সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখা নবজাতক মহারাজের দত্তক পেলেন শিক্ষক দম্পতি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে সাতক্ষীরা শিশু আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান শিশুটিকে ওই শিক্ষক দম্পতির হাতে তুলে দেওয়ার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মোজাম্মেল হক রাসেল বলেন, সাতক্ষীরা শিশু আদালতের এ সংক্রান্ত একটি চিঠিও পৌঁছেছে দত্তকগ্রহীতা তালা উপজেলার রাঢ়ীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা রাণী চৌধুরী ও তার স্বামী যশোরের সাগরদাঁড়ি কারিগরি ও বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক বরুন কুমার পালের হাতে।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, যেহেতু সদ্যজাত ছেলে শিশুটিকে কালীগঞ্জের গোলখালী শ্মশানের কাছে পাওয়া গেছে, সেহেতু শিশুটি হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারের বলে অনুমিত হয়। এই বিবেচনায় ২৯টি আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে সামাজিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য দৃষ্টিকোণ থেকে আদালত শিশুটির মঙ্গলার্থে ওই শিক্ষক দম্পতিকে দত্তক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শিশুটি এখনও হাসপাতালে রয়েছে। তার বয়স মাত্র ১০ দিন।
গত ৪ অক্টোবর কালীগঞ্জ উপজেলার গোলখালী শ্মশানের কাছে একটি গাছে ব্যাগে করে এক নবজাতককে কে বা কারা ঝুলিয়ে রেখে যায়। স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে শিশুটিকে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে ও পরে কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করে। স্থানীয়রা ফুটফুটে ওই ছেলে শিশুর নাম রাখে মহারাজ। শিশুটিকে দত্তক পেতে ২৯টি আবেদনপত্র জমা পড়ে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক রাসেল জানান, তার নেতৃত্বে গঠিত শিশু কল্যাণ বোর্ড শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য আবেদন আহ্বান করে। এ সব আবেদন সাতক্ষীরা শিশু আদালতে পাঠানো হয়।
শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য নয়টি শর্ত দেওয়া হয়। সেগুলোর অন্যতম- যিনি শিশুটিকে দত্তক নেবেন তিনি ওই শিশুর নামে গ্রামে বসবাস করলে ৫০ শতক, আর শহরে বসবাস করলে ১০ শতক জমি দেবেন; শিশুটির নামে ব্যাংকে ৩০ লাখ টাকা ৬ মাসের মধ্যে এফডিআর করবেন; দত্তক গ্রহণকারী পিতা-মাতার সম্পত্তির অংশীদার হবে শিশুটি; তাকে অনার্স-মাস্টার্স পর্যন্ত পড়াতে হবে; ওই দম্পতি দ্বিতীয় কোনো শিশু দত্তক নিতে পারবেন না; শিশুটিকে নিজ সন্তানের মতো দেখভাল করতে হবে এবং ওই শিশুটিও পালক পিতা-মাতার দেখভাল করবে ইত্যাদি।