ঢাকা, সোমবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জাতির পিতার জন্ম শত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সর্বকালের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতির উদ্দেশ্যে মার্চ 25, 2021 তারিখের তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ:

বঙ্গবন্ধু ও জাতির জনকের কন্যা বাংলাদেশের সর্বকালের সফল প্রধানমন্ত্রী তার স্বভাব-সুলভ বক্তব্যে বলেন ” আসুন সকল ভোদাভেদ ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে, আমরা বাংলাদেশেকে জাতির পিতার স্বপ্নে- উন্নত, সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলি।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন- স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব আরও বর্নময় হয়েছে এজন্য যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সরকার পরিচালনার শুরু করার পর বাংলাদেশ সম্পর্কে সকল নীত বাচক ও নিরাশাবাচক ভবিষ্যৎ বানী আজ অষাড় প্রমানিত হয়েছে, বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ আজ গর্বিত দেশ হিসেবে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে। একদশক আগেও বাংলাদেশকে যেখানে   দারিদ্রের আর অনুন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো আজ উন্নয়ন বিশেষজ্ঞগন সেই বাংলাদেশকেই দারিদ্র জয় ও উন্নয়নের আদর্শ মডেল হিসেবে তুলে ধরছে। তিনি আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে কয়েকটি সূচকের অগ্রগতির তথ্যও উপস্থাপন করেন। 2005-2006 বছরে মাথা পিছু আয় ছিল 543 মার্কিন ডলার, বর্তমানে  যা 2064 মার্কিন ডলারে উন্নিত হয়েছে, ঐ সময় দারিদ্রের হার ছিল 41.50% বর্তমানে দারিদ্রের হার কমে দাড়িয়েছে 20.50%, মানুষের গড় আয়ু 59 বছর থেকে বৃদ্ধি পেয়ে 2019-2020 অর্থবছরে দাড়িয়েছে 72.60 বছর, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ছিল 373 কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে 95,574 কোটি টাকা। বিদ্যুৎ সুবিধাভোগি জনসংখ্যা 47 ভাগ থেকে 99 শতাংশে উন্নীত হয়েছে।। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন সহ নানা অগ্রগতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রগতির বিষয়গুলি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার সরকার শুধু নীতি সহায়তা দিয়ে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে। এসব অর্জন এদেশের সাধারন মানুষের, এদেশের কৃষক-শ্রমিক, পেশাজীবী, আমাদের প্রবাসি ভাই-বোনেরা, এদেশের উদ্যক্তাগন তাদের শ্রম মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে দারিদ্র নিরাময়ের অসম্ভব কাজকে সম্ভব করেছে। সকলে প্রমান করেছে যে, বাংলাদেশের মানুষ অনুকুল পরিবেশ পেলে যে কোন অসম্ভকে সম্ভব করে তুলতে পারে। আমাদের বিগত 12 বছরে অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আর্থ সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। গত মাসে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরনে চুড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। গড় আয়ু, লিঙ্গ সমতা,  স্বার্বজনিন প্রাথমিক শিক্ষা, নারী শিক্ষা, নারীর রাজনৈতিক অধিকার খাদ্য প্রাপ্যতা ইত্যাদি নানা সূচকে বাংলাদেশ শুধু প্রতিবেশি দেশেগুলোর চেয়ে এগিয়ে যায়নি- অনেক উন্নত দেশকেও ছাড়িয়ে গেছে।আজকের এই উত্তরণের পথ মোটেও মসৃন ছিল না।দেশের ভিতরে ও বাইরে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধি শক্তি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করেছ, নানা অপতৎপরতা চালিয়েছে, সে প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে। কাজেই আমাদের সকলকে অতন্দ্র প্রহরীর মত ভূমিকা নিয়ে দেশ বিরোধি সকল অপতৎপরতা রুখে দাড়াত হবে। একসাগর রক্তের বিনিময়ে আমারা অর্জন করেছি আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা। প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে, শ্রমিক কারখানা ছেড়ে, কৃষক লাঙ্গল ছেড়ে, কামার-কুমার-জেলে তাদের কাজ ফেলে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। সশস্ত্র বাহিনী এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর বাঙালী সদস্যরা পাকিস্তানি পক্ষ ত্যাগ করে প্রতিরোধ সংগ্রামের সামিল হয়েছিল। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন। একবার ভাবুন আমরা আজ স্বাধীন দেশের মাটিতে মুক্ত নি:শ্বাস ফেলছি। তা অর্জনে শতশত তরুণ অকাতরে প্রান দিয়েছে, কত মা তার সন্তান হারিয়েছে, কত বাবা তার তার ছেলে হারিয়েছে, কত ভাই তার বোন হারিয়েছে, কত স্বামী তার স্ত্রী হারিয়েছে, কত সন্তানেরা তার বাবা হারিয়েছে, শতশত মুক্তিযোদ্ধা পঙ্গু হয়ে জীবন যাপন করছে ।তাদের একটাই প্রত্যাশা ছিল, এদেশ স্বাধীন হবে, এদেশের মানুষ সকলে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে, সকলে মৌলিক অধিকার ভোগ করবে। আজকে আমরা তাদের সেই প্রত্যাশা কিছুটা হলেও পুরণ করতে পেরেছি। সুবর্ণ জয়ন্তীর এই শুভক্ষনে আমাদের শপথ নিতে হবে, কেউ যেন আমাদের বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, দেশের গনতান্ত্রিক ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যহত করতে না পারে।

প্রিয় দেশবাসি, আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছি, তবে এই উদযাপন যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা স্বর্বস্ব না হয়, জাতির পিতার জন্ম শত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে আমাদের দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার নতুন করে সপথ নিতে হবে। এবারের স্বাধীনতা দিবস অন্যান্য বারের স্বাধীনতা দিবসের মত নয়, এবারের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি হলো, এই দিন আনন্দে অবগাহনের দিন। তিনি কবিগুর রবিন্দ্রনাথের ভাষায় বলেন-

আনন্দধ্বনি জাগাও গগনে।

কে আছ জাগিয়া পুরবে চাহিয়া,

বলো ’উঠ উঠ’ সঘনে গভীরনিদ্রাগমনে।।

হেরো তিমিররজনী যায় ঐ, হাসে উষা নব জ্যোতির্ময়ূ-

নব আনন্দে, নব জীবনে,

ফুল্ল কুসুমে, মধুর পবনে, বিহগকলকুজনে।।

সকলে ভাল থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলআমিন আমাদের সকলের সহায় হোন।

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

খোদা হাফেজ।