ঢাকা, সোমবার, ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

টাইগারদের ‘মন্দের ভালো’ প্রথম দিন

সিরিজের প্রথম টেস্টে হারের জ্বালা ভোলার মিশনে নেমে টাইগারদের প্রথম দিনটা কাটলো ‘মন্দের ভালো’। দিনের প্রথম সেশন হতাশায় কাটানোর পর ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।শেষের দুই সেশনে আসে বেশকিছু সাফল্য।

তবে দিনের শেষে টাইগারদের পথের কাঁটা হয়ে রয়েছেন এনক্রুমাহ বোনার। সঙ্গী জশুয়া দা সিলভাকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ৪৫ রানের জুটি গড়েছেন তিনি। বাংলাদেশের বোলাররা শেষ বিকেলে এই দুই ব্যাটসম্যানকে তেমন কঠিন কোনো পরীক্ষার মুখেই ফেলতে পারেননি। সবমিলিয়ে ক্যারিবীয়দের পাশাপাশি নিজেদেরও অস্বস্তিতে রেখে দিন পার করলো মুমিনুলবাহিনী।বৃহস্পতিবার মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে ফিল্ডিং বেছে নেওয়া বাংলাদেশ উইন্ডিজের ৫ উইকেট তুলে নিয়ে দিন শেষ করেছে। এই সময়ে সফরকারীরা সংগ্রহ করেছে ২২৩ রান। ৭৪ রানে অপরাজিত আছেন এনক্রুমাহ বোনার। জশুয়া দা সিলভা অপরাজিত আছেন ২২ রান নিয়ে।

চট্টগ্রাম টেস্টে হারের পর মিরপুরে তিন পরিবর্তন নিয়ে নামে বাংলাদেশ দল। কুঁচকির ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়া সাকিব আল হাসানের জায়গায় আসেন সৌম্য সরকার। বাদ পড়েছেন সাদমান ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান। তাদের বদলে আসেন মোহাম্মদ মিঠুন ও আবু জায়েদ রাহি। একাদশে এক পেসার আর তিন স্পিনার অর্থাৎ ঘুরেফিরে সেই স্পিন নির্ভর দল নিয়েই লড়াইয়ে নামে স্বাগতিকরা।

শুরুতে ফিল্ডিংয়ে নামা বাংলাদেশের জন্য দিনের প্রথম সেশনটা ছিল হতাশার। দুই ক্যারিবীয় ওপেনার ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট এবং জন ক্যাম্পবেল মিলে তুলে ফেলেন ৬৬ রান। উইকেটে জেঁকে বসা জুটি ভেঙে ব্রেক থ্রু এনে দেন তাইজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনারের ফুলিশ ডেলিভারিতে সুইপ করেছিলেন ক্যাম্পবেল। কিন্তু বল ব্যাট ফাঁকি দিয়ে ব্যাটসম্যানের পায়ে লাগে। আম্পায়ার লেগ বিফোরের সিদ্ধান্ত দিলেও রিভিউ নেন ক্যারিবীয় ওপেনার। কিন্তু রিভিউ ব্যর্থ হয়। ৩৬ রান করে ফেরেন ক্যাম্পবেল। এরপর ওই এক উইকেট হারিয়েই ৮৪ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় উইন্ডিজ।

লাঞ্চের পর বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। টাইগার বোলারদের টাইট বোলিংয়ে প্রথম ৮ ওভারে ৮ রান আসে। চাপ তৈরির এই প্রক্রিয়া কাজেও দেয়। দ্বিতীয় সেশনটা বাংলাদেশের বোলারদের জন্য হয়ে দাঁড়ায় টার্নিং পয়েন্ট। কারণ এই সেশনের প্রথম ২১ ওভারে ৩৪ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

লাঞ্চের পর শাইনে মোসলের উইকেট তুলে নেন আবু জায়েদ রাহি। স্ট্যাম্পের অনেকটা বাইরের বলে শট খেলতে চেয়েছিলেন মোসলে (৭), কিন্তু বল তার ব্যাটে লেগে স্ট্যাম্প ভেঙে দেয়। ওদিকে অন্যপ্রান্ত আগলে ছিলেন ব্র্যাথওয়েট। ক্যারিবীয় অধিনায়ক ছুটছিলেন ফিফটির পথে। কিন্তু ৪৭ রান করেই সৌম্য সরকারের বলে বিদায় নেন তিনি।

পার্ট-টাইম স্লো মিডিয়াম বোলারের লেন্থ বলে কাট করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন ব্র্যাথওয়েট। উইকেটরক্ষক ক্যাচ ধরতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন ফার্স্ট স্লিপে থাকা নাজমুল ইসলাম শান্ত। তবে বাংলাদেশ দলের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি হয়ে আসে কাইল মেয়ার্সের উইকেট। চট্টগ্রাম টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ানকে এদিন অল্পতেই বিদায় করেন আবু জায়েদ। ডানহাতি পেসারের বল হালকা সুইং করলে তাতে ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন মেয়ার্স। কিন্তু বল তার ব্যাটের কানায় লেগে জমা হয় ওয়াইড স্লিপে থাকা সৌম্যের মুঠোয়।

শেষ বিকেলে এনক্রুমাহ বোনার এবং জার্মেইন ব্ল্যাকউডের ৬২ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে উইন্ডিজ। তবে এই জুটিকে বেশিদূর যেতে দেননি তাইজুল। ফুল টস বলে এগিয়ে এসে ড্রাইভ শট খেলেছিলেন ব্ল্যাকউড (২৮)। কিন্তু বল সোজা বোলারের হাতেই জমা হয়। এর আগে অবশ্য ফিফটি তুলে নেন বোনার। এই নিয়ে টানা দুই ইনিংসে ফিফটির দেখা পাওয়া এই ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানকে কাল শুরুতেই ফেরাতে চাইবে টাইগাররা।

বল হাতে বাংলাদেশের আবু জায়েদ ও তাইজুল ইসলাম তুলে নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। বাকি উইকেট গেছে সৌম্যের ঝুলিতে।