ঢাকা, বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবিধানে বর্নিত মৌলিক নীতি ও স্বাধীনতার 50 বছর পর তার বাস্তবায়ন:

প্রতিবেদক: মো: আব্দুল হাই।

সংবিধানে বর্নিত মৌলিক নীতি ও স্বাধীনতার 50 বছর পর তার বাস্তবায়ন:

সংবিধানে বর্নিত মৌলিক নীতি ও স্বাধীনতার 50 বছর পর তার বাস্তবায়নের আওতায় আসা জনগন নিয়ে পর্যালোচনা করা সময়ের দাবি। স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল বিভিন্ন কারনে- তার মধ্যে অন্যতম হলো- দেশের সকল মানুষ দেশের প্রচলিত সকল সুবিধা স্ব-স্ব অবস্থান থেকে ভোগ করবে- কেহই বাদ পড়বে না। দেশ আজ উন্নত রাষ্ট্রে উপনীত হওয়ার জন্য অগ্রসরমান। দেশের মানুষও সে পথে আগোয়ান। তবে সব মানুষকে উন্নত রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা ও চিন্তা রাষ্ট্রের থাকলেও এর অর্জনকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পর্যালোচিত পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে দেশের সকলে কাজ করলেই কেবল স্বাধীনতার চুড়ান্ত ফলাফল সকলের দোরগোড়ায় পৌছানো যাবে। তাই প্রথমে দেশের মানুষের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে একটু আমরা আলোকপাত করতে চাই।

মানবতার মা, চ্যাম্পিয়ন অব দি হিউম্যানিটি, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ আজ ক্রমাগতম অগ্রসরমান ও উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে উপনীত হওয়ার পথে। যার পরিসংখ্যান বিশ্বের সকল প্রতিষ্ঠানের নথিপত্রে উজ্জল নক্ষত্রের মত জ্বল-জ্বল করছে। দেশের সকল মানুষ আশা করছে- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুচিন্তিত নেতৃত্বে দেশ অবশ্যই অতি অল্প সময়ের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে উপনীত হবে। তবে দেশের সকল মানুষকে সেই উন্নত রাষ্ট্রের সুবিধা প্রদান করতে হবে- যা একটি অলিখিত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধান (1972 সালের আইন নং), ভাগের নাম II অনুসারে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা সংক্রান্ত মৌলিক নীতি : জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা

 এই অংশে বর্ণিত নীতিগুলি বাংলাদেশের পরিচালনার জন্য মৌলিক হবে, আইন তৈরির ক্ষেত্রে রাজ্য প্রয়োগ করবে, সংবিধান বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যার জন্য গাইড হবে, এবং রাজ্য নাগরিকদের কাজের ভিত্তি গঠন করবে তবে বিচারিকভাবে প্রয়োগযোগ্য হবে না।

জাতীয়তাবাদ : বাঙালি জাতির ঐক্য সংহতি, যে ভাষা এবং সংস্কৃতি থেকে তার পরিচয় অর্জন করেছিল, স্বাধীনতা যুদ্ধে সংঘবদ্ধ সুনির্দিষ্ট সংগ্রামের মাধ্যমে সার্বভৌম স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করেছিল, তা বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হবে।

এ বিষয়টির পর্যালোচনায় পাওয়া যায়-

বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতির অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভাষা এবং সংস্কৃতিকে বাঙালি জাতি মূল জায়গায় রাখতে পারছে না- যার ফলে এক্ষেত্রে অর্জনকেও অগ্রসর করার গতি মন্থর হয়ে গেছে। স্থান-কাল-পাত্র ভেদে হরহামেশা বিদেশি ভাষার ব্যবহার ও বাঙালি সংস্কৃতিতে বিদেশি সংস্কৃতির অধিক চর্চার কারনে বাঙালি জাতি তার ভাষা ও সংস্কৃতিতে যথাযথ অগ্রসর হতে পারছে না।

দেশের চিহ্নিত একটি অংশের বিদেশিদের সাথে হাত মিলানোর অপসংস্কৃতিও সাবভৌব ও স্বাধীনতাকে কোন কোন সময় নড়বড় করে দেয়। যার ফরে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি অধিক মজবুত করাকে তারা বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। আকাশ সংস্কৃতির সুবাধে দেশের মানুষ যেমন বিশ্বকে জানতে পারছে- একইভাবে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতিকে লালন করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

