ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে জার্মানিতেও অনুষ্ঠিত হলো বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উৎসব কঠিন চীবর দান। রোববার রাজধানী বার্লিনের সবচেয়ে পুরনো বৌদ্ধ বিহার ‘ডাস বুড্ডিসটিসে হাউসে’ চীবর দানের এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
চীবর দানের দিনটিতে ধর্মীয় অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল বাংলাদেশ ও বিশ্ব শান্তির জন্য শোভাযাত্রা, বুদ্ধ পূজা ও শীল গ্রহণ, বিদর্শন ভাবনা এবং পূণ্যদান। এছাড়াও পালন করা হয় এ দানোৎসবে মূল অংশ চীবর দান। আমন্ত্রিত ভিক্ষুদের দেয়া হয় বহুল প্রতিক্ষিত পরিধেয় বস্ত্র চীবর। ২৪ ঘণ্টায় এই চীবর বুনন ও তৈরি করতে হয় বলে এটিকে বলা হয় কঠিন চীবর।
এসময় অনুষ্ঠানে আসা এক বৌদ্ধ ভিক্ষু বলেন, ‘আজকের দিনটি বৌদ্ধদের জন্য ছিল অনেক আনন্দের। তাই বার্লিন থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সবাইকে জানাই বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ কঠিন চীবর দানের মৈত্রী শুভেচ্ছা। জগতের সকল ধর্মের মানুষের ও সত্ত্বার মঙ্গল কামনা করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘পৃথিবীর মানুষ আজ হানাহানি, লোভ আর হিংসায় মত্ত। মানুষের অনিয়ন্ত্রিত জীবনাচরণের কারণে দুঃখের অন্ত নেই। তাই যাবতীয় দুঃখ থেকে মুক্তি পেতে হলে দানশীল ভাবনার কোনো বিকল্প নেই।’
পরে মহাকারুনিক গৌতম বুদ্ধের প্রচারিত অহিংস ধর্ম নিয়ে আয়োজন করা হয় ধর্মসভা, প্রদীপ পূজা ও জগতের সকল মানুষের কল্যাণে সমবেত প্রার্থনা।
এমন হাজার বছরের ধর্মীয় উৎসবে বাংলাদেশিদের সাথে যোগ দিতে পেরে খুশী স্থানীয় জার্মান বৌদ্ধরাও। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দানোৎসবে অংশ নেন সুস্মিতা বড়ুয়া, যিশু বড়ুয়া, নিপ্পন বড়ুয়া, অর্ণব বড়ুয়া, নিতিশ চাকমা, বকুল বড়ুয়া, অনিন্দ্য বড়ুয়া, অন্বেষা বড়ুয়া ও আশীষ বড়ুয়াসহ অনেকেই।
বৌদ্ধ ধর্ম মতে পবিত্র প্রবারণা বা আশ্বিনি পূর্ণিমার পরদিন থেকেই বিশ্বের প্রায় সবগুলো বৌদ্ধ বিহারে এই কঠিন চীবর দানোৎসবের আয়োজন করা হয়। উপাসক উপাসিকারা সর্বস্তরের ভিক্ষুদের দান করেন পরিধেয় বস্ত্র বা পবিত্র চীবর।
সবশেষে বাংলাদেশ ও জগতের মঙ্গলের জন্য সমবেত প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।