বাংলা সংগীতাঙ্গনের প্রখ্যাত তবলা বাদক ওস্তাদ মঙ্গল সেন ও টাঙ্গাইলের প্রখ্যাত নাট্য ব্যক্তিত্ব ও অভিনেতা দুলাল আনাহোলীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, টাঙ্গাইল এই শোকসভায় সংগীতাঙ্গনের বিশিষ্ট শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।
ওস্তাদ মঙ্গল সেন ছিলেন উপমহাদেশীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর তবলার অনন্য ছন্দ, গভীর রাগানুভূতি ও নিখুঁত তালজ্ঞান প্রজন্মের পর প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তিনি শুধু একজন দক্ষ শিল্পীই নন, একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবেও অসংখ্য শিষ্য তৈরি করেছেন, যারা আজ দেশে-বিদেশে সুনামের সঙ্গে সংগীতচর্চা করছেন।
ওস্তাদ মঙ্গল সেনের অবদান বাংলা সংস্কৃতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর শূন্যতা কখনোই পূরণ হবার নয়। তবে তাঁর সৃষ্টি ও শিক্ষার মাধ্যমে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে।
দীর্ঘদিন ধরে সংগীত সাধনায় নিবেদিত ওস্তাদ মঙ্গল সেন তাঁর কর্মময় জীবনে অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তবলা পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাশাপাশি,দুলাল আনাহলী টাঙ্গাইলের নাট্যাঙ্গনের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। তার অভিনয়, নির্দেশনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এ জেলার নাট্যচর্চাকে সমৃদ্ধ করেছে। মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকে তার সাবলীল অভিনয় দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। তার মৃত্যুতে টাঙ্গাইলের সংস্কৃতি অঙ্গনে অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
দুলাল আনাহলী শুধু একজন অভিনেতাই নন, তিনি ছিলেন তরুণ নাট্যকর্মীদের পথপ্রদর্শক। তার নিষ্ঠা, সততা ও শিল্পচর্চার প্রতি ভালোবাসা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।