ঢাকা, রবিবার, ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুলিতে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে দেয়ার দাবি

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারায় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

রোববার দুপুর আড়াইটায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডা. জাফরুল্লাহ এবং নিহতের পরিবারে খোঁজ খবর নেন।

এ সময় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রশ্ন করেন, বাঁশখালীতে কিভাবে এ ঘটনার সৃষ্টি হলো? ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া কিভাবে পুলিশ শ্রমিকদেরকে গুলি করলো?

তিনি বলেন, যারা নিহত হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লাখ টাকা করে দিতে হবে। তাদের পরিবারের সদস্যদের চাকরি নিশ্চিত করতে হবে। বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি।

তার সঙ্গে ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, মুক্তিযোদ্ধা ইসতিয়াক আজিজ, রাষ্ট্রচিন্তার অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, গণস্বাস্থ্যের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান, শাহেদুল ইসলাম, মো. নাছির, মোজ্জাফর আহমদ, মো. হাসান মারুফ, ছৈয়দুল আলম, মো. হাশেম, ফরিদ আহমদ, সেলিম নুর, মো. নাছির, হাজি নবী হোসেন, দিদারুল ইসলাম, মো. জাবেদ, মুক্তার আহমদ প্রমুখ।

আরও পড়ুন: পাঁচ বছর পর ফের রক্ত ঝরলো বাঁশখালীর গণ্ডামারায়

এর আগে তারা প্রথমে গণ্ডামারা এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের ফটকের সামনে এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের চিফ কো–অর্ডিনেটর ফারুক আহমেদ, বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সফিউল কবিরসহ দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেন।

তারা গণ্ডামারা, চাম্বল বাংলাবাজার ও শীলকূপ এলাকার ২ শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন। ঘটনাস্থল ঘুরে পরে গণ্ডামারার পূর্ব বড়ঘোনায় নিহত মাহমুদ রেজা মিয়াখানের বাড়িতে যান। সেখানে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

গত ১৭ এপ্রিল সকালে গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হন। আহত হন প্রায় ৩০ জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ও ২১ এপ্রিল আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মামলা হয়েছে দুইটি।

আরও পড়ুন: বাঁশখালীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, গুলিতে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে-বিপক্ষের লোকজন ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে দুই ভাইসহ চারজন নিহত হয়েছিল। সেই ঘটনায় আহত হয়েছিল ১১ পুলিশসহ অন্তত ১৯ জন। সেখানে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল স্থানীয়দের একটি পক্ষ। ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য এসএস পাওয়ার লিমিটেড ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পর তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছিল।

এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার লিমিটেড ও চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগে ২৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হচ্ছে। ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ ভবনে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছিল, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য গন্ডামারা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমি কেনা হয়েছে।

এই প্রকল্পের ৭০ শতাংশের মালিকানা থাকবে এস আলম গ্রুপের ছয়টি প্রতিষ্ঠানের। অবশিষ্ট ৩০ শতাংশের মধ্যে সেপকো ২০ শতাংশ এবং চীনের অপর প্রতিষ্ঠান এইচটিজি ১০ শতাংশের মালিক হবে। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর কেন্দ্রটিতে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনও উৎপাদনে যেতে পারেনি তারা।