ঢাকা, সোমবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ধর্ষিতা হওয়ার শঙ্কায় আত্মহত্যা করা কি জায়েজ?

বর্তমান সমাজে নানা কারণে হতাশ মানুষ নিজেকে নিজে হত্যা করে ফেলে। মহান আল্লাহর দেয়া প্রাণকে নিজের ইচ্ছায় শেষ করা ওই ব্যাক্তির উপর আল্লাহর ক্রোধ অবশ্যাম্ভাবী। তাই দুঃখ-কষ্ট, ব্যথা-বেদনা, অসুস্থতা-হতাশা, শত্রুর আক্রমণ এমনকি সম্ভ্রমহানি, সম্ভ্রমহানির পর লোকলজ্জা ও কঠিন পরিস্থিতির কারণে আত্মহত্যা করা যাবে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু। আর কেউ জুলুম করে, অন্যায়ভাবে তা (আত্মহত্যা) করবে, অবশ্যই আমি তাকে অগ্নিদগ্ধ করবো, আল্লাহর পক্ষে তা সহজসাধ্য।’ (সুরা নিসা : আয়াত ২৯-৩০)

তবে আমাদের দেশে হরহামেশাই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে এবং ধর্ষিতা নানাভাবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছ থেকে কথা দ্বারা ব্যাথিত হয়। একসময় নিজে আর সহ্য না করতে পেরে আত্মহনন পথ বেছে নেন। তবে এমন যদি হয়, কোনো মুসলিম নারী ধারণা বা উপলব্ধি করতে পারে তার শত্রুদের দ্বারা ইজ্জতহানীর শিকার হবে। এবং ওই নারী যদি কোন উপায় না পেয়ে সম্ভ্রম-ইজ্জত রক্ষা করতে আত্মহত্যা করে, সেটি ইসলাম কিভাবে দেখবে? বা এমন পরিস্থিতিতে যদি ওই নারী আত্মহননের পথ বেঁছে নেন, সেটা কি ইসলামে বৈধ হবে?

ইসলামে আত্মহত্যা কবিরা গোনাহ ও জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম কারণ। ধর্ষণ বা ব্যভিচারের শিকার হয়েও যদি কোন নারী আত্মহত্যা করে, সেটাকে ইসলাম সমর্থন করে না। বরং ইসলামের দৃষ্টিতে পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন; কোনো অবস্থাতেই আত্মহত্যা করা জায়েজ নয়।

তবে নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভয়ে নারীর আত্মহত্যা সম্পর্কে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের স্থায়ী ফতোয়া দিয়েছে। তা হলো-
لا يجوز لها أن تقتل نفسها، ولو خافت أن يقع بها ما ذُكر قهرا، وهي معذورة إن حصل ما خافت دون رضاها
অর্থাৎ ‘তার জন্য আত্মহত্যা করা জায়েজ নয়; যদিও তার সঙ্গে জোরপূর্বক উল্লেখিত কিছু ঘটার আশঙ্কা করে। সে যা আশঙ্কা করছিলো তা যদি তার ইচ্ছার বাইরে সংঘটিত হয়; তাহলে সে নির্দোষ বলে গণ্য হবে।’

ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ ও দণ্ডযোগ্য অপরাধ ধর্ষণ ও ব্যভিচার। তবে পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, কোনো অবস্থাতেই ধর্ষণ থেকে বাঁচতে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেয়ার সুযোগ নেই। বরং সর্বশক্তি দিয়ে এ মহামারি ধর্ষণ ও ব্যভিচার থেকে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি।

আত্মহত্যার ভয়ানক পরিণতি সম্পর্কে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করে, সে-ও জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে নিজ হাতে বিষ পান করতে থাকবে। আর যেকোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করে, তার কাছে জাহান্নামে সেই ধারালো অস্ত্র থাকবে, যা দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেট ফুঁড়তে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)