শোষণ থেকে সমাজতন্ত্র এবং স্বাধীনতার মুক্তি: মানুষের দ্বারা মানুষের শোষণ থেকে মুক্ত, ন্যায়বিচার সমতাবাদী সমাজের অর্জন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

এই অংশে মানুষের দ্বারা মানুষের শোষন আজ ভয়ংকর রূপ ধারন করেছে। খেটে খাওয়া, কম সম্পদের মানুষ, কম পুজির ব্যবসায়ি, কম বেতনের চাকরিজীবী, সাধারন কৃষক, শিল্পী-সংস্কৃতির মানুষকে আজ যেভাবে শোষন করা হচ্ছে- তা সমাজের দিকে একটু মনোযোগ সহকারে তাকালে পরিস্কার হয়ে যায়। সমাজের একটা অংশের ত্বরিত অগ্রগতি সমাজকে সার্বিকভাবে অগ্রগতির পরিসংখ্যানে নাম লেখাচ্ছে। কিন্তু  খেটে খাওয়া, কম সম্পদের মানুষ, কম পুজির ব্যবসায়ি, কম বেতনের চাকরিজীবী, সাধারন কৃষক, শিল্পী-সংস্কৃতির মানুষ তার কর্ম হারালে চরম আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। শুধু তাই নয় বৃদ্ধ বয়সেও সমাজ তাদের জন্য কোন ব্যবস্থা করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। অথচ এরাই যৌবনে সমাজকে আগলে রাখে।

বিচারের দিকে তাকালে মনে হয় – বিচার শুধু টাকাওয়ালার। সাধরনের জন্য বিচার নয়। কারন আদালতপাড়ায় টাকার বাহাদুরি না দেখাতে পারলে – তার উক্ত পাড়ায় প্রবেশাধিকার নাই। তাই বিচারের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা দেশের কম সংখ্যক মানুষকে বিচারের সেবা দিয়েই তৃপ্তির ঢেকর গিলছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষর জন্য বিচারিক সেবার কথা তার বেমালুম ভুলে গেছে।

সমতাবাদি সমাজের দিক থেকে বিশ্লেষনে দেখা যায়- একশ্রেণীর মানুষ দেশের সকল সম্পদ ও সেবা ভোগ করছে। অপরদিকে সংখ্যাগরিষ্ট দেশের মানুষ দেশের অনেক সম্পদ ও সেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত। সেক্ষেত্রে মৌলিক অধিকারগুলিকে সামনে আনলেই বিষয়টি দিনের আলোর মত পরিস্কার।

গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার: প্রজাতন্ত্র একটি গণতন্ত্র হবে যেখানে মৌলিক মানবাধিকার এবং স্বাধীনতা এবং মানব ব্যক্তির মর্যাদাবোধ ও সম্মানের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করা হবে এবং প্রশাসনে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণের গ্যারান্টি দেওয়া হবে যা সমস্ত স্তরে নিশ্চিত করা হবে।

গনতন্ত্র সম্পর্কে নানাহ মতবাদ থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র একটি রূপ ধারন করেছে। যার ব্যাখ্যা করা কঠিন কাজ। কারন- যাদের হাতেই এই গণতন্ত্র দেশের মানুষ পরিচালনার জন্য দিয়েছে- তারা ব্যক্তিগতভাবে তা শুধু নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তাইতো দেশের গণতন্ত্র চর্চায় দেশের অধিকাংশ মানুষ অনিহা প্রকাশ করছে। তার প্রকৃষ্ট উদাহরন- যে কোন নির্বাচনে ভোটারের অংশগ্রন কমে যাওয়া। এটা শুধুই যে একটি দলের বিষয় তা নয়- দলমত, ধর্মিয়, সামাজিক সকল দিক থেকেই গণতন্ত্র চর্চাকে ব্যক্তি স্বার্থে করা হচ্ছে। যার ফলে দেশের মানুষকে গণতন্ত্রের অগ্রগাতিতে সামিল হতে দেখা যাচ্ছে না।

