ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে আইনজীবী সনদ প্রদান করুন

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আসন্ন লিখিত পরীক্ষা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা গ্রহণ করে আইনজীবী সনদ প্রদানের দাবি বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি বিবেচনা করে লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ২০১৭ ও ২০২০ সালে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষানবিশদের আইনজীবী সনদ প্রদান করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে জেলা জজের কাছে সনদ প্রার্থীদের মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা দিতে হবে। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই কেবল আইনজীবী হিসেবে বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত হবে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সনদ ও বার কাউন্সিলে নিবন্ধের দাবিতে বাংলাদেশ সম্মিলিত শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরিষদ আয়োজিত ‘মানবিক প্রতীকী অনশন কর্মসূচি’তে এসব কথা বলেন।

সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এ কে মাহমুদের বলেন, প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর করোনা পরিস্থিতির কারণে দ্রুততম সময়ে নিবন্ধন পেতে লিখিত পরীক্ষা বাদ দিয়ে সরাসরি ভাইবা থেকে আইনজীবী হিসেবে এনরোলমেন্টের সুযোগ পেতে আন্দোলন করছেন শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন তাহলেই দ্রুততম সময়ে এসমস্যার সমাধান হবে এবং প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষানবিশদের আইনজীবীর স্বপ্ন পূরন হবে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষানবীশ আইনজীবীদের চলমান আন্দোলনের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। ফলে বৈশ্বিক এই মহামারীকালে মানবিক বিবেচনায় এমসিকিউ উত্তীর্ণদের রিটেন পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি দিয়ে ভাইবার মাধ্যমে আইনজীবী হিসেবে সনদ প্রদান এবং আপীল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী প্রতিবছর আইনজীবী তালিকাভুক্তির পরীক্ষা সম্পন্ন করার বিষয়ে বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নিবেন এই প্রত্যাশা সকলের।

অনশন কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ফজলে বারী স্বরণ, আবু সাদাত, শামিমুর রেজা রনি, মো. জ্বিলক্বদ মোল্লাহ, মো. মিজান, বাহার, তালুকদার মনির, আনোয়ার প্রমুখ।

এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, বৈশ্বিক এই মহামারীর কারণে ভারতে উচ্চ মাধ্যমিকের অবশিষ্ট পরীক্ষা থেকে শিক্ষার্থীদের অব্যাহতি দিয়ে ফলাফল ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে দেশের সরকার। বাংলাদেশে ৩৯ তম বিশেষ বিসিএস-এ শুধুমাত্র এমসিকিউ এবং ভাইবা নিয়ে চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ইতিহাসে দেখা গেছে-জাতির এক সংকট মূহুর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যাদের আইনে বিষয়ে কোন ডিগ্রী ছিল না, কিন্তু দীর্ঘকাল আইন পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকায় তাদের ডিগ্রী ছাড়াই অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় এনে আইনজীবী হিসেবে সনদ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সুতরাং বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবী বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে আশা করি।