ঢাকা, সোমবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠাতা, বয়োবৃদ্ধ ও অবসরকারিদের শান্তিপূর্ন বিক্ষোভ কর্মসূচির উপর গ্রামীণ ব্যাংকের বিপথগামি বর্তমান ম্যানেজমেন্টের ভাড়াটিয়া বাহিনী দ্বারা নির্লজ্জ ও অগনতান্ত্রিক আক্রমন, সেই সাথে দেশের নিরপেক্ষ পুলিশ প্রশাসনকে অবসরকারিদের বিরুদ্ধে অপব্যবহারের অপচেষ্টা:

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা, মানবতার মা, আন্তজার্তিকভাবে নেতৃত্বের সুনামধারি, তিন-তিনবারের স্বার্থক প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের সকল মানুষের উন্নয়নের নেতা শেখ হাসিনা সামাজিক সুরক্ষার জন্য ইতিমধ্যে অন্যান্য কর্মসূচীর মধ্যে পুন:পেনশন প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করেছে। সে মোতাবেক দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংবিধিবদ্ধ সকল প্রতিষ্ঠান এই পুন:পেনশনের আওতায় সকল অবসরকারিকে এনে চলমান সুবিধা প্রদান করে আসছে।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান বিপথগামি ম্যানেজমেন্ট পুন:পেনশন আজও পর্যন্ত বাস্তবায়ন করে নাই। বরং সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে 50% এর পরিবর্তে 100% পেনশন স্যারেন্ডার চালু রেখে সমাজের একটি বিরাট সংখ্যক মানুষকে ক্রমাগতভাবে সামাজিক সুরক্ষার বাহিরে নিয়ে যাচ্ছে। যা সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রতি হুমকি।

যার ফলশ্রুতিতে গ্রামীণ ব্যাংকের 14 হাজার অবসরকারি তাদের ন্যায্য দাবি পুন:পেনশন আদায়ের জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রায় 4 বছর যাবত গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজমেন্টের সাথে আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, গ্রামীণ ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট নানাহ তালবাহনা করে পুন:পেনশন বাস্তবায়ন না করার অপচেস্টা অদ্যাবধি চালিয়ে যাচ্ছে।

এরফলে অবসরকারিগন তাদের পেশাগত ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য সুশৃংখল আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রধান কার্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে। সেখানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ্য ও ক্ষধার্ত প্রায় 4 হাজারের অধিক নারী-পুরুষ বয়োবৃদ্ধ অবসরকারি সমবেত হয়ে তাদের দাবির পক্ষে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। সে বিক্ষোভের সময় সরকারের পুলিশ প্রশাসন যেমন অবসরকারিদের প্র্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছে তেমনি সকল প্রিন্টিং ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া্ও অবসরকারিদের বিক্ষোভের সংবাদ ফলাও করে প্রচার করেছে।

এরপরও গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট পুন:পেনশনের বিষয়ে কোনরূপ পদক্ষেপ গ্রহন করে নাই। অবসরকারিগন বারংবার আলোচনার জন্য মৌখিকভাবে ও লিখিতভাবে প্রস্তাব দেওয়ার পরও ম্যানেজমেন্ট আলোচনায় বসছে না।

এপর্যায়ে অবসরকারিগন নিরুপায় হয়ে দেশের বিভাগিয় পর্যায়ে গ্রামীণ ব্যাংকের যোন সমুহে নানাহ শান্তিপূর্ন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে। যার ধারাবাহিকতায় অবসরকারিগন চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় গ্রামীণ ব্যাংকের  হরিপুর-চাপাইনবাবগঞ্জ শাখায় গত ফেব্রুযারী 26, 2021 তারিখে ডিএমডি জাহাঙ্গীর হাওলাদারের মুখোমুখি হয়। সেখানে জাহাঙ্গীর হাওলাদার পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে ওয়াদা করে যে, সে ঢাকায় ফিরে অবসরকারিদের সাথে আলোচনা করবে। কিন্তু কপট জাহাঙ্গীর ঢাকায় ফিরে নানাহ অপকৌশল গ্রহন করে অবসরকারিদের উপর হামলা পরিচালনা্ করছে এবং মামলা সহ নানাহ ধরনের হয়রানি করার জন্য কুটকৌশল বাস্তবায়ন করে চলেছে। আর আলোচনার পথ বন্ধ করে রেখেছে।

কিন্তু 14 হাজার অবসরকারি আজ ঐক্যবদ্ধ। তাদের দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে। যার ধারাবাহিকতায় গত 08(আট) মার্চ, 2021 তারিখে ময়মনসিংহের জেলা পরিষদে গ্রামীণ ব্যাংকের 4টি যোনের যোনাল ম্যানেজার ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে মিটিং চলাকালে অবসরকারিগন শান্তিপূর্ন বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সেখানেও গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট পুলিশ প্রশাসনকে বিক্ষোভকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অপচেষ্টা করে। কিন্তু বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের নিরপেক্ষ পুলিশ প্রশাসন সেই অপচেষ্টাকে সহায়তা না করে বিক্ষোভকারিদের সাথে আলোচনার পরামর্শ গ্রামীণ ব্যাংক ম্যানেজমেন্টকে প্রদান করে। যার ফলে গ্রামীণ ব্যাংকের উক্ত দিনের মিটিং বন্ধ করে দিতে হয়। একই দিনে যশোর জেলায় গ্রামীণ ব্যাংকের যোনাল অফিসের মিটিংও বন্ধ করে অন্য একজন ডিএমডি মুচলেকা প্রদান করে যে, সে ঢাকায় এসে প্রধান কার্যালয়ে অবসরকারিদের সাথে আলোচনায় বসবে। তবে এবারের মুচলেকাও আগের মত গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট অপব্যবহার করে আজও অবসরকারিদের সাথে কোন বৈঠক করে নাই। সর্বশেষ গত মার্চ 11, 2021 তারিখে বগুড়া শহরের গ্রামীণ ব্যাংকের যোনাল অফিসের সামনে নারী-পুরুষ সহ সকল অবসরকারিগন তাদের শান্তিপূর্ণ গনতান্ত্রিক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সেখানে গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট এলাকার গুন্ডাবাহিনী ভাড়া করে অবসরকারিদের শান্তিপূর্ন বিক্ষোভ কর্মসূচির উপর চড়াও হয়।এছাড়ার গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট সেখানেও দেশের নিরপেক্ষ পুলিশ প্রশাসনকে বিতর্কিত করার জন্য অবসরকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অপচেষ্টা করে। কিন্তু বর্তমান সরকারের পুলিশ প্রশাসন সেটা হতে দেয়নি। পুলিশ প্রশাসন এখানেও অবসরকারিদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য গ্রামীন ব্যাংকের ম্যানেজমেন্টকে পরামর্শ প্রদান করে।

অবসরকারিগন তাদের ন্যায্য পাওনা পুন:পেনশন আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ন বিক্ষোভ কর্মসূচি সহ নানাহ গনতান্ত্রিক পেশাগত অন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারাদ্ধ ও একতাবদ্ধ। সেক্ষেত্রে অবসরকারিগন আশংকা করছে যে, গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট তাদের ভাড়া করা গুন্ডা বাহিনী কর্তৃক বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষ অবসরকারিদের উপর হামলা ও আক্রমন চালাতে পারে। সেক্ষেত্রে অবসরকারিগন পুলিশ সহ সকলকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের অনুরোধ করছে।