ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কানাডায় মুনতাসির মামুনের গ্রন্থ ‘পৃথিবীর পথে বাংলাদেশ’ বই প্রকাশনা উৎসব

কানাডায় মুনতাসির মামুনের গ্রন্থ ‘পৃথিবীর পথে বাংলাদেশ : সাইকেলে আলাস্কা থেকে টরন্টো’ এর প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় টরন্টোর ৩০০০ ড্যানফোর্থ এভিনিউ’র মাল্টিকালচারাল ফিল্ম স্ক্রিনিং সেন্টারে টরন্টো ফিল্ম ফোরাম এ আয়োজন করে।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা ভাষার স্বনামধন্য কবি আসাদ চৌধুরী এবং গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন লেখক ও অনুবাদক ফারহানা আজিম শিউলি।

প্রকাশনা উৎসবে গ্রন্থটির মূল আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক ফারহানা আজিম শিউলি এমন গ্রন্থ লেখার জন্য লেখক মুনতাসির মামুনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, লেখক যে মুন্সিয়ানায় নিজের সাইকেল ভ্রমণের বৃত্তান্ত শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করেছেন তা বাংলা সাহিত্যে বিরল।

ফারহানা আজিম শিউলি গভীর বিশ্লেষণের সঙ্গে গ্রন্থটি উপস্থিত দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন। প্রকাশনা উৎসবে লেখক মুনতাসির মামুন তার এই ভ্রমণের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন এবং উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে তার ভ্রমণ এবং গ্রন্থ নিয়ে মতবিনিময় করেন। তিনি তার এই সাইকেল ভ্রমণের পরিকল্পনা এবং তাকে বাস্তবায়িত করার বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত এবং আনন্দ-বেদনার কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি আসাদ চৌধুরী মুনতাসির মামুনকে অনেক ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, মামুনের এই কাজ বাংলা ভ্রমণ সাহিত্যে এক অনবদ্য সংযোজন হয়ে রইল।

তিনি মামুনকে আহ্বান জানান, তিনি যেন তার সব ভ্রমণের ওপর বই লিখে বাংলা ভাষার পাঠকদের পড়ার একটি নতুন দিক উন্মোচিত করেন।

উল্লেখ্য, মুনতাসির মামুন ১৯৮২ সালের ১০ নভেম্বর বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন সাইকেল পরিব্রাজক ও পর্বতারোহী। পৃথিবীর ছয়টি মহাদেশে তিনি সাইকেলে ভ্রমণ করেছেন। পেশাগত জীবনে প্রকৌশলী মামুন ২০১৪ সালে তার অস্ট্রেলীয় বন্ধু সারাহ-জেন সল্টমার্শসহ ৯৪ দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা থেকে টরন্টোতে এসেছিলেন সাইকেল চালিয়ে। তাদের সেই ভ্রমণবৃত্তান্ত চমৎকারভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এই গ্রন্থে। ২৯২ পৃষ্ঠার বইটি গত অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) থেকে।

তিনি ভ্রমণ, অভিযান ও পরিবেশ নিয়ে লেখালেখি করছেন দুই দশকের বেশি সময় ধরে। পরিবেশ নিয়ে গবেষণা গণসচেতনতা জন্য তিনি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর ‘কানেক্ট ফর ক্লাইমেট’ এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কারে ভূষিত হন। আলোকচিত্রী হিসেবে তিনি আইইউসিএন এর ‘বায়োডাইভার্সিটি ইন ফোকাস’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল এইডস সোসাইটি’ পুরস্কার লাভ করেছেন।

মুনতাসির মামুন আজীবন স্কাউট এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার’স এ্যাসোসিয়েশন সভ্য। দেশে বিদেশে তার তোলা আলোকচিত্রের ছয়টি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্বতারোহণ নিয়ে প্রকাশিত তার দুটি গ্রন্থ হচ্ছে ‘এভারেস্ট’ (২০০০৫) এবং ‘দ্য টার্টেল নেক’ (২০০৮)। মামুন ঢাকায় বসবাস করেন।