরা ক্যাপাবল, আমরা ফাইনাল খেলার মতোই দল।’