ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘গণরায় বাস্তবায়ন না করে ফ্যাসিবাদী স্টাইলে দেশ চালাচ্ছে সরকার’

জুলাই সনদের ভিত্তিতে হওয়া গণভোটের রায় বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, যারা নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর স্বপ্ন নিয়ে ভোট দিয়েছিল, তাদের সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। উল্টো সরকার নানা অজুহাতে গণরায় উপেক্ষা করে ‘ফ্যাসিবাদী স্টাইলে’ দেশ চালাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি ধারা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। এর আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করতে হবে এবং জুলাই সনদকে আইনে রূপান্তরের মাধ্যমে সংবিধানের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে এর বাইরে অন্য কোনো কার্যকর সমাধান নেই।

তিনি বলেন, একটি নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর মাধ্যমে দেশকে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত করার যে স্বপ্ন দেশবাসী দেখেছিল, তা এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে। জুলাই সনদের ভিত্তিতে যে গণরায় আমরা পেয়েছিলাম, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়ন করছে না। উল্টো ১৩৩টি অধ্যাদেশের মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

দেশের চলমান সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, জ্বালানি মন্ত্রী পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলছেন দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অথচ পেট্রোল পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন। সার সংকটে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সারা দেশে দেড় লাখের মতো হার্পিস (বা সংশ্লিষ্ট রোগ) আক্রান্ত রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকলেও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কোনো উন্নতি নেই। সরকারের বক্তব্য আর হাসপাতালের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত।

প্রশাসনের রদবদল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত নেতা বলেন, এক দেড় মাসের মধ্যে ঢালাওভাবে ওএসডি ও পদত্যাগে বাধ্য করার মতো যে ফ্যাসিবাদী স্টাইল আমরা সচিবালয় থেকে সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পর্যন্ত দেখছি, তাতে শাসন ব্যবস্থার কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি। জুলাই সনদে যে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ছিল, তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়া এই সংকটের আর কোনো সমাধান নেই।

আন্দোলন দমানোর হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মতো যদি রাষ্ট্রীয় শক্তি ও লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে জনগণের ন্যায্য আন্দোলন দমাতে চায়, তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় তাদের পরিণতি শুভ হবে না। ২৪ জুলাইয়ের অভ্যুত্থান থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত যে পুলিশ বা র‍্যাব দিয়ে গণ-আন্দোলন থামানো যায় না।

স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে প্রতিটি স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকবে। কিন্তু সরকার সব জায়গায় দলীয় প্রশাসক বসিয়ে দলীয়করণের নির্লজ্জ মহড়া দিচ্ছে। এমনকি বিএনপি ছাড়া আর কোনো দলের লোক তারা খুঁজে পাচ্ছে না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ শীর্ষ নেতারা।