আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নিজেদের স্বার্থে রাজনীতি করলেও বিএনপি সবসময় জনগণের জন্য কাজ করে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও জামাত রাজনীতি করে নিজেদের জন্য, আর বিএনপি করে জনগণের জন্য। এজন্য আন্দোলনে লীগ পালিয়ে যায়। বিএনপি কখনো পালায় না।’
আব্দুস সালাম তার বক্তব্যে আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘এবারের নির্বাচন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা যদি নির্বাচনে ভুল করেন, তবে দেশ অনেক দূরে পিছিয়ে যাবে। এই দেশকে একসময় করদ রাজ্যে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা কি দেশ স্বাধীন করেছি করদ রাজ্য বানানোর জন্য? মোটেই না। এখন আপনাদের ঠিক করতে হবে– দেশ পরাধীন করবেন নাকি স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখবেন।’
নির্বাচনের বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা নির্বাচন হবে কি না তা নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা দেশের মঙ্গল চায় না। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা কিছুদিন আগেও আওয়ামী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছে, গোপনে সহযোগিতা করেছে। একটি গোষ্ঠী জামাতকে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী বানানোর চেষ্টা করছে, অথচ অতীতে তাদের অবস্থান বিএনপির ধারেকাছেও ছিল না। তারা কখনো ঢাকা থেকে একটি আসনেও জয়লাভ করতে পারেনি।’
তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে আব্দুস সালাম বলেন, তারেক রহমান নির্বাচিত হলে দেশে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য থাকবে না এবং মানুষ না খেয়ে মরবে না।
জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ নিয়ে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ক্যু করে ক্ষমতায় আসেননি। সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে ক্ষমতায় বসিয়েছে। সৈনিকদের সেই আস্থা এখনো তারেক রহমানের প্রতি অটুট রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৭ আসনের যুগ্ম সমন্বয়ক ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, ‘ভোটের দিন সকাল-সকাল কেন্দ্রে চলে যাবেন। ভোট বাক্স কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর থেকে সতর্ক নজর রাখবেন এবং পাহারা দেবেন, যাতে কেউ জোচ্চুরি করতে না পারে।’
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– কর্নেল জগলুল আহসান, ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদের মাহমুদ, সদস্য সচিব রেজানুর সেলিম, যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন ও শাহরিয়ার লিটনসহ স্থানীয় নেতারা। সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– ওয়ারেন্ট অফিসার মতিউর রহমান, আসাদুজ্জামান, মো. আব্দুল বাতেন, আব্দুল হক ও জমশেদ প্রমুখ।