মানবাধিকার বিষয়টি নিতান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। একজন মানুষ তার অধিকার প্রতিষ্টিত করতে অন্যের অধিকারকে হরণ করবে –যা অপ্রত্যাশিত। কিন্তু আজ সমাজে তাই হচ্ছে। এখানে ব্যক্তি যেমন নিজের মানবাধিকার নিয়ে ব্যস্ত, অন্যের অধিকার হরণ করতে ব্যস্ত, তেমনি সমাজ সে ক্ষেত্রে কোন সফলতার চিহ্ন রাখতে পারছে না- যার ফলে রাষ্ট্রও কোন ভাল ফল দেখাতে পারছে না।

স্বাধীনতার বিষয়টির উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন।কারন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যারা কাজ করেছে, যারা জীবন দিয়েছে, যারা নিজের সভ্রম রাখতে পারে নাই- তাদের প্রতি সম্মান দেখাতে অবশ্যই স্বাধীনতার চর্চা করা প্রয়োজন। তবে সমাজে আজ নিজের স্বাধীনতা নিয়ে ব্যক্তি ব্যস্ত- অপরের স্বাধীনতাকে ব্যহত করতে ব্যস্ত। যেখানে আমাদেরকে ভিষন ব্যথিত করে। কারন যে স্বাধীনতার জন্য এত ত্যাগ আর আজ তার অপব্যহার সত্যিই দু:খজনক।

মর্যাদা ও সম্মান মানুষকে দেওয়া আদিম প্রথা। সেটা নিতান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবেও এর ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তির আচরনটাই এক্ষেত্রে বেশি প্রধান্য পায়। যেখানে ব্যক্তি আজ তার স্বার্থ রক্ষা করতে যেয়ে অপরকে মর্যাদা ও সম্মান দিতে অক্ষম হয়ে যাচ্ছে। যা সমাজকে কলুষিত করছে।

নির্বাচিত প্রতিনিধির বিষয়টি আজ মানুষের কাছে একেবারে অগ্রহনযোগ্য হয়ে গেছে। কারন টাকা না থাকলে সে নির্বাচিত হতে অংশগ্রহন করতে পারছে না। যা সকল দলের অভ্যন্তর থেকে চর্চা করা হচ্ছে। ফলে সাধারন মানুষ নির্বাচন ও এর সুফল ভোগের বিষয়টি চিন্তা থেকে ফেলে দিয়েছে। মুস্টিমেয় কিছু টাকাওয়ালা মানুষ এই নির্বাচন নিয়ে খেলছে- তাদের ইচ্ছেমত।

ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মের স্বাধীনতা :  

 ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মের স্বাধীনতার বিয়টি আদিকাল থেকেই নানাহভাবে প্রচলিত হয়ে আসছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কম জানা মানুষেরা এবিষয়টিকে সব সময়ই বিতর্কিত করে আসছে। যাকে আবার সমাজ ও রাজনীতি কোন কোন সময় সহায়তা দেয়। যার ফলে সমাজে শান্তি বিনষ্ট হয়। সকল ধর্মেই শান্তির কথা থাকলেও – সে শান্তি নিজেরাই নষ্ট করে অপরের কাধে দোষ চাপাচ্ছে। যার কুফল সমাজ সবসময় বহন করে আসছে। শান্তিকে অগ্রাহ্য করে ধর্মের ক্ষেত্রে ব্যক্তির মতবাদকেই সমাজে শান্তি নষ্ট করে। সার্বিকভাবে ধর্মের পালনেই সমাজ শান্তিতে থাকতে পারে। সমাজে যতটুকু শান্তি আছে তা ধর্মের সঠিক ব্যবহারের কারনেই আছে। ধর্মের সঠিক ব্যবহার কমলেই সমাজে আরও বিশৃংখলা দেখা দিবে। তাই ধর্মের মূল নীতি শান্তিকে প্রধান্য দিয়ে ধর্মের ব্যবহারই সমাজাকে সকল ক্ষেত্রে অগ্রগাতিতে সহায়তা দান করতে পারে।

মালিকানা নীতি: জনগণ উত্পাদন বিতরণের উপকরণ সরঞ্জামের মালিক বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, এবং এর শেষ দিকে মালিকানা নিম্নলিখিত ফর্মগুলি গ্রহণ করবে

 () রাষ্ট্রের মালিকানা, অর্থনীতির মূল সেক্টরকে গ্রহণ করে একটি দক্ষ গতিশীল জাতীয়করণযোগ্য সরকারী ক্ষেত্র তৈরির মাধ্যমে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের মালিকানা;

