ঢাকা, সোমবার, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভাসানচর নিয়ে আন্তর্জাতিক এজেন্সির সাপোর্ট পাচ্ছি: মোমেন

খাগড়াছড়ি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ভাসানচর নিয়ে আন্তর্জাতিক এজেন্সির সাপোর্ট পাচ্ছি। রোহিঙ্গারাও ভাসানচরে যেতে আগ্রহী।কুতুপালং এ কাজ করার সুযোগ ছিল না। তবে মিয়ানমারে তারা মাছ ধরা, কৃষিকাজসহ যে ধরনের কাজ করতো সে ধরনের কাজ তারা ভাসানচরে করতে পারবে। এতে সন্ত্রাসী হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সোমবার (১১ জানুয়ারি) সকালে রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক মুজিববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু অ্যাডভেঞ্চার উৎসব উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের একথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

দেশে রোহিঙ্গাদের জন্য চলমান কাজগুলো ক্ষণস্থায়ী জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কুতুপালং এ পাহাড় ধস হয়েছিল। মানুষ মারা গিয়েছিল। আমাদের ভয় সামনের মৌসুমগুলোতে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ২২/২৩ হাজার পরিবারকে ওখানে (ভাসানরচ) স্থানান্তর করবো। কুতুপালং এ কাজ করার সুযোগ ছিল না। তবে মিয়ানমারে তারা মাছ ধরা, কৃষিকাজসহ যে ধরনের কাজ করতো সে ধরনের কাজ তারা ভাসানচরে করতে পারবে। এতে সন্ত্রাসী হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রথমে আমরা ১৬৪২ জনকে ভাসানচরে নিয়ে গেছি। তবে তা অনেক দীর্ঘায়িত হয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সেখানে যেতে চায়নি। তারা ভাসানচরকে ভাসমান বলে ইস্যু করেছে। তবে আমরা মঙ্গল চাই বলে তাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

‘সাড়ে ৩ বছরেও একজন রোহিঙ্গাও ফেরত যায়নি। আমরা আশাবাদী তারা যাবে। তারা না গেলে আমাদের বিপদ। অনেক দিন ধরে এতগুলো মানুষ থাকলে নানা রকম ষড়যন্ত্র হবে। এদের মধ্যে যদি সন্ত্রাসী তৈরি হয় আমাদের জন্যও ক্ষতিকর মিয়ানমারের জন্যও ক্ষতিকর। এটি ভারত, চীন এবং জাপানও বুঝে। ’

ভাসানচরে যাওয়া রোহিঙ্গারা অন্য রোহিঙ্গাদের যেতে উৎসাহিত করছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শুরুতে ভাসানচর নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনীহা থাকলেও এখন যারা গেছে তারা অন্যদের যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে। যার কারণে আন্তর্জাতিক অনেক এজেন্সির সাপোর্ট পাচ্ছি। যে কেউ এসে দেখে যেতে পারবে। আপাতত ভাসানচরের ঘরবাড়িতে রোহিঙ্গাদের রাখা হবে।

করোনা ভ্যাকসিনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ভারতের ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই। তারা যেদিন ভ্যাকসিন পাবে, আমরাও সেদিন ভ্যাকসিন পাবো।

রাঙ্গামাটির মারী স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু অ্যাডভেঞ্চার উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি, রিজিয়ন কমান্ডার মো. ইফতেকুর রহমান, বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নিজামি, জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাছ্ছের হোসেন।

পাঁচ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু অ্যাডভেঞ্চার উৎসবে সারা দেশের ১০০ অংশগ্রহণকারী পর্বতারোহণ, নৌবিহার, কায়াকিং, হাইকিং ও ট্রেইল রান, টিম বিল্ডিংসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে। আগামী ১৫ ডিসেম্বর অ্যাডভেঞ্চার উৎসব শেষ হবে।