উচ্চ আদালতের আদেশের পর বরিশালের বাকেরগঞ্জে ৬ বছরের কন্যা শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার চার নাবালক শিশু আসামিকে স্ব স্ব বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাধবী রায়ের এসি মাইক্রোবাস যোগে ওই চার শিশুকে বাকেরগঞ্জের রুনশী গ্রামে নিয়ে আসা হয়। পরে স্বজনদের হাতে শিশুদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
চার শিশু হলো, সাইদুল ইসলাম, সোলাইমান ইসলাম তামিম, হাফিজুল ইসলাম লাবিব, শাওন হাওলাদার। এদের সকলের বয়সই ছয় থেকে নয় বছর।
অভিযুক্ত শিশু সুলায়মান হাওলাদার তামিমের বাবা আ. ছালাম হাওলাদার জানান, যারা আমাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে তাদের বাড়ি থেকে পাকা রাস্তায় উঠার জন্য নিজস্ব রাস্তা থাকলেও সমস্ত পুরুষ মাহিলা আমাদের বাড়ির ভিতর থেকে পথ বানিয়ে যাতায়াত করলে আমাদের বাড়ির লোকজন বাধা প্রদান করলে শত্রুতার সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের ঘায়েল করতেই মূলত এ ঘটনার সুত্রপাত ঘটে।
এদিকে ধর্ষণের শিকার শিশু চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থাকার কারণে তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় বলেন, আমরা উচ্চ আদালতের নির্দেশ ও বরিশাল জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন হবে।
বাকেরগগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম জানান, ডাক্তারদের প্রাথমিক রিপোর্ট এবং শিশু কন্যার পিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা নিয়ে তাদের গ্রেফতার করে আদালতের কাছে সোপর্দ করেছি। চূড়ান্ত তদন্ত শেষে সবকিছু পরিস্কার হবে।
এর আগে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহষ্পতিবার দিবাগত রাতে বরিশালের শিশু আদালত চার চার শিশুকে জামিন দেয়। এরপর রাতেই বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের সহকারি পরিচালককে তাদের মুক্তির জন্য মেইলে বার্তা প্রেরণ করেন। যে বার্তা অনুযায়ী বৃহষ্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এসি মাইক্রোবাস যোগে চার শিশুকে নিয়ে বরিশালের বাকেরগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
প্রসঙ্গত, বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের রুনসী গ্রামে খেলার ছলে শিশু কন্যা ধর্ষণের অভিযোগে গত ৬ অক্টোবর বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের পর চার শিশু আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৭ অক্টোবর তাদের আদালতে প্রেরণ করলে আদালতের বিচারক তাদের যশোরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরনের নির্দেশ দেন। ৯ অক্টোবর উচ্চ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রাত ১০টায় তাদের জামিনের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশ দেন এবং শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে এসি মাইক্রোবাসে করে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। গনমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারের পর বিচারপতি মোঃ মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আসার পর এমন আদেশ দেয়া হয়। এছাড়াও হাইকোর্ট ঐ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে আগামী ১১ অক্টোবর তলব করেন। একই সঙ্গে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ঐ ৪ শিশুকে তাদের অভিভাবকসহ ঐ দিন আদালতে হাজির থাকতে বলেছেন। পাশাপাশি বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে একই দিন সাড়ে ১০টার মধ্যে ভিকটিম শিশুর ধর্ষণ সংক্রান্ত মেডিকেল রিপোর্ট হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে। চার শিশুকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ প্রদানকারী বরিশাল বাকেরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকেও ঐদিন হাজির হতে বলেছে হাইকোর্ট। এরপরই হাইকোর্টের স্পেশাল অফিসার মোঃ সাইফুর রহমান উচ্চ আদালতের ঐ আদেশ বরিশালের শিশু আদালতের বিচারক, জেলা প্রশাসক, বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সংশ্লিষ্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও বাকেরগঞ্জ থানার ওসিকে টেলিফোনে অবগত করেন।