ঢাকা, সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সরকারি প্রজ্ঞাপনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকে অবসরকারিদের জন্য পুন :পেনশন বন্ধ করার পর কি কর্মরতদের সরকারি সকল সুবিধা বন্ধ হতে যাচ্ছে?

গ্রামীণ ব্যাংকে অবসরকারিদের জন্য সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে পুন:পেনশন বন্ধ করার পর কি কর্মরতদের সরকারি সকল সুবিধা বন্ধ হতে যাচ্ছে? এই প্রশ্নটি আজ গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মরত সকল কর্মী ও অবসরকারিদের মধ্যে বহুল আলোচিত বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে- বিশেষ করে কর্মরতদের মধ্যে বিশাল বড় সংখ্যার কর্মী বাহিনী বিষয়টি নিয়ে ভিষন চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন। সংগত কারনেই বিষয়টি নিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারি এবং কর্মরতগন চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন।

সময়ে সময়ে সরকার কর্তৃক প্রচারিত প্রজ্ঞাপন অনুসারে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মীদের জন্য ও অবসরকারিগনের জন্য সকল সুবিধা ভবিষ্যতে চিরতরে বন্ধের জন্য – বর্তমানে পুন:পেনশন নাম কস্তে বন্ধ করার নীল নকশা বাস্তবায়নের অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

গ্রামীণ ব্যাংক অর্ডিনেন্স অনুসারে সরকারের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য সময়ে সময়ে প্রচারিত সরকারি সকল নির্দেশনা/প্রজ্ঞাপন অনুসারে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মরত কর্মী ও অবসরকারিগন সকল সুবিধা ভোগ করবে। যে ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মচারী সমিতি তথা সকল কর্মী ও অফিসারদের মধ্যে একটা বড় ধরনের একতা বিরাজ করে আসছিল। যার ফলে সরকারি নির্দেশনা/প্রজ্ঞাপন অনুসারে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মরত কর্মীদের জন্য ও অবসরকারিদের জন্য সকল সুবিধা বাস্তবায়নের জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন এক হয়ে কাজ করে সকল সময় তাহা বাস্তবায়ন করার জন্য বোর্ড ও ম্যানেজমেন্টকে বাধ্য করে আসছে। প্রসংগত উল্লেখ্য অনেক সময়ই গ্রামীণ ব্যাংক সরকারি সুবিধা দিতে অনিহা প্রকাশ করেছে। কিন্তু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একতার সুবাধে গ্রামীণ ব্যাংক সকল সময়ের সরকারি সুবিধা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হয়েছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের অবসর আজ নতুন নয়। গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে অবসর শুরু হয়েছে। কারন অন্য ব্যাংক থেকে যারা গ্রামীণ ব্যাংকে ডেপুটেশনে এসে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অবসররে গেছে তারা  গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুতেই অবসরে গেছে। তখনও অবসরকারি ও কর্মরতদের মধ্যে একটি একতা ছিল যে, সকল ক্ষেত্রেই সরকারি প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়ন করতে হবে। যার ফলে অবসরকারিদের জন্য পেনশন সার্কুলার সরকারি নিয়ম মেনে প্রচার করতে গ্রামীণ ব্যংক বাধ্য হয়। এরই ধারা বাহিকতায় নানা সময় পে-স্কেল, লঞ্চভাতা, যাতায়াত ভাতা সহ সকল ক্ষে্ত্রে গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড তথা ম্যানেজনেন্ট গড়িমসি করলেও গ্রামীন ব্যাংকের অবসরকারি ও কর্মরতদের একতার কারনে বোর্ড তথা ম্যানেজমেন্ট সকল সময়ে তা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হয়।