 রাষ্ট্রর মালিকানার চেয়ে বড় বিষয় আজ হয়েছে এর সুবিধা দেশের সকল মানুষের পাওয়া। রাষ্ট্রের মালিকানার সকল সুবিধা সকল মানুষকে সমানভাবে প্রদানে আরও সক্রিয় হতে হবে।

 () কোঅপারেটিভ মালিকানা, এটি আইন অনুসারে নির্ধারিত সীমার মধ্যে তাদের সদস্যদের পক্ষে সমবায় কর্তৃক মালিকানা; এবং

 কো-অপারেটিভ মালিকানাতেও নেতা রয়েছে। নেতার সামাজিক, আর্থিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারনে এর সাধারন সদস্য সকল সুবিধা থেকে বরাবরেই বঞ্চিত।

 () ব্যক্তিগত মালিকানা, এটি আইন দ্বারা নির্ধারিত যেমন সীমাগুলির মধ্যে ব্যক্তিদের দ্বারা মালিকানা।

সাধারন মানুষের ব্যক্তি মালিকানার সম্পদ, পেশা, জ্ঞান ধরে রাখতে হলে দেশের আইনের শাসন আরও সক্রিয় হতে হবে। চলমান পরিস্থিতিতে সাধারন মানুষ তার সম্পদ, পেশা, জ্ঞানের সুফল পুরোপুরি ভোগ করতে পারছে না।

কৃষক শ্রমিকদের মুক্তি। শ্রমজীবী ​​কৃষকশ্রমিক এবং পিছিয়ে পড়া জনগণকে সকল প্রকারের শোষণ থেকে মুক্তি দেওয়া রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হবে।

কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি সবার কাছে গ্রহনযোগ্য একটি বিষয়। কিন্তু তা মৌখিক। বাস্তবে অধিাকংশ কৃষক ও শ্রমিক তার ন্যায্য পাওনা থেকে আজও বঞ্চিত। সমাজের অগ্রগতির পাশাপাশি কৃষক ও শ্রমিকের অগ্রগতি খুবই মন্থর।

মৌলিক প্রয়োজনীয়তা সরবরাহ

মৌলিক প্রয়োজনীয়তা মানুষ নিজে গ্রহন করত না পারলে সমাজ ও রাষ্ট্র সেখানে কাজ করবে। তবে চলমান সমাজে অধিকাংশ মানুষ তার মৌলিক প্রয়োজনীয়তা ভোগ করতে পারছে না – তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্র তার সঠিক দায়িত্বও পুরোপুরি পালন করতে পারছে না।

 ১৫. নাগরিকদের সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশ, উত্পাদনশীল শক্তির একটানা বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানসিক সাংস্কৃতিক মানের ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হবে

 এসব বিষয় যাদের হাতে- সে সব ব্যক্তি কখনো চায় না – তারা বর্নিত বিষয়ের নেতৃত্ব থেকে সরে যাবে। যার ফলে নেতৃত্বস্থানীয়দের সুবিধা রেখে তার কাজ করে। ফলে নাগরিকদের সুরক্ষিত করা লক্ষ্যে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশ, উত্পাদনশীলতা শক্তির একটানা বৃদ্ধি এবং জনগনের জীবনযাত্রার মানষিক ও সাংস্কৃতিক মানের ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব পালনে এসব কুশিলবদের কাজ বাধার সৃষ্টি করছে।

 () খাদ্য, পোশাক, আশ্রয়, শিক্ষা এবং চিকিত্সা যত্ন সহ জীবনের প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তা সরবরাহ;

 খাদ্য, পোষাক, আশ্রয়, শিক্ষা এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি স্বত্বেও সকলকে এর আওতায় আনা এখনও সম্ভব হয়নি। যার জন্য সকলকে আরও কাজ করতে হবে।

 () কাজের অধিকার, কাজের পরিমাণ এবং গুণমান বিবেচনা করে যুক্তিসঙ্গত মজুরিতে গ্যারান্টেড কর্মসংস্থানের অধিকার;

