টেলিযোগাযোগ খাতকে সেবার খাত হিসেবে বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআইয়ের জেনারেল বডির মেম্বার ও বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলু বলেন-আমার টাকায় কেনা জিবি বা মিনিটের মেয়াদ থাকবে কেন? এগুলো কি পঁচনশীল দ্রব্য। বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এই কথা বলেন ।
বুলু আর বলেন, বর্তমান বিশ্বে টেলিকম খাত মানুষের জীবনযাত্রাকে বদলে দিয়েছে। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি থেকে শুরু করে সরকারি সেবাও এখন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশও ডিজিটাল উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। “ডিজিটাল বাংলাদেশ” থেকে “স্মার্ট বাংলাদেশ” গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে টেলিকম খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রামের মানুষও এখন মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন শিক্ষা ও ই-সেবার সুবিধা পাচ্ছে।
তবে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। ইন্টারনেটের অপব্যবহার, ভুয়া তথ্য প্রচার ও সাইবার অপরাধ থেকে তরুণ সমাজকে সচেতন থাকতে হবে। প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে ব্যবহার করাই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
বিশ্ব টেলিকম দিবসে আমরা এমন একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও নিরাপদ সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করি, যেখানে প্রযুক্তির সুফল দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।।
বুলু আরো বলেন, মুঠোফোন সেবা থেকে মোবাইল অপারেটরগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে যে আয় করে তার ১০০ টাকার মধ্যে ৫৬ টাকাই সরকার কর ও ফি বাবদ নিয়ে নেয়। অতীতের সরকারগুলো টেলিযোগাযোগকে নির্ভিঘ্নে রাজস্ব আয়ের একটি বড় খাতে পরিণত করেছে। বিগত দুই দশকের জনবিচ্ছিন্ন সরকারগুলোও মুঠোফোন সেবার দাম কমানো এবং মানোন্নয়নে জোর না দিয়ে রাজস্ব আদায়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। বাংলাদেশে মুঠোফোন সেবার ৫৬ শতাংশ সরকারি তহবিলে দিতে হলেও এর বৈশ্বিক হার ২২ শতাংশ আর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ২৫ শতাংশ। আমরা সরকারকে আহ্বান করবো, সরকার যেন আগামী বাজেটে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশেও রাজস্ব আদায় নয় মুঠোফোন সেবার মানোন্নয়নে ব্যাপক জোর দেয়।