ঢাকা, শনিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

গ্রামীণ ব্যাংকের 14 হাজার অবসরকারিকে আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর 2021 এর বোনাস থেকে বঞ্চিত করে সরকার ঘোষিত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিরোধিতা করা হচ্ছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারিগন দীর্ঘ দিন যাবৎ সরকার ঘোষিত বোনাস, চিকিৎসা ভাতা ও পুন:পেনশন পাওয়ার জন্য আন্দোলনক করে আসছে। অতিব দু:খের বিষয় যে, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকারি বর্নিত অবসরকারিদের পাওনা প্রদানে গ্রামীণ ব্যাংক আজও কোন পদক্ষেপ গ্রহন করে নাই। অবসরকারিদের পাওনা প্রদানে কি কারনে পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে না- তা অবসরকারিদেরকে অবহিতও করা হচ্ছে না। গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ডও এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছে না।

যার ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর 2021 এর বোনাস থেকেও অবসরকারিগনকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

সরকারি সকল প্রতিষ্ঠান সহ গ্রামীণ ব্যাংকের মত সংবিধিবদ্ধ দেশের সকল প্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ইতিমধ্যে 100% এর স্থলে 50% পেনশন স্যারেন্ডার করে আসছে এবং সরকার ঘোষিত অবসরকারিদের জন্য বোনাস, চিকিৎসা ভাতা ও পুন:পেনশন বাস্তবায়ন করা হয়েছে। শুধুমাত্র গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারি আদেশকে অমান্য করে 100% পেনশন স্যারেন্ডার করেছে এবং অবসরকারিদের সরকার ঘোষিত বোনাস, চিকিৎসা ভাতা ও পুন:পেনশন বন্ধ করে রেখেছে।

করোনার এই মহামারিতে লকডাউনের যাতাকলে গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারিগন বৃদ্ধ বয়সে পরিবার পরিজন নিয়ে আর্থিকভাবে বড়ই কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিনাতিপাত করছে। অন্যান্য ঈদের মত এবারও অবসরকারিগন আশা করেছিল যে, তাদের ন্যায্য পাওনা ঈদ-উল-ফিতরের বোনাস নিয়ে এবার পরিবার পরিজন সহ একটু স্বাচ্ছন্দতার সাথে ঈদ উৎসব পালন করবে।

কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের চলমান ম্যানেজমেন্ট তাদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার স্বার্থে অবসরকারিদের ঈদ-উল- ফিতরের বোনাস বন্ধ করে রেখেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের চলমান ম্যানেজমেন্ট সরকারের নির্দেশনা অমান্য করেই 50% এর স্থলে 100% পেনশন স্যারেন্ডার করে চলেছে। মূলত: সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে 50% এর স্থলে 100%পেনশন স্যারেন্ডার করে কোটি টাকা নেওয়ার অপকৌশলকে বাস্তবায়ন করতেই অবসরকারিদের ঈদ-উল-ফিতরের বোনাস বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

অবসরকারিগন তাদের ন্যায্য পাওনা পাওয়ার পক্ষে দেশের প্রচলিত আইন ও গ্রামীণ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট আইন সহ প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজমেন্টকে অবহিত করে আসছে। অথচ গ্রামীণ ব্যাংক এসব আইন ও ব্যাখ্যা আমলে না নিয়ে অবসরকারিদের বর্নিত পাওনা বন্ধ করে রেখেছে। অবসরকারিগন বারবার তাদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে আলোচনার আবেদন করলেও গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট তা প্রত্যাখ্যান করে চলেছে। সর্বপুরি গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট সরকারের আইনকে অমান্য করে কেন 50% এর স্থলে 100% পেনশন স্যারেন্ডার অনুমোদন করে নোবেল বিজয়ী গ্রামীণ ব্যাংককে কলঙ্ক একে দিচ্ছে তার ব্যাখ্যাও গ্রামীণ ব্যাংক প্রকাশ করছে না। এই অনিয়মের ধারাবাহিকতায় অবসরকারিদের পাওনা বন্ধ করে রেখেও গ্রামীণ ব্যাংকের কলঙ্কের বোঝা বৃদ্ধি করছে।

এভাবে অবসরকারিদের অতি কস্টে গড়া গ্রামীণ ব্যাংককে ধারাবাহিকভাব অনিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ করে ফেলা হচ্ছে। অবসরকারিদের পাওনা দীর্ঘ সময় যাবৎ পরিশোধ না করে গ্রামীণ ব্যাংককে বড় অংকের বকেয়ার দায়বদ্ধতার মুখোমুখি দাড় করানো হচ্ছে।

বর্নিত অনিয়মগুলি গ্রামীণ ব্যাংককে সুষ্ঠভাবে পরিচালনার পরিপন্থি। একদিকে অনিয়ম করে 50% এর স্থলে 100% পেনশন স্যারেন্ডার করে গ্রামীণ ব্যাংকের সুনাম ক্ষুন্ন করা হচ্ছে- অপরদিকে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা কর্মীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে আরও বড় অনিয়মকে লালন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ এখনই করা না হলে, অনিয়মের চর্চা একদিকে গ্রামীণ ব্যাংককে যেমন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে- অপরদিকে গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারিদের ন্যায্য পাওনা বন্ধ করে রেখে 14 হাজার অবসরকারিদেরকে সরকার ঘোষিত সামাজিক সুরক্ষার বাহিরে ঠেলে ধরে রেখেছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারিদের ন্যায্য পাওনা আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর 2021 এর বোনাস পেতে সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ 14 হাজার অবসরাকারি কামনা করছে।