বর্তমানে একটি মহল খুব সুক্ষভাবে ও চতুরতার সাথে গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারি ও কর্মরতদেরকে সরকারি সুবিধা থেকে চিরতরে বঞ্চিত করার নীল নকশা এটে বসেছে। সে্ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম অনুসারে পুন:পেনশ বাস্তবায়ন রোহিত করতে পারলেই পরবর্তীতে সকল ক্ষেত্রেই সরকারি সুবিধা থেকে গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মরত ও অবসরকারিদের বঞ্চিত করার নীল নকশা সহজেই তারা বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে – তাদের মধ্যে একটি অপকৌশলের বিশ্বাস জন্ম নিয়েছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও অভিজ্ঞ অবসরকারিগন বিষয়টি সম্পর্কে দিনের আলোতে পরিস্কার দেখলেও কর্মরত কিছূ অনভিজ্ঞ, অসচেতন, নিজ স্বার্থাবাদি ও গ্রামীণ ব্যাংকের অশুভাকাঙ্খী কর্মী বিষয়টিকে ধামা চাপা দিয়ে নিজের সুবিধা নিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে চলে যেতে ব্যস্ত। এসব বিপথগামি কর্মীগন চায় না যে গ্রামীণ ব্যাংকে চিরদিন সরকারি সুবিধা কর্মীদের জন্য বাস্তবায়ন হোক। শুধু তারা নিজ সুবিধা নিয় চলে গেলেই তাদের সারা। পরবর্তীতে কর্মীগন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলে তাদের কিছু যায় আসে না- এরকম একটি মূর্খতার পরিচয় এসব নিজ স্বার্থবাদী কর্মীগন বহন করে চলেছে। সেই সাথে গ্রামীণ ব্যাংকে ভবিষ্যতে সরকারি সুবিধা বাস্তবায়নের পথকে বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিতে চাচ্ছে। যার ফলে এসব নিজ স্বার্থবাদী কর্মীগন অবসরকারিদের পুন:পেনশনের বিরোধিতা করছে। মূলত: এখানে পুন:পেনশনের বিরোধিতা করা নয়- বরং গ্রামীণ ব্যাংকে চিরতরে সরকারি সুবিধা বাস্তবায়নের পথকে একে বারে বন্ধ করার অশুভ প্রায়তার।

নিজ স্বার্থবাদী এসব কর্মীদের অধিকাংশ অফিসার এবং তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে অবসরে যাবে। তাই তাদের এত অপকৌশল। কিন্তু যারা কর্মচারী তারা তো চিরদিন পর্যায়ক্রমে গ্রামীণ ব্যাংকে চাকরি করবে এবং পরবর্তীতে নিয়োগপ্রাপ্ত অফিসারগনও দীর্ঘ সময় গ্রামীণ ব্যাংকে চাকরি করবে- তাদের সময়ে সময়ে সরকার কর্তৃক প্রচারিত সুযোগ সুবিধা এমনকি পেনশনে যাওয়ার প্রাক্কালে ও পরে সরকারের সকল সুবিধা ভোগ করতে হবে। কিন্তু বর্নিত বিপথগামি ও নিজ স্বার্থবাদি কিছু কর্মী গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মীদের জন্য সকল সরকারি সুবিধা বন্ধ করে দিতে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রসংগত বর্নিত এসব বিপথগামি ও নিজ স্বার্থবাদি কর্মীগন কিছু মিথ্যা, মনগড়া ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে সরকারি সহ নানাহ মহলে গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারিদের জন্য পুন:পেনশন বন্ধ করতে ব্যস্ত। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের সকল কর্মীকে বুঝতে হবে একবার সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে সুবিধা না দিলে পরবর্তীতে সকল ক্ষেত্রে এই উদাহন দিয়ে সকল সরকারি সুবিধা বন্ধ করা হবে। মূলত: গ্রামীণ ব্যাংকের চলমান কর্মীদের ও অবসরকারিদের সরকারি সুবিধা বন্ধ করার অপকৌশল হিসেবে বর্তমানে পুন:পেনশন বন্ধ করার একটি নীল নকশা একটি সচতুর মহল এটে বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে।

অবসরকারিগন ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা কর্মীগন অনেক কষ্টে ও আন্দোলন করে চলমান কর্মী ও অবসরকারিদের জন্য সকল সরকারি সুবিধা বাস্তবায়ন করেছিল। এখন যেকোন ছুতা নিয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে একবার সুবিধা বন্ধ করে চিরতরে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মীদের জন্য ও অবসরকারিদের জন্য সকল সুবিধা বন্ধ করার পায়তারা করা হচ্ছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের চলমান কর্মীদের বিষয়টি সম্পর্কে ভুল বুঝানো হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ব্যাংকের চলমান গ্রামীণ ব্যাংক কর্মচারী সমিতি কর্মীদের শুভাকাঙ্খী না হয়ে বর্নিত নিজ স্বার্থবাদী কর্মীদের হাতে হাত মিলিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকে চিরতরে সরকারি সুবিধা বাস্তাবয়নের পথ বন্ধ করতে যাচ্ছে।

এখনও সময় আছে সকল অবসরকারিগন ও বর্তমান কর্মীগন এই নীল নকশার বিরুদ্ধে এক হয়ে দাড়াতে হবে। অবসরকারি ও কর্মরতগন এককন্ঠে ও এক সুরে চিৎকার করে বলতে হবে- গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মরত ও অবসরকারিদের জন্য সকল ক্ষেত্রে ও সকল সময় সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে সুবিধা দিতে হবে। কোন ক্ষেত্রেই এর ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না।