 কাজের অধিকার, কাজের পরিমান এবং গুনমান বিবেচনা করে যুক্তিসঙ্গত মজুরিতে গ্যারান্টেড কর্মসংস্থানের অধিকারকে প্রতিষ্টিত করা সম্ভব হয়নি। তবে অগ্রগতি হয়েছে।

 () যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন এবং অবসর গ্রহণের অধিকার; এবং

 

 যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন এবং অবসরের বিষয়টি ব্যক্তি গায়ের জোরে ব্যবহার করছে। সামাজে বা প্রতিষ্ঠানে বা রাষ্ট্রে সে সুযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 () সামাজিক সুরক্ষার অধিকার, অর্থাত্ বেকারত্ব, অসুস্থতা বা অক্ষমতার কারণে বা বিধবা বা এতিম বা বৃদ্ধ বয়সে বা অন্য কোন ক্ষেত্রে দুর্ভোগের কারণে উদ্ভূত অনর্থ্যদের ক্ষেত্রে জনসাধারণের সহায়তার অধিকার বলতে হবে।

সামাজিক সুরক্ষার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, অসুস্থতা বা অক্ষমতার কারণে বা বিধবা বা এতিম বা বৃদ্ধ বয়সে বা অন্য কোন ক্ষেত্রে দুর্ভোগের কারণে উদ্ভূত অনর্থ্যদের ক্ষেত্রে জনসাধারণের সহায়তার অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতাই জ্বল জ্বল করে। চরম ব্যর্থতাই এক্ষেত্রে অগ্রগতি ম্লান করে রেখেছে।

পল্লী উন্নয়ন কৃষি বিপ্লব 16 কৃষিক্ষেত্রের প্রচার, পল্লী বিদ্যুতায়নের বিধান, কুটির এবং অন্যান্য শিল্পের উন্নয়ন, এবং শিক্ষা, যোগাযোগ জনস্বাস্থ্যের উন্নতির মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলে আমূল পরিবর্তন আনার জন্য রাজ্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই অঞ্চলগুলি, যাতে শহুরে এবং গ্রামীণ অঞ্চলের মধ্যে জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য দূর করার জন্য ক্রমবর্ধমান।

পল্লী উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের বা পল্লীর মানুষ ও কৃষকদের যে অবদান এক্ষেত্রে রয়েছে- তার স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

বিনামূল্যে এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষা:

বিনামূল্যে এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষার যথেষ্ট অগ্রতি হলেও সকলকে এর আওতায় আনা জরুরী।

() আইনের দ্বারা নির্ধারিত পর্যায়ে সমস্ত শিশুদের জন্য অভিন্ন, গণমুখী সর্বজনীন শিক্ষার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা এবং অবাধ বাধ্যতামূলক শিক্ষার বিস্তৃতি;

এক্ষেত্রে কার্যক্রম একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

 () সমাজের প্রয়োজনের সাথে শিক্ষার সাথে সম্পর্কিত এবং সেই প্রয়োজনগুলি পরিবেশন করতে সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত অনুপ্রাণিত নাগরিক উত্পাদন;

 এক্ষেত্রে কার্যক্রম একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

 

 

() আইন দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা অপসারণ।

এক্ষেত্রে কার্যক্রম একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য এবং নৈতিকতা :

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অগ্রগতি সাধিত হলেও সকলকে এর আওতা আনা সম্ভব হয়নি। নৈতিকতা উন্নয়নের সাথে সাথে হ্রাস পাচ্ছে। যা সমাজের সার্বিক উন্নতিকে বাধাগ্রস্থ করছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সদইচ্ছার সুবাধে সার্বিকভাবে যথেষ্ট উন্নতি হলেও যারা সংশ্লিষ্ট সুবিধার বাইরে রয়েছে- তাদেরকে দ্রুত গতিতে সকল সেবার আওতায় আনতে পারলেই কেবল দেশ উন্নত রাষ্টের কাতারে নাম লেখাতে পারবে। যার জন্য মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতাদর্শকে লালন  করে বাস্তবায়ন করতে হবে – দেশের প্রতিটি মানুষকে। তবেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শ্লোগান “উন্নয়ন তবে কাউকে বাদ দিয়ে নয়” বাস্তবায়িত হবে- স্বাধীনতার সুফল সকলে ভাগভাগি করে ভোগ করা যাবে- দেশ সত্যিকারভাবে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে নাম লেখাতে পারবে।