খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী মো. রায়হান হোসনকে লাঞ্ছিতের অভিযোগে খুলনা মহানগরীর পশ্চিম বানিয়াখামারের একটি বাড়ি অবরোধ করে রাখেন ছাত্ররা। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়।
শনিবার সন্ধ্যা থেকে তারা ওই বাড়িটি অবরোধ করে রাখেন। এ সময় ওই এলাকার সাধারণ মানুষও ছাত্রদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রায়হান বলেন, দীর্ঘ আট মাস যাবত তিনি নগরীর পশ্চিম বানিয়াখামার পুকুরপাড় এলাকার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ নামের বাড়িতে বসবাস করছেন। বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। শুক্রবার রাত আটটার দিকে বাড়ির একটি মিটার নষ্ট হওয়ার ঘটনায় তার সঙ্গে মালিক লেলিন খারাপ আচারণ করেন। বিষয়টি রাত আড়াইটার দিকে তিনি বন্ধুদের জানান।
তিনি বলেন, শনিবার সকালে বাড়ির মালিক তার সঙ্গে আবার খারপ আচারণ করেন। তাকে লাথি মারেন ও মারধর করেন। এরপর বিকেলে ছাত্ররা বিষয়টি জানতে পেরে ওই বাড়িতে যান। তাদের সঙ্গেও বাড়ির মালিক লেলিন দুর্ব্যবহার করেন।
পরে ছাত্ররা বাড়ি অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এলাকার অধিকাংশ মানুষ ছাত্রদের সঙ্গে ওই বাড়ির সামনে অবস্থান নেন।
ঘটনাটি জেনে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক ও পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা ছুটে আসেন। পুলিশ তাদের বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
এক পর্যায়ে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মুন্সি মো. মাহবুব আলম সোহাগ বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের হাতে লাঞ্ছিত হন। রাত ১০টার দিকে ছাত্ররা টায়ার জ্বলিয়ে বিক্ষোভ করেন।
ছাত্রদের দাবি, যে ছাত্রকে বাড়ির মালিক লাঞ্ছিত করেছেন, তার কাছে এসে ক্ষমা চাইতে হবে। নাহলে বাড়ি ঘেরাও করে রাখা হবে। পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা অবরোধস্থল ত্যাগ করেন। রোববার তারা আবারো বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করবেন বলে জানিয়েছেন।