ঢাকা, সোমবার, ১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রান্তিক পর্যায়ে আইসিইউ সেবা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত জনবল সৃষ্টির উদ্যোগ এখনই নিতে হবে: মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউ এর সংখ্যা ইতোমধ্যে বৃদ্ধি করা হয়েছে। আইসিইউতে মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়ে থাকে বিধায় এখানে রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নাই। অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানো হবে। বর্তমান জনকল্যাণমূলক সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জেলা-উপজেলাসহ প্রান্তিক পর্যায়েও যাতে রোগীরা আইসিইউ সেবা পান সেই পরিকল্পনা রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রশিক্ষিত জনবল সৃষ্টির উদ্যোগ এখনই নিতে হবে। আজ শনিবার ২২ মে ২০২১ইং তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সি-ব্লকের প্রফেসর সামাদ সেমিনার হলে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত মুমূর্ষূ রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, এখান থেকে প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞান সংশ্লিষ্ট অন্য চিকিৎসক ও নার্সদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে নিজেকে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে কোনো কোনো রোগী আমাদেরকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এটা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি। প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এ্যানেথেসিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম আখতারুজ্জামান। আরো বক্তব্য রাখেন উক্ত বিভাগের অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বনিক।
এদিকে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ আজ তাঁর কার্যালয়ে প্রশাসনিক মিটিং এ অংশ নেন। এছাড়াও মাননীয় উপাচার্য মহোদয় ক্যাম্পাসে রাউন্ড দেন।
‘করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে গবেষণা করতে হবে’
বিশ্ব হাইপার টেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ দিবস ২০২১ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ কার্ডিওভাসকুলার রিসার্চ ফাউন্ডেশন এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মানব দেহের জন্য রক্তচাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং উচ্চ রক্তচাপ হলো সারা শরীরের রোগ। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অনেক দিন বেঁচে থাকা সম্ভব। করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত কোনো কোনো রোগীর রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যাচ্ছে, আবার কমে যাচ্ছে, আবার কোনো কোনো রোগীর রক্তচাপ অনেক বেশী থাকছে, আবার কোনো কোনো রোগীর রক্তচাপ অনেক কম যাচ্ছে। কেনো এমন হচ্ছে এই বিষয়ে গবেষণা করা জরুরি। গতকাল শুক্রবার ২১ মে ২০২১ইং তারিখ রাতে আয়োজিত ওয়েবিনারে মাননীয় উপাচার্য তার বক্তব্যে গবেষণার সাথে সাথে গবেষাণা লব্ধ ফলাফল জার্নালে প্রকাশের উপরেও গুরুত্বারোপ করেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় পক্ষ থেকে সব ধরণের সহায়তা প্রদানের কথা উল্লেখ করেন। ভারচুয়ালি অনুষ্ঠিত এই বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে চেয়ারপার্সন ছিলেন দেশের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী। সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আলী আহসান। সম্মেলনে ভারতের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জ্যোতির্ময় পাল মূল্যবান মতামত প্রদান করেন। বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এসএম মোস্তফা জামান। আরো গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন অধ্যাপক ডা. এম এ রশীদ, অধ্যাপক ডা. ফজলুর রহমান, অধ্যাপক ডা. চৌধুরী মেশকাত আহম্মেদ, অধ্যাপক ডা. কাজী তারিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. মোঃ হারিসুল হক, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহানারা আরজু, সহকারী অধ্যাপক ডা. রসুল আমীন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. দীপল কৃষ্ণ অধিকারী। এবারে দিবসটি প্রতিপাদ্য হলো “আপনার রক্তচাপ সঠিকভাবে পরিমাপ করুন, নিয়ন্ত্রণ করুন, দীর্ঘজীবী হোন।
ঝুঁকিভাতা ও প্রণোদনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিএমএর মতবিনিময়
করোনা অতি মহামারিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ও চিকিৎসকদের ঝুঁকিভাতা, প্রণোদনাসহ অন্যান্য বিভিন্ন সমস্যা সমাধানকল্পে গতকাল শুক্রবার ২১ মে ২০২১ইং তারিখে কেন্দ্রীয় বিএমএ এর পক্ষ থেকে খুলনা বিভাগের অন্তর্গত জেলাসমূহের সম্মানিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দদের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়ে ভারচুয়ালি অংশ নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য ও বিএমএ এর সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ। এতে কেন্দ্রীয় বিএমএ এর সম্মানিত সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী, সহ-সভাপতি (খুলনা বিভাগ) ডা. শেখ বাহারুল আলম, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, সাবেক মহাসচিব ডা. কাজী সহিদসহ কেন্দ্রীয় বিএমএ এর নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। মতবিনিময়ে মাননীয় উপাচার্য ও বিএমএ এর সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদসহ বিএমএ এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জেলার সম্মানিত চিকিৎসক নেতৃবৃন্দের মতামতগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং কেন্দ্রীয় বিএমএ এর পক্ষ থেকে সমস্যাগুলোর সমাধানকল্পে ইতোমধ্যে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান। সভায় আরো জানানো হয়, একইভাবে প্রতিটি বিভাগের অন্তর্গত জেলা বিএমএ এর নেতৃবৃন্দদের সাথে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময় করা হবে।
দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন নিলেন ২৬৯ জন
এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে আজ শনিবার গত ২২ মে ২০২১ইং তারিখে চলমান কঠোর লকডাউনের মাঝেও মোট ২৬৯ জন কোভিড ১৯ এর দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন। গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ৫৪ হাজার ৫ শত ৬৪ জন এবং আজ শনিবার ২২ মে ২০২১ইং পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ৪২ হাজার ৩ শত ৬৬ জন। বেতার ভবনের পিসিআর ল্যাবে আজ শনিবার ২২ মে ২০২১ইং পর্যন্ত পর্যন্ত ১ লক্ষ ৪২ হাজার ৯ শত ১০ জনের কোভিড-১৯ টেস্ট করা হয়েছে। বেতার ভবনের ফিভার ক্লিনিকে আজ শনিবার ২২ মে ২০২১ইং পর্যন্ত ৯৬ হাজার ২ শত ৪০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। অন্যদিকে করোনা ইউনিটে আজ শনিবার ২২ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত ৮ হাজার ৭ শত ৩৭ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ৯ শত ৯ জন। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৪ হাজার ১ শত ৮৬ জন। বর্তমানে ভর্তি আছেন ৫৬ জন রোগী এবং আইসিইউতে ভর্তি আছেন ৪ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৭ জন। ছবি: মোঃ আরিফ খান। নিউজ: প্রশান্ত মজুমদার। সার্বিক তত্ত্বাবধানে মিডিয়া সেল।