ঢাকা, সোমবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনায় জীবন-জীবিকা রক্ষায় ওয়ার্কার্স পার্টির ১২ দফা

চট্টগ্রাম: করোনা ভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জীবন ও জীবিকা রক্ষায় ১২ দফা দাবি উত্থাপন করেছে ওয়ার্কার্স পার্টি চট্টগ্রাম জেলা শাখা।

সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি চট্টগ্রাম জেলা শাখা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসাসেবার আওতা বাড়ানো, স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও জীবিকা নিশ্চিতকল্পে সরকারি সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) ওয়ার্কার্স পার্টি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু হানিফ ও সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌহান স্বাক্ষরিত এক যুক্ত বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে ওয়ার্কার্স পার্টির চট্টগ্রাম জেলার নেতারা বলেন, ২০২০ সালের মার্চ থেকে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি রপ্তানিসহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। যার সার্বিক প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের উপর। অনেক শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারান। পোশাক কারখানার শ্রমিকদের পাশাপাশি অন্য কল-কারখানার শ্রমিকদেরও আয় আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়।

এ অবস্থায় যখনই লকডাউন থেকে বেরিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হচ্ছিল তখনই আবারও সংক্রমণের হার অত্যন্ত বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে অপর্যাপ্ত আয়ের কারণে নিম্ন ও মধ্য আয়ের বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। তাদের পক্ষে দৈনন্দিন খাবার ও ওষুধের চাহিদা মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও জীবিকার ব্যবস্থা করতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি:

চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর জন্য বরাদ্দ শয্যা সংখ্যা বাড়ানো। সরকারিভাবে আইসোলেশন সেন্টার চালু করা। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর সেবাদানের জন্য শয্যা সংখ্যা বাড়াতে সহায়তা করা।

চট্টগ্রামে আইসিইউর শয্যা সংখ্যা বাড়াতে যে উদ্যোগ গতবছর নেওয়া হয়েছিল সেভাবে এবারও উদ্যোগ নেওয়া এবং দ্রুত তা বাস্তবায়ন করা। হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা এবং অক্সিজেন সিলিন্ডারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা।

জনসাধারণের প্রতি আহ্বান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, মাস্ক পরুন।

স্বাস্থ্যবিধি মানতে কঠোর নজরদারি রেখে অর্থনীতির গতি যাতে স্বাভাবিক থাকে সে পদক্ষেপ নেয়াও হোক।

চিকিৎসাসামগ্রী যেমন মাস্ক, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ এবং অক্সিজেনের মূল্য যাতে লাগামহীন না বাড়ে সে উদ্যোগ নেওয়া।

করোনা চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধে মনিটরিং জোরদার করা।
লকডাউন বাস্তবায়নে শ্রমজীবীদের কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার জন্য সরকারি গণপরিবহন চালু রাখা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা করতে বাধ্য করা।

সব ধরনের জনসমাগম বন্ধ রাখা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য করতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া।

দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখতে টিসিবির  মাধ্যমে খাদ্যপণ্য বিক্রির পরিমাণ ও আওতা বাড়ানো।

দরিদ্র, হতদরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের তালিকা করে নিয়মিত খাদ্য সহায়তা দেওয়া।

নিত্যপণ্যের বাজার সহনশীল রাখতে প্রয়োজনে সরকারিভাবে খাদ্যপণ্য আমদানি অব্যাহত রাখা। বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা।