ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরীয়তপুর সদরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, ম্যাজিস্ট্রেটসহ আহত ১২

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উপরগাঁও হাছেন দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে সকাল ৭টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালমান হাবীবসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন এবং দুজন সদস্য প্রার্থীর বাড়িসহ ৮টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী জামাল হোসাইনের সমর্থকদের বিরুদ্ধে এ হামলার অভিযোগ উঠেছে।

আজ শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে ২য় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন চলছে। উপজেলার তুলাসার ইউপিতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসাইন। আর মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বর্তমান চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম।

সকালে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অন্তত আটটি বাড়িতে দোকানে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট করা হয়েছে।

হামলার শিকার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, সকাল ৬টার দিকে নৌকা প্রার্থী জামাল হোসাইনের সমর্থকরা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উপরগাঁও হাছেন দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে সদস্য প্রার্থী মোশারফ দেওয়ান ও মান্নান দেওয়ানের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় বাড়ির সদস্যরা আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন সদস্য প্রার্থী মোশারফ দেওয়ানের স্ত্রী শারমিন আক্তার, কুলসুম বেগম, আকাশি, পারু বেগম, মোকলেস ব্যাপারি, ইদ্রিস ব্যাপারি, আমেনা বেগম এবং খতেজা বেগম। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় ৮টি বসতঘর ও দুটি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে।

ঘটনার ভুক্তভোগী মোশারফ দেওয়ান কালের কণ্ঠকে বলেন, আমি ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য এবং সদস্য আবার প্রার্থী হয়েছি। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহিদুল ইসলামকে সমর্থন করার কারণে আমাকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। ভোটের দিন যাতে কেন্দ্র যেতে না পারি তার জন্য আমার ও পরিবারের ৮টি বাড়িতে হমলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। আমার বাসা থেকে খবর দেওয়ার পরও পুলিশ আসছিল না। দেড় ঘণ্টা হামলা চালানোর পর র‍্যাব ও পুলিশ এসেছে। ততক্ষণে আমাদের সব শেষ।

স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, আমার ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে যেতে না পারে তার জন্য নৌকার প্রার্থী জামাল হোসাইনের সমর্থকেরা আমার কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা করছে। কয়েকটি বাড়িঘর ও ভাঙচুর করা হয়েছ। বিভিন্ন রকম সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারে সে জন্য আমার কর্মী সমর্থকদের বিভিন্ন  স্থানে বাঁধা দেয়া হচ্ছে। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জামাল হোসাইন মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, সকালে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদুল ইসলামের সমর্থকরা আমার এক কর্মীকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। আমার সমর্থকদের শান্ত থাকতে বলেছিলাম। কিন্তু পরবর্তিতে দুই পক্ষই উত্তেজনাবশত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অনেকেই আহত হন।

শরীয়তপুর সদর পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আক্তার হোসেন বলেন, কেন্দ্রের পাশের সদস্য প্রার্থীর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে এমন খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে যাই। হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য যারা ছিলেন তারা কেন্দ্র রক্ষা করেছেন। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।