ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

করোনার সময় শিক্ষার ক্ষতিকে পুষিয়ে নেওয়া প্রয়োজন:

বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থা বাংলাদেশে প্রভুত উন্নতি সাধিত হয়েছে। তবে করোনা মহামারিত অনাকাঙ্খিত শিক্ষার যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা শিক্ষার্থীর জন্য অপুরনীয়। যেসকল শিক্ষার্থী 2021 সালের এস.এস.সি বা এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী তারা মূলত: কোনরকম শিক্ষা ছাড়াই চুড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে যাচ্ছে।কারন একদিকে নাই ফরমাল ক্লাস অন্যদিকে বাসায়ও একনাগারে প্রায় এক বছর যাবত বসবাস করায় লেখা পড়ার প্রতি অনিহা সৃষ্টি হয়েছে। সরকার অনলাইনে শিক্ষার্থীকে শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করার সকল প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু দেশে অধিকাংশ শিক্ষার্থী গ্রামে বাস করায় তারা অন লাইনে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্তি হয়েছে। এছাড়াও অনেক শিক্ষার্থীর পরিবারে আর্থিক দৈন্যতা থাকার কারনেও শিক্ষা থেকে তাকে বিচ্যুত হতে হয়েছে।এভাবে যে সকল শিক্ষার্থী অন লাইন সহ বিভিন্নভাবে শিক্ষার সাথে যুক্ত আছে তাদের শিক্ষা পুরোপুরি গ্রহন করা হচ্ছে না আবার গ্রামের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারছে না। তাতে বড় সংখ্যার শিক্ষার্থী প্রকৃত শিক্ষা থেকে করোনার কারনে বিচ্যুত।যার ফলে জাতীয় শিক্ষায় ভিষন প্রভাব ফেলেছে।

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, দেশে ভ্যাক্সিন এসেছে, করোনা সম্পর্কে স্বাস্থ্য সচেতন অব্যাহত রয়েছে।যার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে সীমিত আকারে শিক্ষা প্রদানের প্রচেষ্টা অব্যাহতভাবে করে যাচ্ছে।কিন্তু শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে এনে পুরোপুরি শিক্ষা প্রদানের ‍উপযুক্ত পরিবেশ করতে যে সময়ের প্রয়োজন ও কর্মসূচী প্রয়োজন তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে উহা শিক্ষার্থীকে আর খানিকটা পথ পিছিয়ে দিবে। সেক্ষেত্রে এসময়ের শিক্ষার্থীগন অনেক খানি প্রকৃত শিক্ষা থেকে পিছনে পড়ে গেল। এই পিছনে পড়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের যথাস্থানে টেনে আনার জন্য সরকারের পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নে অপ্রতুল।

করোনা মহামারির সময়ের শিক্ষার্থীদের পরিবারের একদিকে শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যয় অব্যাহত রয়েছে অপরদিতে শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত শিক্ষা প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে। যা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের জন্য অপুরনীয় ক্ষতি।

প্রায় বছর পার হতে যাচ্ছে ক্লাস ছাড়াই শিক্ষার্থীকে বেতন প্রদান করতে হচ্ছে। সামনে অনেক পরিবার শি্ক্ষা ছাড়া বেতন প্রদানে অনিহা প্রকাশ করছে। কিন্তু কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই বেতনের বিষয়ে কোন রকম ছাড় দিতে রাজি নয়।

দেশের সকল ক্ষেত্রে সকল কর্মসূচী বাস্তবায়ন অব্যাহত রয়েছে।অফিস, আদালত, কৃষি ও কারখানা সহ দেশের সকল উন্নয়নমূলক কর্মসূচী চলমান। করোনার কারনে শুধু শিক্ষার গতিকে টেনে ধরে রাখতে বাধ্য হতে হয়েছে।

শিক্ষা ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই শিক্ষাকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে করোনার সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে আনা যায় তার একটি জোরদার কর্মসূচী এখনই গ্রহন করে বাস্তবায়ন করা উচিত।

দেশের নেতৃত্বে রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।যার নেত্বত্বে রয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা, মানবতার মা, ভূমি ও ‍গৃহহীনদের ভূমি ও গৃহ প্রদানে বিশ্ব খ্যাত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।যার কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী । শিক্ষার ক্ষেত্রেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারবে বলে দেশের মানুষ বিশ্বাস করে। সেক্ষেত্রে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদেরকে প্রধানমন্ত্রীর ইশারাকে বুঝে যথাযথ কর্মসূচী গ্রহন করে বাস্তবায়ন করলেই শিক্ষার করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে- দেশের সকল মানুষ বিশ্বাস করে।