ঢাকা, শনিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের নানাহ অনিয়ম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিষয় উপস্থাপন করতে গেলে দেশের সকল বিশ্বদ্যালয়ের শিক্ষকদের নানাহ বিষয় চলে আসে। বর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যেমন নানাহ অনিয়মের বেড়াজালে কর্মকাল অতিবাহিত করছে তেমনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির নানাহ অনিয়ম সমাজকে চিন্তিত করে তুলেছ। এদু্’টি বিষয়ের কিছু দিক নিয়ে আলোকপতা করার চেষ্টা করা হলো।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরবঙ্গের শিক্ষার ক্ষেত্রে পথ পদর্শক হিসেবে অবদান রেখে যাচ্ছে। আশির দশকে সামরিক জান্তা হটাও আন্দোলনের মধ্যেও নানাহ চড়াই উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে আমরাও সেই সুবাধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষার স্বাদ গ্রহন করে উচ্চ শিক্ষার সনদ অর্জন করেছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উত্তরবঙ্গের নয় সারা দেশের জন্য শিক্ষার ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে। সেক্ষেত্রে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সকল ক্ষেত্রে নিয়মের মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হবে – যা সবারই কাম্য। নিয়ম-অনিয়ম দেশের সকল স্থানের মতেf রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরাজমান। তবে সেটার সিমা লংঘন একেবারেই কাম্য নয়। শিক্ষক সমাজ দেশের আর দশটি পেশার মত একটি মহান পেশার অন্তর্ভুক্ত। তারা দেশ গড়ার কারিগর। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক শিক্ষক পেয়েছি- যাদের কথা মনে পড়লে আজও শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়। তাদের জন্য প্রানভরে দোয়া করা ছাড়া এখন আর করার কিছুই নাই। এ ধরনের শিক্ষক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত রয়েছে।আমার জীবনে এসব শিক্ষক সত্যিই শ্রদ্ধার আসন নিয়ে অবস্থান করছে।

বর্তামান সময়ে সমাজের নানাহ অগ্রগতির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহেও অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন হয়েছে। সেখানে শিক্ষকদের অবদানই বেশি। তবে কিছু সংখ্যক শিক্ষকের নানাহ বিতর্কিত কাজের জন্য পুরো শিক্ষক সমাজকে নানাহ প্রশ্নের সন্মুখিন হতে হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে মিডিয়াতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সিমাহিন অনিয়মের বিষয়টি প্রচারিত হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও দেশের সবগুলি বিশ্বিবিদ্যালয়েই এধরনের শিক্ষকের কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা যেমন কলুষিত হচ্ছে তেমনি এসব শিক্ষকগন সমাজের নানাহ দায়িত্ব পালনের সময় ভিষনভাবে অনাকাঙ্খিত ও অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পরছে। তারা মানছে না দেশের নিয়ম, সমাজের বৃহত্তর জনগষ্ঠির স্বার্থকে জলাঞ্জলিত করে তার নিজের এবং তার পক্ষের মুষ্ঠিমেয় মানুষের স্বার্থ রক্ষায় রত। এসব শিক্ষকদের নামের তালিকা আমি অনেক বড় করতে পারব। কিন্ত সংগত কারনেই নামের তালিকা দীর্ঘায়িত করেতে চাচ্ছি না। তবে আমার কর্মজীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট গ্রামীণ ব্যাংকে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে অনাকাঙ্খিত কর্ম ও দেশের আইন অমান্য করার কথা উল্লেখ করতে চাই।

আমি গ্রামীণ ব্যাংকে দীর্ঘ প্রায় 24 বছর চাকরি করেছি। এই গ্রামীণ ব্যাংকে চাকরি নিতে কোন তদবির বা ঘুষের প্রয়োজন হয় নাই- যা সবার জানা। আমরা গ্রামীণ ব্যাংকে কাজও করছি নানাহ নিয়ম-কানুনের মধ্য দিয়ে। সেখানে সকল সময়েই সরকারের আইন-কানুনকে মেনে দেশের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার একটি সংস্কৃতি আমরা গ্রামীণ ব্যাংকের অগ্রজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এসেছি।কাজ করতে যেয়ে যে সব সামান্য কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে তা পর্যায়ক্রমে সংশোধন করে গ্রামীণ ব্যাংককে একটি স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা যারা গ্রামীণ ব্যাংকের অগ্রজ তাদের মধ্যে রয়েছে- একেবারে গ্রামীণ ব্যাংকের শূন্য পর্যায় থেকে কাজ করার কর্মীগন। গ্রামীণ ব্যাংকের এসব প্রতিষ্ঠাতা কর্মীগন প্রায় সকলেই অবসরে।

