ঢাকা, সোমবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা: কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হোক

করোনা মহামারিতে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। প্রথম ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই শুরু হয়েছে কভিডের দ্বিতীয় ঢেউ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারিতে দেশের অর্থনীতির সব খাতে যে আঘাত লেগেছে, তা থেকে বের হতে অন্তত দুই বছর লেগে যেতে পারে। এ অবস্থায় প্রণীত হতে যাচ্ছে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। ধারণা করা যেতে পারে, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা কভিডকে গুরুত্ব দিয়েই সাজানো হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন একটা বড় সমস্যা। তাঁরা মনে করেন, প্রত্যেক পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অন্তর্বর্তী মূল্যায়ন প্রয়োজন। এতে বাকি দিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটা ধারণা পাওয়া যায়। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অনেক সংস্কার উদ্যোগ ছিল। সেগুলো কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, সে প্রশ্নটা সামনে চলে আসবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার কভিডের পরিপ্রেক্ষিতে পুরনোসহ আরো নতুন নতুন ক্ষেত্রে সংস্কার উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, করোনা মহামারি সামলে নিয়ে এক কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে যাচ্ছে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। এর মধ্যে ৩৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে প্রবাসে। বাকি ৮১ লাখ ৭০ হাজার হবে দেশে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২১ সালে ২১ লাখ ৬০ হাজার, ২০২২ সালে ২২ লাখ ৩০ হাজার, ২০২৩ সালে ২৩ লাখ ৩০ হাজার, ২০২৪ সালে ২৪ লাখ ২০ হাজার এবং ২০২৫ সালে ২৫ লাখ ৩০ হাজার জনের কর্মসংস্থান করা হবে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গত পাঁচ বছরে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ছিল এক কোটি ২৯ লাখ। এর মধ্যে দেশে এক কোটি ৯ লাখ, বিদেশি ২০ লাখ। তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়, জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮.৫১ শতাংশ। কভিড পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আরেক চ্যালেঞ্জ রপ্তানিও বহুমুখী করতে হবে।

চলতি বছরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছিলেন, প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের পর দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব হবে। আমরা আশা করব, এই কভিডকালে কর্মসংস্থানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।