ঢাকা, শনিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারীদের পক্ষ থেকে 2021-22 অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে বাস্তবভিত্তিক বাজেট হিসেবে স্বাগতম জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে 2021-22 বছরের 6 লাখ কোটি টাকার সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষনা করা হয়েছে।  বাজেটে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে অবসরকারী ও বয়োজেষ্ঠ্য মানুষ হিসেবে এক কোটি বিশ লাখ মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতার আনার বিষয়টিকে গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারীদের পক্ষ থেকে স্বাগতম জানানো হয়েছে।

তবে গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারীদের পক্ষ থেকে বাজেটের সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশ্লেষন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারীদের জন্য পুন:পেনশন বাস্তবায়ন না করে তাদেরকে সামাজিক নিরাপত্তার বাহিরে রাখার জন্য দু:খ প্রকাশ করা হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারীদের মতে দেশের এক কোটি বিশ লাখ মানুষকে প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার কথা থাকলেও – গ্রামীণ ব্যাংকের 14 হাজার বয়োজেষ্ঠ্য অবসরকারী এই সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় পড়ে না।

তবে প্রসংগত উল্লেখ করতে হয় যে, গ্রামীণ ব্যাংকের 14 হাজার অবসরকারী সরকারের প্রস্তাবিত বাজটের সামাজিক নিরপত্তার আওতায় আশার প্রত্যাশাও করে না। কারন গ্রামীণ ব্যাংকের এই 14 হাজার বয়োজেষ্ঠ্য অবসরকারী নিজেরাই নিজেদের সামাজিক নিরপত্তা পাওয়ার জন্য গ্রামীণ ব্যাংক সহ 54টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করেছে। শুধু অবসরকারীদের নিজেদের সামাজিক নিরাপত্তার জন্য গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে তা নয়- দেশের প্রত্যন্ত গ্রামের অবহেলিত এলাকার অতি দরিদ্র মানুষকে আজীবন সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার জন্য এই 14 হাজার অবসরকারী গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত করেছিল। যার সুবাধে আজ গ্রামীণ ব্যাংকে যেমন 8.4 মিলিয়ন দরিদ্র মানুষ তাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা গ্রহন করছে- তেমনি বিশ হাজারেরও বেশি সংখ্যক কর্মী গ্রামীণ ব্যাংকে বর্তমানে কর্মরত আছে। প্রসংগত উল্লেখ্য যে, এই 14 হাজার অবসরকারীদের যৌবনের ঘাম ঝরা পরিশ্রমের ফসল গ্রামীণ টেলিকম। বিশ্ব বিখ্যাত কোম্পানী গ্রামীণ ফোনের 32% শেয়ার অর্জন করেছে এই গ্রামীণ টেলিকম। এই গ্রামীণ টেলিকমের লাভের বিষয়টি নাইবা বিশ্লেষন করলাম। গ্রামীণ টেলিকম ছাড়াও আরও 53টি প্রতিষ্ঠানও এই 14 হাজার গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারীদের যৌবনের পরিশ্রমের ফসল। কিন্তু আজ এই 14হাজার অবসরকারী বৃদ্ধ বয়সে পারিবারের বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। শুধু তাই নয় সরকারী কোনরকম সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় এসব অবসরকারীদের জীবন আজ যুদ্ধের ময়দানের মত চ্যালেঞ্জ নিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। অথচ এই 14 হাজার অবসরকারীদের হাতেই গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আরও 54টি প্রতিষ্ঠান। যেখানে আজ হাজার হাজার মানুষ কর্মে নিয়োজিত।লাখ লাখ সদস্য গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ নিয়ে নিজেদের সামাজিক নিরাপত্তা নিজেরা তৈরি করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এসব বিষয় গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারীদের জন্য তৃপ্তির বিষয় হলেও একটি বিষয় এই 14 হাজার অবসরকারীদেরকে বিষিয়ে তুলেছে- তা হলো তাদেরই হাতে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক থেকে তাদের ন্যায্য পাওনা পুন:পেনশন সহ অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা।

এই 14 হাজার অবসরকারী যেমন সরকারের কোন সহায়তা প্রত্যাশা করে না- তেমনি তারা তাদের ন্যায্য পাওনা পুন:পেনশ সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে আদায় করতে বাধ্য হয়ে রাজপথে আন্দোলনে আছে। গ্রামীণ ব্যাংকের কতিপয় অসাধু, নিজ স্বার্থবাদী কর্মী ও গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ডের অসহযোগিতার কারনে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠাকারী এই 14 হাজার বয়োজেষ্ঠ্য অবসরকারী তাদের ন্যায্য পাওনা পুন:পেনশন সহ অন্যান্য সুবিধাদি থেকে বঞ্চিত হয়ে মাঠের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে।

মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষনার জন্য যেমন গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারীগন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছে- তেমনি মাননীয় অর্থমন্ত্রীর নিকট গ্রামীণ ব্যাংকের 14 হাজার অবসরকারীগন একটি অনুরোধও রাখছে। অনুরোধটি হলো-সরকারী প্রজ্ঞাপন অনুসারে 14 হাজার গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারী বয়োজেষ্ঠ্য মানুষগুলিকে পুন:পেনশন প্রদানের জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ডকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করার জন্য।

এর ফলে যেমন 14 হাজার অবসরকারী তাদের পরিবার পরিজন সহ সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এসে দেশের অগ্রগতিতে সাহায়ক ভূমিকা পালন করবে- অপরদিকে সরকারকে এই 14 হাজার অবসরকারীকে কোনরকম ভাতা বা সহায়তা প্রদান করতে হবে না।

 

জয় বাংলা                                                 জয় বঙ্গবন্ধু                                  জয় শেখ হাসিনা।