বর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ডের চেয়ারম্যান একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। যার কাছ থেকে সকলেই দেশের নিয়ম ও আইন অনুসারে কাজ প্রত্যাশা করে। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অবসরকারিগনও সেই প্রত্যাশা বেশি করে। তবে বোর্ডের এই চেয়ারম্যানের কার্জক্রম যেমন সরকারের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে অনিয়মের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ ব্যাংককে পরিচালিত করছে-তেমনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা কর্মীদের সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে নানাহ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে চলেছে। বিষয়টি পরিস্কার করার চেষ্টা করতে চাই।

সরকার ইতিমধ্যে 2017 সাল থেকে 100% পেনশন স্যারেন্ডার বন্ধ করে 50% পেনশন স্যারেন্ডার করার জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে বাস্তবায়ন করেছে। সেক্ষেত্রে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানে এ নিয়ম বাস্তবায়ন করলেও বর্নিত চেয়ারম্যান তার প্রতি আজও পর্যন্ত বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে দেশের আইনকে অমান্য করে গ্রামীণ ব্যাংকে 100% পেনশন স্যারেন্ডার অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে – সরকার ঘোষিত পুন:পেনশন সহ অবসরকারিদের জন্য অন্যান্য সুবিধাদি থেকে বঞ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদকে কলংকিত করেছে।

এই বোর্ড চেয়ারম্যানের আমলে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মচারী সমিতির নিয়োগ ও বদলি বানিজ্য সহ নানাহ অনিয়মের বিষয়টি গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মী ব্যবস্থাপনার অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে।

গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠাকারিগনও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ুয়া মানুষ। বোর্ড চেয়ারম্যান সাহেব যে সব ছাত্র পড়িয়ে সনদ প্রদান করেছে- তাদেরকে উক্ত সনদের ভিত্তিতে চাকরি দিয়ে কর্মের উপযোগী করে গড়ে তুলেছে গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকারি এই অবসরকারিগন। সেক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারিগন বোর্ড চেয়ারম্যানের চেয়ে সমাজে কম অবদান রাখে নাই। উল্লেখ্য গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের কস্টে গড়া প্রতিষ্ঠানেই  বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্নিত শিক্ষক চেয়ারম্যানের পদ পেয়েছে।

পদ পেয়ে বর্তমান বোর্ড চেয়ারম্যান যেমন তার ক্ষমতার অপব্যবহার করছে, দেশের আইনের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল হয়ে কাজ করছে, তেমনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অবসরকারিদেরকে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে চলেছে।যা একদিকে নিয়ম অমান্য করার সংস্কৃতি দেশে চালু রেখেছে –অন্যদিকে অকৃতজ্ঞতার সংস্কৃতি লালন করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পর গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান অবসরকারিদের কস্টে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড চিয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে এসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসির মত বিতর্কিত কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্নিত শিক্ষক সমাজের যেমন গায়ে কলংক একে দিচ্ছে তেমনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা কর্মীদের ন্যায্য পাওনা পুন:পেনশন সহ অন্যান্য ভাতাদি প্রদান না করে নিজেকে বিতর্কিত করছে।

দু্’টি প্রশ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্নিত শিক্ষক, গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা কর্মীগন রেখে দিল-(1)কি কারনে সরকারি নিয়মকে অগ্রাহ্য করে গ্রামীণ ব্যাংকে 100% পেনশন স্যারেন্ডার করা হচ্ছে? (2) কাদের স্বার্থ রক্ষা করতে যেয়ে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠাকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ীয় পুন:পেনশন সহ অন্যান্য সুবিধা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না?

দেশে আইনের শাসনের আওতায় এসব প্রশ্নের ঠিকই একসময় সমাধান হবে। কিন্তু  বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত শিক্ষকের বোর্ড চেয়ার্ম্যান হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ অনিয়ম গ্রামীণ ব্যাংকের ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে। গ্রামীণ ব্যাংকের এই কালো অধ্যায়ের নায়কও ইতিহাসের পাতায় কালো মানুষ হিসেবেই চিহ্নিত থাকবে।